ইউটিউব দেখে হোটেল কক্ষে সন্তান প্রসব করলেন তরুণী

সন্তান কোলে টিয়া ফ্রিম্যান ছবির কপিরাইট TIA FREEMAN
Image caption সন্তান কোলে টিয়া ফ্রিম্যান

সদ্য মা হওয়া একজন তরুণী দাবি করেছেন, ইউটিউব দেখে দেখে তিনি নিজের সন্তান প্রসব করেছেন, কারণ সে সময়ে হোটেল কক্ষে তার সঙ্গে আর কেউ ছিল না।

মা ও শিশু, দুজনেই সুস্থ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলের বাসিন্দা টিয়া ফ্রিম্যান নামের ওই মা বেশ কয়েকটি টুইটের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের এই তথ্য জানান। তিনি বলছেন, সে সময় তিনি যেন 'অটো পাইলট' হয়ে গিয়েছিলেন।

প্রসব বেদনা উঠলেও তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন, তার হয়তো ফুড পয়জনিং বা পেট খারাপ হয়েছে।

আরও পড়ুন আগামী ২৪ ঘন্টায় আরও ঝড়ের পূর্বাভাস

বাংলাদেশে বজ্রপাত কখন কোথায় বেশি হচ্ছে?

মধ্য জানুয়ারিতে গর্ভধারণের বিষয়টি বুঝতে পারেন ২২ বছরের টিয়া ফ্রিম্যান। কিন্তু তার ধারণা ছিল না যে, এত তাড়াতাড়ি সন্তানের জন্ম হতে পারে।

প্রথম যখন তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি মা হতে চলেছেন, সেই সময় সম্পর্কে টিয়া বলছেন, আমার ওজন মাত্র পাঁচ কেজি বেড়েছিল, তাই সেটা দেখে বোঝার কোন উপায় ছিল না যে, আমার পেটে সন্তান এসেছে। আর ভেবেছিলাম অনেকদিন ব্যায়ামাগারে যাওয়া হয়না।

কিন্তু গর্ভধারণের অন্যসব লক্ষণ দেখা দেয়ায় তিনি পরীক্ষা করালে বুঝতে পারেন যে, মা হতে চলেছেন। কিন্তু এই তথ্য জানার পরেও তিনি সেটি কাউকে জানান নি।

বরং তিনি জার্মানিতে একটি সফরে যান। কিন্তু ১৪ ঘণ্টার সফরে সব কিছু পাল্টে যায়।

পেটে ব্যথা হওয়ার পর প্রথমে টিয়া ভেবেছিলেন, তার হয়তো খাবার খেয়ে পেট খারাপ হয়েছে। কিন্তু ট্রানজিট হিসাবে তুরস্কে নামার পর থেকে তার বমিও হতে শুরু করে। তখন তিনি গুগলে সার্চ করে লক্ষণগুলো দেখে বুঝতে পারেন যে, তার প্রসব বেদনা শুরু হয়েছে।

ছবির কপিরাইট TIA FREEMAN
Image caption তুরস্কের একটি হোটেলে ওঠার পর তিনি বুঝতে পারছিলেন না, ঠিক কি করা উচিত

তুরস্কের একটি হোটেলে ওঠার পর তিনি বুঝতে পারছিলেন না, ঠিক কি করা উচিত।

তিনি বলছেন, হোটেল রুমে বসে বুঝতে পারছিলাম যে, আমার প্রসব বেদনা উঠেছে। কিন্তু আমি অন্য একটি দেশে আছি, যেখানে কেউ ইংরেজি বলে না, এখানকার জরুরী নম্বরও জানি না। আমি জানি না কি করা উচিত।

তারপরে তিনি চিকিৎসককে না ডেকে বরং ইউটিউবের সাহায্য নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

হোটেল রুমের বাথটাবটি গরম পানি দিয়ে ভর্তি করে নেন, কয়েকটি টাওয়েল কাছে নেন এবং ইন্টারনেট দেখে প্রসবের উপযোগীভাবে বাথটাবে বসেন।

এরপর তিনি পেটে চাপ দিতে শুরু করেন। টিয়া বলছেন, আমি জীবনে আর কখনো কোন কিছুতে এতো ব্যথা অনুভব করিনি। কিন্তু আমার সন্তানের জন্ম খুব তাড়াতাড়িই হয়ে যায়।

এরপর শিশুর সঙ্গে লেগে থাকা অ্যাম্বিলিক্যাল কর্ডটি তিনি নিজেই কেটে ফেলেন। এরপর জুতার ফিতা দিয়ে সেটি আটকে দেন। অবশ্য তার আগে ফিতাটি তিনি গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিয়েছেন।

টিয়া বলছেন, সব হোটেল রুমেই গরম পানির বৈদ্যুতিক কেটলি থাকে। আমি তাকে পানি গরম করে আগে ফিতাটি জীবাণুমুক্ত করে নিয়েছি। এরপর সেটি একটি ক্লাম্পের মতো ব্যবহার করেছি।

ছবির কপিরাইট TIA FREEMAN
Image caption জেভিয়েরের বয়স এখন একমাস

তিনি তার ছেলের নাম রেখেছেন জাভিয়ের।

পরদিন যখন সদ্য জন্ম নেয়া শিশুকে নিয়ে তিনি পরবর্তী ফ্লাইট ধরতে যান, তখন বিমানবন্দরের কর্মীরা চমকে যায়।

''তারা ভেবেছিল আমি মানব পাচারকারী, যে একটি শিশুকে পাচার করার চেষ্টা করছে।''

কিন্তু তিনি তা নন, এটা প্রমাণিত হওয়ার পর টার্কিশ এয়ারলাইন্স টিয়া ফ্রিম্যানকে ইস্তানবুলের একটি হোটেলে দুই সপ্তাহ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করে। সেখান তার মেডিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়েছে।

জেভিয়েরের বয়স এখন একমাস। সে আর তার মা, দুজনেই পুরোপুরি সুস্থ।

সম্পর্কিত বিষয়