রাশিয়ার সাইবার যুদ্ধের আশঙ্কায় তটস্থ ব্রিটেন

ছবির কপিরাইট Mirror
Image caption ডেইলি মিররের প্রথম পাতায় সাইবার যুদ্ধের আশঙ্কার খবর

টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেল এবং মিরর সহ ব্রিটেনের অনেকগুলো শীর্ষ দৈনিকে সোমবারের প্রধান খবর রাশিয়ার সাইবার যুদ্ধ নিয়ে আতঙ্ক।

লন্ডনের টেলিগ্রাফের আজকের ব্যানার - 'ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে রাশিয়া'। উচ্চপদস্থ সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে টেলিগ্রাফ লিখছে শনিবার সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে ক্রেমলিনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বেনামি সোশ্যাল মিডিয়া এ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইনে 'ভুয়া খবরের'র সরবরাহ ২০ গুন বেড়ে গেছে।

"ব্রিটিশ গোয়েন্দারা এগুলোকে সর্বাত্মক সাইবার যুদ্ধের আলামত হিসাবে বিবেচনা করছেন।"

ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকা লিখছে - ব্রিটিশ গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন বিমানবন্দর, রেলর নেটওয়ার্ক , হাসপাতাল, পানি-বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ সাইবার হামলার প্রধান টার্গেট হতে পারে।

ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইকেল ক্লার্ককে উদ্ধৃত করে ডেইল মিরর পত্রিকা বলছে - "বদলা নিতে রাশিয়া সামরিক পথ নেবে বলে মনে হয়না, কিন্তু সাইবার যুদ্ধের পথ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। আগামী দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে এটা চোখে পড়তে পারে।"

অধ্যাপক ক্লার্ক বলেন- "এই সাইবার হামলার শিকার সবাই হতে পারে। বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে। পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।"

"সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা হলো মাঝ আকাশে ব্রিটিশ কোনো বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা।"

গত মাসে ব্রিটেনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল স্যার ক্রিস ডেভরেল হুঁশিয়ার করেছিলেন - বিমানবন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পঙ্গু করে দেওয়ার ক্ষমতা রাশিয়া অর্জন করেছে।

ছবির কপিরাইট Telegraph
Image caption ডেইলি টেলিগ্রাফের ব্যানার - ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ

টার্গেট মন্ত্রী এমপি?

ডেইলি মেল পত্রিকা ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র উল্লেখ করে বলছে - ব্রিটিশ এমপি, মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি লোকজনের বিরুদ্ধে "বিব্রতকর" তথ্য ছড়ানো নিয়ে সরকারের ভেতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন রোববার বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে সাইবার যুদ্ধের হুমকির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও বলছে, রাশিয়া থেকে অনলাইনে উস্কানিমুলক 'মিথ্যা প্রচারণা' গত দুদিনে ২০০০ গুন বেড়ে গেছে।