আইএস যোদ্ধাদের শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন যে নারী

আইএস শিশুদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন এক নারী
Image caption আইএস শিশুদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন এক নারী

ইরাকের সরকারি বাহিনী মসুল শহরের নিয়ন্ত্রণ ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের হাত থেকে উদ্ধার করে বিজয় ঘোষণার পর আটমাস কেটে গেছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও কর্তৃপক্ষের হাতে উদ্ধার হচ্ছে এমন সব শিশুরা যারা যুদ্ধের ডামাডোলে হয় পিতামাতা হারিয়েছে, নাহলে পরিত্যক্ত হয়েছে।

আর এইসব শিশুদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন এমন এক নারী যার নিজের জীবনে তছনছ করে দিয়েছে এই জঙ্গি গোষ্ঠী।

আইএস যোদ্ধারা সুকাইনা মুহাম্মাদ আলী ইউনুস-এর জীবন ওলট পালট করে দিয়েছে, কিন্তু আইএস যোদ্ধাদের সন্তানরা যারা যুদ্ধে অনাথ হয়েছে তাদের নির্ভরতার আশ্রয় হয়ে উঠেছেন সুকাইনা নিজে।

আরো পড়ুন:

মসুলের যুদ্ধ চূড়ান্ত পর্যায়ে, আইএসের 'মরণ কামড়'

সিরিয়ায় হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে?

ফিরে দেখা: সিরিয়া যুদ্ধের সাত বছর

পশ্চিমা ক্ষেপনাস্ত্র হামলার পর আসাদ এখন কোথায়?

"আইএস আমার জীবনের সমস্ত কিছু তছনছ করে দিয়েছে। আর এখন আমি তাদের সন্তানদের সাহায্য করছি। "

ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের হামলার পর মসুলে তার বাড়ি ছেড়ে পালান সুকাইনা। এরপর সেখানে নিজেদের দপ্তর বানায় আইএস।

সুকাইনা দেখাচ্ছিলেন তার নিজের বাড়ির দরোজায় আইএস যোদ্ধারা লিখে রেখেছে ''আইএস এর সম্পত্তি, ২০১৪"।

সেই বাড়ির ভেতর বসে তারা বোমা তৈরি করতো এবং দরজার বাইরে উঠোনে তারা কবর খুঁড়েছিল।

এইসব শিশুদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো সরাসরি আইএস যোদ্ধাদের সন্তান।

এখানেই রয়েছে দুই বছর বয়সী জানাত, হাজার-খানেক বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এমন একটি ক্যাম্পে তাকে পাওয়া যায়। পরিবারের আর কারো খোঁজ ছিলনা।

"সে কে, তার কি পরিচয়, কেউ জানতো না। তার চুল ছিল অনেক লম্বা এবং উকুনে ভরা। ফলে তার চুল আমরা কেটে দিতে বাধ্য হয়েছি। তার বাবা-মা হয়তো বিদেশী ছিল, হয়তো তুর্কমেন বা ইয়াজিদি, ঠিক জানিনা। তার চেহারা দেখে মনে হয়না যে সে ইরাকি," বলেন সুকাইনা।

জানাতের মতো এইসব শিশুর ভবিষ্যৎ কি হবে -তা কেউ জানেনা।

"আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যদি কেউ তার খোঁজ-খবর নিতে আসে তো ভালো কথা। কিন্তু তার বাবা মা যদি মারা গিয়ে থাকেন তাহলে কেউ হয়তো আসবে না তার খোঁজে। "

সুকাইনা যেসব শিশুকে লালন পালন করছেন তাদের বাবা মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা হিসেবে সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করছেন। কিন্তু সুকাইনার এই কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকেই খুশি নয়।

"অনেক লোক আমাকে ফোন করে এবং বলে তারা আই-এস এর সন্তান, তাদের ছবি আপনি কেন পোস্ট করছেন? তারা আরও বলে, আইএস আমাদের বাচ্চাদের মেরে ফেলেছে। তুমি এদের কেন লালন-পালন করছো! তুমি তাদের এতিমখানায় ছেড়ে আসো এবং তারপর তাদের পরিবার বুঝুক।"

এমনকি যারা আইএস এর ওপর প্রতিশোধ নিতে চায় তাদের কাছ থেকে হুমকিও পাচ্ছেন সুকাইনা। আবার এখনো অনেকে আছে তারা আইএস এর মতাদর্শে বিশ্বাসী।

"ফেসবুকে আমাকে মেসেজ পাঠিয়ে সরকারের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ করা হয়েছে। তারা বলছে শিগগিরই আমার দিন ফুরিয়ে আসছে।"

এই নারী অবশ্য অত সহজেই ভয় পাচ্ছেন না। তিনি মনে করছেন, তার নিজের এবং এই শিশুদের নিরাপত্তা জরুরি। এখনো পর্যন্ত তার মূল লক্ষ্য এই শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাস খুঁজে বের করা।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবিতে মসুলের আইএস যোদ্ধাদের অজানা জীবন

ফেসবুকে গুজব রটনাকারীদের খুঁজছে পুলিশ

সৌদিতে এবার নারী সাইক্লিং রেইস

প্রাণঘাতী হৃদরোগের জন্য দায়ী 'জিন' সনাক্ত