ইংলিশ ফুটবল ফ্যানদের কোরাসে গান গাওয়া কি কমে যাচ্ছে?

ছবির কপিরাইট PAUL ELLIS/Getty Images
Image caption ওল্ড ট্রাফোর্ডে দর্শকদের গান আলাদা করে মনোযোগ কাড়তো।

ইংলিশ ফুটবল দর্শকদের গ্যালারীতে বসে কোরাসে গান জগত জুড়ে বিখ্যাত। কিন্তু তারা নাকি ইদানীং খানিকটা চুপচাপ হয়ে যাচ্ছেন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিজেদের মাঠের দর্শকদের উজ্জীবিত করতে তাদের হাতে গানের কথা সম্বলিত কাগজ ধরিয়ে দেবার কথা চিন্তা করছে।

কিন্তু এমন চিন্তা ইতিমধ্যেই নানা ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। কিন্তু কি সেই বিতর্ক?

ষাটের দশকে একটা সময় ছিল যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে দর্শকদের গান আলাদা করে মনোযোগ কাড়তো।

গর্জন করে গান গাইতে গাইতে পুরো গ্যালারী যেন দুলে উঠত তখন।

সে সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এর গোলকিপার ছিলেন অ্যালেক্স স্টেপনি।

স্বাভাবিক ভাবেই মাঠের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় তিনি দর্শকদের আরো কাছে দাঁড়াতেন।

তিনি বলছেন, "আমি যখন পিছনে ফিরে তাকাতাম তখন দেখতাম আমার পেছনে দর্শকরা রীতিমতো গর্জন করছে। সেকি দৃশ্য। খেলায় জেতার নেশাটাই তখন সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল। দর্শকদের কোরাসে গর্জন চলতো খেলার পাশাপাশি। সে এক দারুণ ব্যাপার।"

কিন্তু সম্প্রতি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যানেজার জোসে মরিনহো বলেছেন ওল্ড ট্রাফোর্ডের মাঠ যেন অনেক শান্ত হয়ে গেছে।

ম্যান ইউ ফ্যানদের গলার সেই জোরালো স্বর যেন আর আগের মতো নেই।

এরপরই গ্যালারীর দর্শকদের উজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ম্যান ইউ।

তার অংশ হিসেবে ইংলিশ ফুটবলের মাঠে জনপ্রিয় গানগুলোকে কাগজে লিখে গ্যালারীর দর্শকদের ধরিয়ে দেয়ার চিন্তা করছে তারা।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption জোসে মরিনহো বলেছেন ওল্ড ট্রাফোর্ডের মাঠ যেন অনেক শান্ত হয়ে গেছে।

কিন্তু ম্যান ইউ দর্শকদের সংগঠনের সদস্য ইয়ান স্টারলিং বলছেন তিনি তার দলের চরম ভক্ত হলেও এই প্রস্তাব তার পছন্দ নয়।

তিনি বলছেন, "প্রথম কথা হল মাঠে কি হচ্ছে মনোযোগ সেদিকেই থাকা উচিত। দর্শকরা এমনিতেই তার দলের প্রতি একাত্মতা বোধ করে। গান ধরিয়ে দিলেই যে সেটা আরো বেড়ে যাবে এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। গানের কাগজ ধরিয়ে দেয়ার বুদ্ধিটা একদম উদ্ভট একটা ব্যাপার"

কিন্তু ইংলিশ ফুটবলের অন্য বড় দলগুলোর তুলনায় ম্যান ইউ ফ্যানদের উচ্ছ্বাস আর আবেগ নাকি একটু বেশি কমে গেছে।

দলের অ্যানথেম গাওয়ার এই সংস্কৃতির শুরু ষাটের দশকে লিভারপুলের ভক্তরা গেয়েছিলেন 'ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন গানটি'।

সেখান থেকেই নাকি মাঠে চিৎকার করে গান গাওয়ার রেওয়াজের শুরু।

সেই রেওয়াজ এখন কমে গিয়ে পৌঁছেছে বড়জোর তালি থেকে দর্শকদের গুনগুন শব্দে। ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক গ্যারি আর্মস্ট্রং।

তিনি বলছেন, "আগে এখনকার মতো প্রতি রাতেই ফুটবল ম্যাচ থাকতো না। সপ্তাহে বড়োজোর একটা। তখন মাঠে গিয়ে খেলা দেখা ছিল এক বিরাট ব্যাপার। সেসময় সারা ম্যাচ জুড়েই গান চলতো। একটা বিশেষ উপলক্ষ হলে যেমনটা হয় তেমন একটা ব্যাপার ছিল"

তার মানে কি অনেক বেশী ম্যাচ দেখে ফ্যানদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে?

অধ্যাপক আর্মস্ট্রং বলছিলেন এখনকার তরুণ প্রজন্ম, তাদের বাবা মায়ের প্রজন্মের অনুসরণ নয় বরং তারা তাদের নিজেদের মতো করে ফুটবল সংস্কৃতি গড়ে তুলছে।

কিন্তু এই পুরো বিতর্কের মধ্যে চলে এসেছে দর্শকদের নিরাপত্তার ইস্যু।

নিরাপত্তার জন্য দর্শকরা দাড়িয়ে খেলা দেখবেন নাকি সিটে বসে সেটিও এই বিতর্কের অংশ।

ইয়ান স্টারলিং বলছেন বসে গান গাওয়ার থেকে দাড়িয়ে গান গাওয়াতেই অনেক মজা।

তিনি বলছেন, "ধরুন চার্চে একটা ধর্মীয় সভাকে কিন্তু দাড়াতেই বলা হয়। তারা দাড়িয়ে গান করেন। পুরো জিনিসটার সাথে মাঠের পরিবেশের একটা সম্পর্ক আছে।"

তাছাড়া ফুটবলের গানগুলোর সাথে সম্পর্ক রয়েছে ফুটবল হুলিগানিজমের।

ইংলিশরা ফুটবলকে কেন্দ্র করে মারামারির জন্যেও বিখ্যাত।

তাহলে দর্শকদের উজ্জীবিত করতে আর কি করা যায়? ফুটবলের মাঠে চিয়ারলিডার আনলে কেমন হয়?

এই প্রস্তাবকে অবশ্য রীতিমতো নাকচ করে দিচ্ছেন সবাই।

তাদের ভাষ্য চিয়ারলিডারদের আমেরিকান খেলার মাঠেই মানায় ব্রিটিশ মাঠে নয়।

সম্পর্কিত বিষয়