কোটা বাতিল নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কোন আফসোস থাকবে না, বলেছেন বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাশেদ খান

ছবির কপিরাইট RAISUL ISLAM NOYON/ FACEBOOK
Image caption গত ১৬ই এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করছিলেন কোটা আন্দোলনের নেতারা।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরীতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের করার কারণে বিষয়টি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কোন 'আফসোস' সৃষ্টি হবে না বলে মনে করেন আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা রাশেদ খান।

কোটা ব্যবস্থা বাতিল নিয়ে আর 'হা-হুতাশ' করার কিছু নেই- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে মি: খান বলেন এ কথা বলেন।

বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জেলা কোটাও বাতিল হয়ে গেছে। এখন কেউ এসে পিছিয়ে পড়া হিসেবে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ করতে পারবে না।

সে প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা রাশেদ খান বলে, পিছিয়ে পড়া জেলাগুলো কোটার সুবিধা বাস্তবে পাচ্ছে না।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

কোটা বাতিল হয়ে গেছে, আর হা-হুতাশ নয়: শেখ হাসিনা

কোটা সংস্কার: আন্দোলনের নেপথ্যে কী ঘটছে

ছবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
এক নজরে কোটা সংস্কার আন্দোলন

সে কারণে প্রত্যেকটা জেলার ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃ:স্ফূর্ত ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে বলে মি: খান উল্লেখ করেন।

তাদের দাবীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মি: খান বলেন, "ঢাকা জেলাতে কোটার সুবিধা যেটা আছে সেটা ৮.৩৬ শতাংশ অন্যদিকে কুড়িগ্রামে ১.৪৪ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবতা হওয়ার কথা ছিল ভিন্ন। যেহেতু কুড়িগ্রাম অনেক পিছিয়ে পড়া একটা জেলা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে। অর্থাৎ জেলা কোটার বাস্তবিক প্রয়োগ এখানে হচ্ছে না"

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গে আরো বলেছেন, যারা এ আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, তাদের সব তথ্য ও ছবি সরকারের কাছে রয়েছে। তারা যদি পরে চাকরি না পেয়ে জেলা কোটার জন্য হতাশা প্রকাশ করে তাতে কিছু করার থাকবে না।

কোটা বাতিলের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যকে আন্দোলনকারীরা হুমকি হিসেবে দেখছে কিনা?

এমন প্রশ্নে রাশেদ খান বলেন, " মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ছাত্র সমাজ বিচলিত বা আতকিংত নয়। ছাত্র সমাজ যে আন্দোলন করেছে তা ছিল যৌক্তিক সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক। ছাত্র সমাজ অন্য কোন দাবী করেনি। এ কারণে আপনারা দেখে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ছাত্র সমাজের অধিকাংশ সামাজিক মাধ্যমগুলিতে বলেছে তাদের সকলের তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হোক।"

তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কিছু ছাত্র-ছাত্রী তাদের আতংকের বিষয়টি প্রকাশ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মি: খান বলেন, আন্দোলনের কারণে 'হয়রানি করা' হবে কিনা সে বিষয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মি: খান বলেন, " তবে আমরা বলতে চাই যে আন্দোলনের কারণে কাউকে হেনস্থা করা হলে ছাত্র সমাজ তা ভালোভাবে নেবে না। "

আরো পড়ুন:

কোটা পদ্ধতি বাতিল: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

চাকরিপ্রার্থীদের ‘ফার্স্ট টার্গেট বিসিএস’ কেন?

চাকরিতে কোটা নিয়ে এত ক্ষোভের কারণ কী?

সম্পর্কিত বিষয়