ধর্ষণ-বিরোধী কার্টুনে কী এঁকেছেন ভারতীয় সাংবাদিক

স্বাতী ভাদলামুদির কার্টুন ছবির কপিরাইট SWATI VADLAMUDI
Image caption স্বাতী ভাদলামুদির কার্টুন

ভারতে সম্প্রতি বহুল আলোচিত দুটি ধর্ষণের ঘটনা এবং এই দুটি ঘটনাতেই অভিযুক্তদের বাঁচাতে হিন্দুত্ববাদীদের সমর্থন - এ নিয়ে সারা দেশেই যখন কথাবার্তা চলছে, তখন একটি ব্যঙ্গচিত্র এঁকে হুমকির মুখে পড়েছেন এক নারী সাংবাদিক-কার্টুনিস্ট।

স্বাতী ভাদলামুদির ওই কার্টুনে দেখা যাচ্ছে হিন্দুদের দেবতা রাম এবং তার স্ত্রী সীতা কথা বলছেন। সীতার হাতে একটি সংবাদপত্র।

ভারত শাসিত জম্মু কাশ্মীরের কাঠুয়াতে যে আট বছরের কন্যা-শুটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে এবং উত্তর প্রদেশের এক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে যে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে - এই দুটি ঘটনার সংবাদই ছাপা হয়েছে সীতার হাতে থাকা খবরের কাগজে।

আর রামের দিকে তাকিয়ে সীতা বলছেন, "ভাগ্যিস আমাকে রাবণ অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল - তোমার ভক্তরা নয়!"

হিন্দুত্ববাদী দলগুলি নিজেদের রামভক্ত বলে পরিচয় দিয়ে থাকে এবং জম্মু ও উত্তর প্রদেশ - দুটি ক্ষেত্রেই মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো - এমনটাই অভিযোগ।

ওই কার্টুনটি কয়েক হাজার মানুষ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। কিন্তু যেভাবে মহাকাব্য রামায়ণে বর্ণিত একটি ঘটনার উল্লেখ করে রামচন্দ্র এবং সীতার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে কার্টুনটিতে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

মিজ. ভাদলামুদি পেশায় সাংবাদিক হলেও শখের কার্টুনিস্ট।

তিনি বিবিসির তেলুগু বিভাগকে জানিয়েছেন, যে দুটি ধর্ষণের ঘটনা সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে শিরোনাম হয়ে উঠেছে, তার প্রতিবাদ জানাতেই তিনি ওই কার্টুনটি এঁকেছেন।

"দুটি ঘটনাতেই ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, হয় তাদের এক নেতার বিরুদ্ধেই ধর্ষণের অভিযোগ উঠছে, নয়তো অভিযুক্তদের আড়াল করছে তাদের দলেরই নেতারা। ধর্ষণে অভিযুক্তদের যারা আড়াল করছে, তারাই আবার নিজেদের রামের ভক্ত বলে দাবী করে," বলছিলেন মিজ ভাদলামুদি।

আরো পড়তে পারেন:

সুদানের যে গ্রাম চালাতো ইসরায়েলি মোসাদ এজেন্টরা

যে কলার দাম এক লাখ টাকা

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দুর্ভাবনায় ভারত?

ছবির কপিরাইট SWATHI VADLAMUDI
Image caption সাংবাদিক ও কার্টুনিস্ট স্বাতী ভাদলামুদি

ঘটনাদুটি তাকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল, যে তার মাথায় আসে যে রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতা এই নিয়ে কী বলতে পারেন তার স্বামীর কাছে!

তবে কার্টুনটি প্রকাশিত হওয়ার পরে অনলাইনে তাকে বহু মানুষ হুমকি দিয়েছেন, কেউ তাকে গ্রেপ্তারেরও দাবী করেছেন।

হুমকিতে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে গত বছর একজন নারী সাংবাদিক খুন হয়ে গিয়েছিলেন হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করার জন্য।

তারা গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করে আসলে মিজ. ভাদলামুদিকেও হত্যার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

"রাতের ঘুম উড়ে গেছে ওইসব হুমকি পেয়ে। আমার পরিবারও আমার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত," বলছিলেন মিজ ভাদলামুদি।

তবে এইসব হুমকির পরে এখন তার মনে হচ্ছে যে তিনি সঠিক পথেই আছেন।

অন্যদিকে একটি দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠী পুলিশের কাছে মিজ ভাদলামুদির ওই কার্টুনের বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে যে তিনি হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দিয়েছেন।

তবে মিজ. ভাদলামুদির পাশে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি নারী সংগঠন ও ইন্ডিয়ান জার্নালিস্টস ইউনিয়ন বা আই জে ইউ।

সাংবাদিকদের জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন এই হুমকি ও পুলিশে অভিযোগ দায়ের করাকে সংবাদমাধ্যমের ওপরে হামলা বলে বর্ণনা করেছে।

যেসব ভারতীয় সাংবাদিক হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন বা মুখ খুলেছেন, তাদের নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বিশেষত নারী সাংবাদিকদের অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণ করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস-এর সমীক্ষা অনুযায়ী ১৯৯২ সাল থেকে অন্তত ২৭ জন ভারতীয় সাংবাদিক খুন হয়েছেন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে।