কোটা বাতিল হয়ে গেছে, আর হা-হুতাশ নয়: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিস্কার করে দিয়েছেন যে সরকারি চাকরিতে যে কোটা ব্যবস্থা ছিল তা বাতিল করে দেয়া হয়েছে এবং এখন তা নিয়ে আর হা-হুতাশ করার কিছু নেই।

আজ ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জেলা কোটাও বাতিল হয়ে গেছে। এখন কেউ এসে পিছিয়ে পড়া হিসেবে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ করতে পারবে না।

"আন্দোলনের সময়কার অনেক ছবি সংরক্ষণ করে রাখা আছে" - বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কোটা বাতিলের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে এখন আবার মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন কোটা ব্যবস্থা রাখার দাবিতে আন্দোলন করছে।

এ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে শেখ হাসিনা বলেন, "ছাত্ররা কোটা ব্যবস্থা চায় না। তারা আন্দোলন করেছে। ফলে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এনিয়ে আর আলোচনা করার বা হা-হুতাশ করার কিছু নেই ।"

কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যঙ্গ করার অভিযোগের কথা তুলে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার বিষয় তিনি মেনে নিতে পারেন না। "ঐ আন্দোলনে কারা ঢুকে পড়েছে" - সে প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা মূলত যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং সৌদি আরবে তার সাম্প্রতিক সফর নিয়ে কথা বলার জন্যই এই সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন।

তবে এতে কোটা প্রসঙ্গ ছাড়াও আগামী নির্বাচন, রোহিঙ্গা ইস্যু, তারেক রহমান সহ আরো অনেক বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

কেন সুচির সুর নরম, নিরাপত্তা পরিষদ কি বলেছে তাকে

'দিনে পাঁচবার যৌনমিলনও যথেষ্ট ছিল না'

'ইসলাম বিদ্বেষ কমছে, তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক'

ডেটিং সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে ফেসবুক

ছবির কপিরাইট REHMAN ASAD
Image caption সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল নিয়ে আর হাহুতাশ করে লাভ নেই , বলেন শেখ হাসিনা

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ায় দলটি আগামী নির্বাচনে না এলে পরিস্থিতি কি দাঁড়াতে পারে? এ প্রশ্নও রাখা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সামনে ।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোন দল নির্বাচন করবে বা করবে না, সেটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। জোর করে কাউকে নির্বাচনে আনা গণতান্ত্রিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইসাথে তিনি বলেন, "দুর্নীতির মামলায় সাজা হয়ে খালেদা জিয়া জেলে গেছেন। এটা আদালত বা আইনের বিষয়।।" এ নিয়ে কোন রাজনৈতিক দাবি করা ঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খালেদা জিয়ার সাজা হবার পর বিএনপি যে তার ছেলে লন্ডনে আশ্রয় নেয়া তারেক রহমানকে তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছে - এ নিয়েও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

ছবির কপিরাইট .
Image caption বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এখন তারেক রহমান

"তারেক রহমান দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী। ব্রিটিশ সরকারের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে তাকে দেশে আনার জন্য। বিএনপিতে কি একজন উপযুক্ত নেতা খুঁজে পাওয়া গেল না? একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে চেয়ারপারসন করা হলো, সেখান থেকে সে নেতৃত্ব দেয়। রাজনীিততে এতবড় দেউলিয়াত্ব আর কি আছে সেটা আপনার কি ভেবে দেখেন?" - বলেন শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কে নিরাপত্তা পরিষদের এই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার আলোচনার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের সাথে কথা বলে তার মনে হয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে তারা যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গেই কাজ করছে।

আগামী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে কিনা- এই প্রশ্নও করেছিলেন সাংবাদিকরা। শেখ হাসিনার জবাব ছিল বেশ সতর্ক। তিনি বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল সবসময়ই আশা করে যে, তারা নির্বাচনে জয়ী হবে।

তিনি বলেছেন, জনগণ যদি মনে করেন, তারা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন। তাহলে তাঁরা জয়ী হবেন বলে তিনি মনে করেন।