প্রীতিভাজনেষু: আপনাদের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা

MANJUNATH KIRAN ছবির কপিরাইট MANJUNATH KIRAN

বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।

আপনাদের চিঠিপত্রের আসর প্রীতিভাজনেষু এখন শুধুই অনলাইনে। তাই আপনারা আমাদের কাছে ইমেইল, অনলাইন কিংবা ফেসবুকে যেসব বার্তা অথবা চিঠি পাঠাবেন, সেগুলো এখন থেকে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় যেগুলো শেয়ার করা হবে। আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আপনাদের মতামত, মন্তব্য কিংবা কোন প্রশ্ন থাকলে সেগুলো জবাব দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কারের দাবি নিয়ে যে আন্দোলন চলছিল সে সম্পর্কে আপনারা অনেক মতামত পাঠিয়েছেন। অনেকেই আমাদের তৈরি খবরাখবরের প্রশংসা করেছেন। সেগুলো আর বিশেষভাবে উল্লেখ করলাম না। তবে প্রশংসার পাশাপাশি যেসব অভিযোগ এসেছে তার মধ্য থেকে উল্লেখ করছি।

মোঃ জিল্লুর রহমান, ভোলা:

গত ৮ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক ছাত্র ছাত্রী শাহবাগ ও এর আশেপাশের এলাকায় কোটা সংস্কারের দাবিতে দিনভর বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং সন্ধ্যার পর পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কিন্তু বিবিসি প্রবাহ ও আপনাদের ওয়েব সাইটে খবরটির আপডেট দিতে ব্যর্থ হয়।

আপনি ঠিকই বলেছেন, রোববারের প্রবাহ অনুষ্ঠানে আমরা খবরটা ধরাতে পারিনি। আর যেহেতু পরিক্রমা অনুষ্ঠানটি এখন নেই, তবুও তাই খবরটি জানার পরও তা প্রচার করা হয়নি। একইসঙ্গে ওয়েবসাইটেও খবরটি আসেনি। এটা খুবই দু:খজনক। তবে যেমনটি আপনি উল্লেখ করেছেন পরদিন প্রত্যূষা ও প্রবাহে সংবাদটি শীর্ষ সংবাদ ছিল।

জিয়াউল হক, ফেসবুক পোস্ট:

আজ দুপুর একটার দিকে বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাবি এলাকার বিক্ষোভের যে রিপোর্ট করা হয়েছে সেখানে সর্বশেষ বলা হয়েছে "এসব আন্দোলনের কোন তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি"। আমি বলবো এটা আপনাদের অজ্ঞানতা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের কোটা সংস্কারের পক্ষে সারা বাংলাদেশের সকল পাবলিক ভার্সিটিগুলেোর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ঢাকার বাইরে যেসব আন্দোলন চলছিল আমাদের সংবাদদাতা সেই প্রসঙ্গে কথাটি উল্লেখ করেছেন। ঢাকার বাইরে ঘটা প্রতিটি ঘটনার সত্যতা আমাদের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়না বলেই সংবাদদাতা এভাবে উল্লেখ করেছেন। এর মানে এই নয় যে ঘটনাটি ঘটেনি। ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু আমরা নিরপেক্ষ কোন সূত্র থেকে তার সত্যতা যাচাই করতে পারিনি।

ছবির কপিরাইট OLI SCARFF

রাজিব মিয়া, ফেসবুক পোস্ট:

আমি নিয়মিত বিবিসির সকল খবর এবং অনুষ্ঠান শুনি। কয়েক মাস আগে আমার এই ফেসবুক আইডিটা হ্যাক হয়েছিলো। পরবর্তী কালে আমি আবার সেটা ফেরত আনতে সক্ষম হই। কিন্তু এখন আমি বিবিসির অফিশিয়াল ফেসবুকের আপডেট পাচ্ছি না।

আপনার সমস্যাটা কোথায় তা আমিও বুঝতে পারছি না। খুব সম্ভবত ফেসবুকের অ্যালগোরিদম পরিবর্তনের কারণে এটা ঘটে থাকতে পারে। সম্ভব হলে স্থানীয়ভাবে কারও সাথে কথা বলে দেখুন।

মুকুল সরদার, দাকোপ, খুলনা:

এপ্রিল মাসের ১১ তারিখ প্রত্যুষাতে দিল্লির সংবাদদাতার পাঠানো একটি প্রতিবেদন শুনলাম। হিমাগারে সবজি সংরক্ষণের উপর তৈরি একই প্রতিবেদন ইতিমধ্যেই আরও একবার শোনানো হয়েছে। একদিকে বিবিসি বাংলার জনবল বেড়েছে অন্যদিকে রেডিও অনুষ্ঠান কমেছে তারপর একই প্রতিবেদন বার বার শোনানোর দরকার কেন পড়ে?

আসলে দরকার পড়ে না। যিনি এই রিপোর্টটি তৈরি করেছেন, তিনি বুঝতে পারেননি যে একই ধরনরে আরেকটি রিপোর্ট সপ্তাহ দুয়েক আগেই তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বিষয়টা যাচাই করতে পারেননি। এটা তারই ভুল। তবে আপনাকে জানিয়ে রাখতে পারি যে টেলিভিশন ও অনলাইনে জনবল বাড়ানোর অর্থ এই নয় যে আমরা রেডিওকে গুরুত্বহীন করে ফেলছে। ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়।

নাজিব আহসান রুমি, ফেসবুক পোস্ট:

কিছু দিন আগ পর্যন্তও আমি বিবিসি বাংলার নিয়মিত শ্রোতা ছিলাম। প্রতিদিন সময় করে রা সাড়ে দশটার নিউজ শুনতাম। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ায় বেশ কিছুদিন নিউজ শোনা হয়নি। আজ একই সময়ে এফএম অন করলে ইংরেজি খবর শোনা যাচ্ছিল। বিবিসি কি রাত সাড়ে দশটায় বাংলার পরিবর্তে ইংরেজিতে খবর প্রচার শুরু করেছে?

আপনি বোধহয় একটা গুরুত্বপূর্ণ খবর মিস্ করেছেন। সেটি হলো রাত সাড়ে দশটার অনুষ্ঠান পরিক্রমা প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। সেকারণেই বাংলার পরিবর্তে আপনি বিবিসির ইংরেজি অনুষ্ঠান শুনতে পাচ্ছেন। তবে আপনাকে জানিয়ে রাখি সন্ধ্যের আয়োজন প্রবাহ কিন্তু ঠিক সময়েই প্রচার করা হচ্ছে। সন্ধেবেলায় আপনি ব্যস্ত থাকলে সেই অনুষ্ঠানটি আপনি বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট থেকেও শুনতে পারবেন (ঠিকানা: www.bbcbangla.com )

কামরুজ্জামান সরকার, শংকরপুর তেলীপাড়া, দিনাজপুর

প্রত্যুষা কেনো ফেসবুক লাইভ দেওয়া হবে না? কারণ ইতোমধ্যেই তো প্রবাহ ফেসবুক লাইভে আসার দরুন নতুন প্রজন্মরা উদ্বুদ্ধ হয়ে তা দেখছে এবং বিবিসি বাংলার জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। তাহলে প্রত্যুষা কেন ফেসবুক লাইভ দেয়া হবে না?

আপনার কথায় যুক্তি রয়েছে। প্রবাহ ফেসবুক লাইভে সম্প্রচার করা হলে প্রত্যুষাও ফেসবুক লাইভে আসা উচিত। সম্ভব হলে আমরাও সেটা করতাম। কিছু কারিগরি সমস্যাও রয়েছে। ঢাকায় বিবিসি বাংলা এখন একটি অস্থায়ী অফিস থেকে কাজ করছে। এই অফিসটিতে স্টুডিও এবং অন্যান্য যান্ত্রিক সুবিধে বেশ সীমিত। সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমরা প্রত্যুষা অনুষ্ঠানটির ওপরও ফেসবুক লাইভ হবে বলে আশা করছি।

মোঃ আবুল কালাম, ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় অতি প্রাচীনকাল থেকে আখের রস থেকে হাতে তৈরি হচ্ছে লাল চিনি। লাল চিনির উপর একটি প্রতিবেদন করা হলে চাষিরা উপকৃত হবে।

আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ। লাল চিনির ওপর প্রতিবেদন তৈরির কথাটি আমাদের মনে থাকবে।

মোঃ জুবায়ের রহমান, ঢাকা:

আমি আগে রাজশাহী ছিলাম কিন্তু বর্তমান ঢাকায় থাকি। ঢাকা এফএম-এ বিবিসি বাংলার খবর শুনতে পারছি না। আমি বিবিসির খবর শুনতে চাই।

আপনার সমস্যার ধরণ সম্পর্কে কোন কিছু আঁচ করতে পারছি না। আপনি কোন সময়ে অনুষ্ঠান শোনেন। কিভাবে শোনেন। রেডিও না অনলাইনে, নাকি ফেসবুকে এগুলো লিখে জানালে আপনাকে সাহায্য করা সহজ হবে।

রিয়াজ ওসমানী, লন্ডন:

বাংলাদেশে ছেলে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের ওপর আপনাদের সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনের জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ না দিয়েই পারছি না। বাংলাদেশের সব বাংলা সংবাদমাধ্যম হাওয়া-বাতাস নিয়ে কথা বলতেই পছন্দ করে। সেই কারণে বাংলাদেশের সমাজে এই সব গোপন কিন্তু গভীর বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কথাই বলে না। কেউ সেগুলো নিয়ে তেমন অবগতও না। আর সেই কারণে আপনারা সত্যিই আলোর পথ দেখিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের এই প্রচেষ্টায় এই সব স্পর্শকাতর ব্যাপারগুলো সবার সামনে উঠে আসবে, সবার সচেতনতা বাড়বে।

আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ। আমরা যা করি বিবিসির সম্পাদকীয় নীতিমালার ভিত্তিতেই করি। নারী শিশুদের যৌন নির্যাতন নিয়ে যত প্রচার হয়, পুরুষ শিশুদের যৌন নিপীড়ন নিয়ে কথাবার্তা হয় অনেক কম। সমাজের কোন কোন অংশ তা চেপে রাখতে চায়। এসব বিষয় নিয়ে মুক্ত আলোচনার পথটি খুলে দেয়া হলে তাতে সার্বিকভাবে সমাজের উপকারই হয়। আর সেই তাগিদ থেকেই বিবিসি এসব বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান করে।

এ সপ্তাহে যাদের ইমেইল, ফেসবুক পোস্ট পেয়েছি:

মোঃ সিরাজ উদ্দিন মাষ্টার, সভাপতি, স্মৃতিসৌধ বেতার শ্রোতা ক্লাব,সাভার

আব্দুল কাইয়ুম, পটুয়াখালী

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ

আলী সাজজাদ মাছুম, ঢাকা।

আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা:

ইমেইল: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক: www.facebook.com/BBCBengaliService/

টুইটার: https://twitter.com/bbcbangla