ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম কিনতে আগ্রহী কে এই শাহিদ খান?

ছবির কপিরাইট Catherine Ivill
Image caption ওয়েম্বলি

ফুটবলের অন্যতম বিখ্যাত স্টেডিয়াম লন্ডনের ওয়েম্বলি-কে ৯০ কোটি পাউন্ড দামে কিনে নেবার প্রস্তাব দিয়ে হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছেন পাকিস্তানি-আমেরিকান ব্যবসায়ী শাহিদ খান।

অবশ্য এই প্রস্তাব এখনো গ্রহণ করে নি ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এফএ, এবং কোন চুক্তিও হয় নি।

শাহিদ খান বলছেন, আট সপ্তাহের মধ্যেই এ চুক্তি করা সম্ভব এবং তাহলে এখানে ফুটবল ছাড়াও আমেরিকান ফুটবল খেলা হতে পারবে। ওয়েম্বলিতে ২০০৭ সাল থেকেই এনএফএলের কিছু খেলা হচ্ছে।

কিন্তু কে এই শাহিদ খান?

তিনি একজন কোটিপতি ব্যবসায়ী - যার মোট সম্পদের পরিমাণ ৭২০ কোটি ডলার এবং ফর্বস ম্যাগাজিনের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী বিশেষ শীর্ষ ধনীদের মধ্যে তিনি ২১৭তম।

অবশ্য ইংলিশ ফুটবলে শাহিদ খান এখন আর ততটা অপরিচিত নন।

ছবির কপিরাইট Jamie McDonald
Image caption শাহিদ খান

কারণ তিনি ২০১৩ সাল থেকে ফুলহ্যাম ফুটবল ক্লাবের মালিক। এই ফুলহ্যাম ক্লাব কয়েক বছর আগেও প্রিমিয়ার লিগে খেলতো - এখন অবশ্য তারা রেলিগেটেড হয়ে নেমে গেছে এর নিচের স্তরে - যেটাকে বলে চ্যাম্পিয়নশিপ। তবে এ বছর তারা হয়তো প্রিমিয়ার লিগে প্রমোশন পেতে পারে - এমন সম্ভাবনা রয়েছে।

শাহিদ খানের জন্ম পাকিস্তানের লাহোরে। তিনি ১৯৬৮ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আমেরিকা গিয়েছিলেন।

সেখানে তিনি প্লেট ধোয়ার কাজ করে পড়ার খরচ যুগিয়েছেন - তার আয় হতো প্রতি ঘন্টায় ১ ডলার ২০ সেন্ট করে। এর পর তিনি গাড়ি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন এবং ১৯৭৮ সালে গাড়ির বাম্পার তৈরির কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

সেখান থেকেই তার সাফল্যের শুরু। ২০১২ সালে এক হিসেবে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্রে দু-তৃতীয়াংশ গাড়ির বাম্পারই এখন তৈরি হয় শাহিদ খানের কারখানায়।

পরে তিনি আমেরিকান ফুটবল দল জ্যাকসনভিল জাগুয়ার্সের মালিক হন ২০১২ সালে।

তিনিই প্রথম জাতিগত সংখ্যালঘু আমেরিকান হিসেবে একটি ফুটবল ক্লাবের মালিক হন - যা তিনি কিনেছিলেন ৭৬ কোটি ডলারে ।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব: নেপথ্যে কী?

দুই কোরিয়ার ঐতিহাসিক বৈঠক: কৃতিত্ব কি ট্রাম্পের?

উত্তর কোরিয়া কেন পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে?

কোরিয়া যুদ্ধে '২১ দিনে মারা যাবে ২০ লাখ লোক'

ছবির কপিরাইট Daniel L Smith
Image caption ওয়েম্বলির ধারণক্ষমতা ৯০ হাজার

পরের বছর তিনি ইংলিশ ফুটবল ক্লাব ফুলহ্যাম কিনে নেন মিশরীয় ধনী মোহাম্মদ আল-ফায়েদের কাছ থেকে।

তবে এত টাকার মালিক হলেও তিনি আমেরিকায় বৈষম্যের হাত থেকে রেহাই পান নি।

১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর শাহিদ খানকে ব্যবসায়িক সফরের সময় বহুবার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থামিয়েছে।

একবার কানাডা যাবার সময় তাকে ৬ ঘন্টার জন্য জেলেও কাটাতে হয়েছিল।

ছবির কপিরাইট Catherine Ivill
Image caption ফুলহ্যাম ফুটবল ক্লাব

পাকানো গোঁফধারী ৬৮ বছর বয়স্ক শাহিদ খান এখন হয়ে যেতে পারেন ফুটবলের অন্যতম নামী স্টেডিয়াম ওয়েম্বলির মালিক।

ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্যগত 'হোম' হচ্ছে এই ওয়েম্বলি।

বছর দশেক আগে পুরোনো ওয়েম্বলি ভেঙে পুননির্মাণ করা হয় এবং এখন এটি ৯০ হাজার আসনের অত্যাধুনিক এক স্টেডিয়াম।

এই স্টেডিয়াম একজন আমেরিকান ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির খবরকে সবাই যে স্বাগত জানিয়েছেন তা নয়।

এর পক্ষে বিপক্ষে এখন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।