রংপুরে করতোয়া নদীর নীচে পাওয়া যানটি কি একাত্তরের ট্যাংক?

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় করতোয় নদীর নীচে একটি সাঁজোয়া যানের মতো বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে। ছবির কপিরাইট গোলাম কবির বিলু
Image caption রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় করতোয় নদীর নীচে একটি সাঁজোয়া যানের মতো বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় করতোয় নদীর নীচে একটি সাঁজোয়া যানের মতো বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে। শুক্রবার কাঁচদহ ঘাটের কাছে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় যানটির দেখা মেলে।

খবর পেয়ে পীরগঞ্জের সহকারী ভূমি কমিশনার নাশিদ কায়সার রিয়াদ, জেলা চেয়ারম্যান এনামুল হাদিত, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, টুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতায়ুর রহমান, পীরগঞ্জ থানার ওসি হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

উদ্ধার না করা পর্যন্ত এটি ট্যাংক কিনা, তা বলা যাচ্ছে না বলে জানান পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, যদি এটি ট্যাংক হয়েও থাকে তাহলে সেটা কতোটুকু অক্ষত আছে সে বিষয়ে কোন ধারণা পাওয়া যায়নি।

তবে, পীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ডার আব্দুস সাত্তার এবং এলাকার অন্যান্য প্রবীণদের মতে, এটি ১৯৭১ সালে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর ব্যবহৃত ট্যাংক।

আরো পড়ুন:

দুই দশকে কেমন ছিলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পথচলা?

আত্মসমর্পণের আগে পাকিস্তানী সেনাদের মুহূর্তগুলো

তারা জানান, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতীয় মিত্র বাহিনীর ৯টি ট্যাংকের একটি বহর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা হয়ে পীরগঞ্জে প্রবেশ করছিলো। করতোয়া নদী পার হওয়ার সময় একটি ট্যাংক টুকুরিয়া ইউনিয়নের দুধিয়াবাড়ী চরে প্রবল স্রোত ও চোরাবালির কারণে বালুর চরে আটকে যায়।

ছবির কপিরাইট গোলাম কবির বিলু
Image caption শুক্রবার ট্যাংক সদৃশ ওই বস্তুর ব্যাপারে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সে সময় টানা তিন দিন চেষ্টা করেও সেটি তুলতে না পেরে মিত্রবাহিনীর সদস্যরা ওই ট্যাংকটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেই পীরগঞ্জে প্রবেশ করে। ৬ ডিসেম্বর পীরগঞ্জ হানাদার মুক্ত হলেও ট্যাংকটি উদ্ধারের আর কোন চেষ্টা করা হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনেক ভারতীয় সেনা প্রাণ হারান।

তবে ভারতীয় সেনারা ট্যাংকটি উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ার পর যানটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গিয়েছিলো বলে জানা গেছে।

শুক্রবার ট্যাংক সদৃশ ওই বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা-ডিজিএফআই এবং সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা শিগগিরই এটি নদী থেকে উদ্ধারের সব ধরণের ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

যদি এটি আসলেই মুক্তিযুদ্ধকালীন ট্যাংক হয় তবে এটি সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তারা।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

জাপানের সুমো কুস্তিতে নারীরা নিষিদ্ধ কেন

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ভয়াল সে রাতের কথা

বাসের চাপায় পা হারানো রোজিনা আর নেই