ভারতে প্রধান বিচারপতিকে সংসদীয় বিচারে অপসারনের প্রস্তাব

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট

ভারতে প্রধান বিচারপতিকে সংসদীয় বিচারের মাধ্যমে অপসারন চেয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাজ্যসভায় একটি প্রস্তাব পেশ করেছে।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি অসদাচরণেরও অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংসদের উচ্চ-কক্ষে দেওয়া এই পিটিশনে সাতটি রাজনৈতিক দলের ৬৪ জন এমপি সই করেছেন। রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনতে গেলে নূন্যতম ৫০ জন এমপির সই লাগে, তবে লোকসভায় ওই একই প্রস্তাব আনতে হলে ১০০ জন সংসদ সদস্যকে সই করতে হয়।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এর আগে ভারতে কখনও ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হয় নি। সেদিক থেকে এটি একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। যদিও অতীতে বেশ কয়েকজন বিচারপতিকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু তারা ওইসব প্রস্তাব পাশ হওয়ার আগেই ইস্তফা দিয়েছেন।

মি. মিশ্রের বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, কোন মামলা কোন বেঞ্চে যাবে সেটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি স্বেচ্ছাচার করেছেন।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে বিচারপতি হওয়ার আগে তিনি যখন উড়িষ্যা হাইকোর্টে আইনজীবী ছিলেন, সেই সময়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি জমি নিয়েছিলেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption লোকসভায় নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি ও তার মিত্র দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও উচ্চ-কক্ষে সেটা নেই।

গত জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টের চারজন প্রবীনতম বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ আনার পর তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সেটিও ছিল ভারতের বিচারব্যবস্থায় একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। ভারতের বিচারপতিরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন না।

আরো পড়তে পারেন:

চাকরিপ্রার্থীদের ‘ফার্স্ট টার্গেট বিসিএস’ কেন?

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বটগাছ স্যালাইন দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা

মার্কিন সেনেটের ফ্লোরে দশ দিনের শিশু, ইতিহাস সৃষ্টি মায়ের

ভারতে নিখোঁজের ৪০ বছর পর স্বজনের কাছে ফেরালো ইউটিউব ভিডিও

'বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকলে সম্পর্ক খারাপ হবে'

ওই চার বিচারপতি মি. মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে কোন মামলার বিচার কোন বেঞ্চে করা হবে সেটি ঠিক করতে গিয়ে তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।

মি. মিশ্র ভারতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন গত অগাস্ট মাসে। আগামী অক্টোবরে তার অবসরে যাওয়ার কথা। ভারতে প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৫ হলে তার অবসর নেওয়া বাধ্যতামূলক।

ইমপিচমেন্টের ব্যাপারে মি. মিশ্রের অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে এবিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করবেন না।

যেসব এমপি পিটিশনে সই করেছেন তারা বিরোধী কংগ্রেস পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া এবং উত্তর প্রদেশের প্রভাবশালী দল সমাজবাদী পার্টিসহ আরো চারটি রাজনৈতিক দলের সদস্য।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ভারতের সর্বোচ্চ আদালতকে ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধছে অনেক দিন ধরে

এখন এই পিটিশনের উপর আলোচনা হবে কিনা সেবিষয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু, যিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারেও সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন, সিদ্ধান্ত নেবেন।

কংগ্রেস পার্টির একজন নেতা কপিল সিবাল বলেছেন, "আমরা আশা করছি বিচারপতিরা তাদের যেসব ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সেগুলো দেখা হবে। তাদের বিবৃতির তিন মাস পরেও প্রধান বিচারপতি যেহেতু বিচার বিভাগে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেন নি সেকারণে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এটা করা আমাদের দায়িত্ব।"

"গণতন্ত্র ততক্ষণ কাজ করবে যতক্ষণ আমরা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের হাত থেকে মুক্ত রাখতে পারবো," বলেন তিনি।

ভারতীয় সংবিধান অনুসারে সংসদের দুটো কক্ষে অনুমোদনের পরেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে ইমপিচ করা সম্ভব। তবে অপসারণের চূড়ান্ত নির্দেশ দেবেন প্রেসিডেন্ট।

রাজ্যসভা ও লোকসভা - সংসদের এই দুটো কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন লাগবে।

লোকসভায় নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি ও তার মিত্র দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও উচ্চ-কক্ষে সেটা নেই।

ফলে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন অনেকে।

সম্পর্কিত বিষয়