'কোঁকড়া চুলের জন্য দেশও ছেড়েছিলাম'

মিশর ছবির কপিরাইট THE HAIR ADDICT
Image caption মিশরে অনেক নারীরই কোঁকড়া চুল দেখা যায়

মিশরের তরুণী এমান এল দিব দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ২০১৬ সালে। কিন্তু এটি উচ্চশিক্ষা, কাজ কিংবা পার্টনারের জন্য নয়, এর কারণ ছিলো তার কোঁকড়া চুল।

২৬ বছর বয়সী এই তরুণীর মাথা ভর্তি ছিলো কোঁকড়া চুলে, স্পেনে যে চুলের বেশ সমাদর।

এমান এল দিব এখন বসবাস করছেন সেখানেই।

" দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ছিলো আমার জন্য খুবই কষ্টের। কখনোই ভাবিনি যে আমি একজন অভিবাসী হবো। কিন্তু আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমি এমন কোথাও গিয়ে বাস করতে চাইছিলাম যেখানে আমি দেখতে কেমন সেটি অন্য কারও মাথাব্যথার কারণ হবেনা"।

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে কোঁকড়া চুলের কারণে তাকে বেশ গঞ্জনা সইতে হয়েছে তখন।

এমান বলছেন এমনকি বন্ধুদের কাছেও হাস্যকর মনে হচ্ছিলো নিজেকে।

"প্রথম কয়েকমাস একটি মিশরীয় ব্যাংকে চাকুরী করেছিলাম। তখন প্রায় প্রতিদিনই মানবসম্পদ বিভাগ থেকে আমাকে বলা হলো যে চুলগুলো সোজা করো"।

হয়তো এমানের সিদ্ধান্তটি অনেক বেশি কঠিন বলে মনে হচ্ছে কিন্তু মিশরে অনেক নারীকেই এ সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।

ছবির কপিরাইট EMAN EL-DEEB
Image caption এমান এল দিব

যদিও মিশরে বেশিরভাগই নারীর কোঁকড়া চুলই প্রকৃতি প্রদত্ত।

যদিও অল্প বয়স থেকেই 'সমাজের চোখে সুন্দর' দেখানোর জন্য এ চুল সোজা করাতে জোর করা হয়।

চুলের জন ফেসবুক গ্রুপ

২০১৬ সালে একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি হয় যার উদ্দেশ্যই ছিলো নারীদের প্রকৃত প্রদত্ত চুলের যত্নে সহায়তা করা এবং গ্রুপটি শুরু থেকেই ব্যাপক সাড়া পেতে শুরু করে।

দ্যা হেয়ার অ্যাডিক্ট গ্রুপে এখন আছেন এক লাখেরও বেশি নারী সদস্য।

গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা দোয়া গ্যাউইশ নিজেও চুলের জন্য অনেক ভুগেছেন।

"আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার চুল নিয়ে রীতিমত হাসিতামাশা করা হতো। তাই সবসময় সোজা করে রাখতাম"।

তবে এখন চুল নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে অনেক।

৩২ বছর বয়সী নোরা আমর বলছেন মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন আর এখন বরং কোঁকড়া চুলের সংস্কৃতিও ফিরে আসছে।

তার মতে এটি আসলে সম্ভব হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

ছবির কপিরাইট DOAA GAWISH
Image caption নিজের কন্যার সাথে হেয়ার অ্যাডিক্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা

ফলশ্রুতিতে কোঁকড়া চুলের স্যালুনও যাত্রা শুরু করেছে প্রথম বারের মতো এবং বিষয়টি ক্রমশ জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে ব্যাপক।

যা টের পাচ্ছেন এমান এল দিব নিজেও।

"এ বছর এপ্রিলে যখন মিশরে বেড়াতে আসলাম তখন ট্যাক্সি ড্রাইভার বলছিলো যে তোমার চুলগুলো খুব সুন্দর। চূল নিয়ে মিশরে এটাই প্রথম কোন ইতিবাচক মন্তব্য শুনলাম আমি"।

মাদ্রাসার পাঠ্যবইয়ে কেন পরিবর্তন আনা হচ্ছে

হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে বৌদ্ধ হলেন কয়েকশ দলিত

সম্পর্কিত বিষয়