ভারতের বদলে চীনকে কেন চায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

সাংহাই স্টক মার্কেট ছবির কপিরাইট JOHANNES EISELE
Image caption সাংহাই স্টক মার্কেট

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ( ডিএসই) আজ (সোমবার) আবারো জানিয়ে দিল যে তারা তাদের স্ট্রাটেজিক সহযোগী হিসাবে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জর চাইতে চীনের সাংহাই এবং শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জকেই চায়।

বিশেষ সাধারণ সভায় সদস্যদের একশ ভাগই মত দিয়েছে তারা ডিএসই'র ২৫ ভাগ মালিকানা সাংহাই এবং শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের কাছেই বিক্রি করবে।

ডিএসই'র সিনিয়র সদস্য এবং সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী বিবিসিকে বলেন, "আজকের (সোমবারের) সভায় একশত এক ভাগ সদস্যই চীনা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।"

বাংলাদেশে ২০১৩ সালে প্রণীত আইনে শর্ত শেয়ার বাজারে স্বচ্ছতা এবং আধুনিকতা নিশ্চিত করতে ডিএসইকে তাদের ২৫ শতাংশ মালিকানা বিদেশী কোনো 'স্ট্রাটেজিক সহযোগী'র কাছে বিক্রি করতে হবে।

গত বছর ডিএসই সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করলে প্রস্তাব আসে ভারত এবং চীন থেকে।

ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বে একটি কনসোর্টিয়াম বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আসে। আর যৌথভাবে প্রস্তাব দেয় চীনের সাংহাই এবং শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ।

যাচাই বাছাইয়ের পর ডিএসই কর্তৃপক্ষ কমাস আগে চীনা প্রস্তাবকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি'র অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠায়।

কিন্তু ঢাকার গণমাধ্যমে একের পর এক খবর বেরিয়েছে, এসইসি ভারতীয় প্রস্তাবকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে।

কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে অজ (সোমবার) জরুরী সাধারণ সভা ডেকে চীনের বিনিয়োগ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন শতভাগ ডিএসই সদস্য ।

আরও পড়ুন:

শান্তিরক্ষা মিশনের নেতৃত্বে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ?

'রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে প্রত্যাশা বাড়াতে চাই না'

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

কেন তারা এসইসির পরামর্শ মানছেন না?

আহমেদ রশীদ লালী বলেন, টেকনিক্যাল বাছাইতেই ভারতীয় প্রস্তাব 'অযোগ্য' হয়ে যায়। "তাদের প্রস্তাবে তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছিলনা, ন্যাশন্যাল স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের বোর্ডের অনুমোদন ছিলনা।"

সবচেয়ে বড় কথা, মি. লালী বলেন, আর্থিক যে প্রস্তাব সাংহাই-শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়াম দিয়েছে তা ভারতীয় প্রস্তাবের চেয়ে অনেক ভালো।

"চীনা কনসোর্টিয়াম যেখানে ২২ টাকা রেট দেয়, ভারতের রেট ছিল ১৫ টাকা।"

জানা গেছে, ডিএসই'র সদস্যরা মনে করছেন চীনা প্রস্তাব ভারতীয় প্রস্তাবের চেয়ে সবদিক দিয়ে লোভনীয় ।

শেয়ার দাম বেশি দেওয়ার প্রস্তাবের পাশাপাশি চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসই'র প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মি লালী বলেন, "শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ গত মাসে বিশ্বের সেরা এক্সচেঞ্জের সম্মান পেয়েছে, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ বিশ্বের সেরা পাঁচটির একটি। তাদের ১৮০০ হাই-কানেক্টেড বিনিয়োগকারী রয়েছে যারা সারা পৃথিবী ঘুরে ঘুরে বিনিয়োগ করেন, তাদের ৫০ জনও যদি আমাদের এখানে আসেন, তাহলে বাজারের অনেক সুবিধা হয়ে যাবে।"

আহমেদ রশীদ লালী বলেন, "এসইসি আমাদের বলার চেষ্টা করছে, ভারত প্রতিবেশী দেশ, আমাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনেক মিল রয়েছে, ফলে তাতে সুবিধা হবে...আমরা মনে করছি সেই যুক্তি খুব জোরালো নয়।"

"চীনও এশিয়ার দেশ, পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের ৪০ শতাংশ শেয়ার তারা নিয়েছে। তাদের অনেকদিন ধরেই এদেশের ব্যবসায় তাদের অনেক কার্যক্রম রয়েছে. কালচার নিয়ে খুব অসুবিধা হবেনা।"

মি লালী জানান, সোমবারের সভার মতামতের পর তারা এসইসির কাছে চূড়ান্ত অনুমোদন চাইবেন।

আরও পড়ুন:

পাকিস্তানি বাস ড্রাইভারের ছেলে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী