হাতি পাচার রোধে আফ্রিকার প্রথম সশস্ত্র নারী গ্রুপ

গেরিলা যোদ্ধাদের মত সাজে একজন নারী।
Image caption গেরিলা যোদ্ধাদের মত সাজে একজন নারী।

আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে হাতি পাচার রোধ করার জন্য মেয়েদের একটা গ্রুপ কাজ করছে। রীতিমত অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এই কাজে নেমেছে। যেখানে পুরুষরা এই কাজে এগিয়ে আসেনি সেখানে এই নারীরা কিভাবে কাজটি করছে?

গেরিলা যোদ্ধাদের মত সাজে একজন নারী। হাতে অস্ত্র। কঠোর তার চোখ-মুখ। চোখের দৃষ্টি সুনির্দিষ্ট।

এই নারী বলছেন যদি আমাদের প্রাণীদের সাথে খারাপ কিছু করো, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাকে ধরে ফেলবো।

'আকাশিংগা' গোষ্ঠীর নারীদের এই দলটি পশুপাচারকারীদের বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ করছে।

জিম্বাবুয়ের লোয়ার জ্যামনেজি ভ্যালি। নারীরা গেরিলাদের মত পোশাক পরছে, মুখে কালি মেখে,নিজেদের অস্ত্রগুলো প্রস্তুত করে নিচ্ছে। আকাশিংগা আফ্রিকার একমাত্র অস্ত্রধারী নারী গ্রুপ যারা কিনা পশুপাচারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

রাতের আধারে একটি গাড়িতে চরে শুরু করলো তাদের মিশন। সাথে ইন্টারন্যাশনাল এন্টি পোচিং ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা- ডামিয়েন মানদের।

তিনি তাদের জিজ্ঞেস করছেন ভয় করছে? সবাই হেসে দিয়ে বললো, কিসের ভয়? আমরা এখন পর্যন্ত অনেককে ধরেছি। ৩০জনের বেশি পশুপাচারকারীকে আমরা ধরেছি।

ইন্টারন্যাশনাল এন্টি পোচিং ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা- ডামিয়েন মানদের বলছিলেন ঐতিহাসিক ভাবে যেটা হয়ে এসেছে, সেটা হল সারা দেশ থেকে রেঞ্জার নিয়ে এসে এই এলাকা রক্ষার কাজ করা হত কিন্তু এর ব্যতিক্রম হয়েছে। কিন্তু কেন?

তিনি বলছিলেন "মেয়েরা আসলে দুর্নীতিগ্রস্ত নয় সে কারণে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে"।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption হাতির দাঁতের ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয় ১৯৮৯ সালে

সেই রাতেই নারীদের এই দলটি চারজনকে আটক করলো। এদের মধ্যে একজন আবার সায়ানাইড ব্যবহার করে হাতিকে মারার মতলব করছিল।

একজন নারী রেঞ্জার বলছিলেন "এটা আসলেই একটা কঠিন কাজ। কারণ রাতের আধারে যখন আপনি মানুষটাকে ধরবেন পরে আবিষ্কার করবেন সে আপনার গ্রামের একজন কিংবা পাশের গ্রামে থাকে। কিন্তু আমাদের কথা হল তুমি আমার প্রতিবেশী হও কিংবা আত্মীয় হওনা কেন যদি তুমি আমার প্রাণীদের কোন ক্ষতি করার চেষ্টা কর, আমি তোমাকে ধরে ফেলবো"।

ডামিয়েন মানদের বলছিলেন "ছয়/সাত বছর আগে আমি ১৮৯ জন পুরুষের একটা সিলেকশন কোর্স করেছিলাম। পরে দেখা গেল তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন টিকে আছে"।

এইসব নারীরা বেশিরভাগই নিপীড়িত এবং সিঙ্গেল মাদার।

এই নারীদের একজন বলছিলেন "আমার আগের স্বামী ছিল খুবই অত্যাচারী। বিবাহিত জীবনের পুরোটাই ছিল ভীষণ কঠিন। আমি দেখলাম আমার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। তারপর আমি প্রমাণ করতে চাইলাম কোন কাজই শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য না। এখন আমি আশা করছি সেটা আমি ভালো-ভাবেই প্রমাণ করতে পেরেছি"।

বিমবাই আরেকজন নারী রেঞ্জার। তিনি বলছিলেন "আমার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ থাকতো না, যেটা দিয়ে আমি আমার সন্তানদের খাবার কিনতে পারি কিংবা স্কুলে পাঠাতে পারি বা ভালো পোশাক কিনে দিতে পারি। বেচে থাকা আমার জন্য হয়ে পরেছিল অত্যন্ত কঠিন। এখন আমি আমার মত করে সব কিছু করি। এই কাজটা আমাকে ব্যাপক সাহস দিল যে আমিও কিছু করতে পারি, আমি অন্যদের চেয়ে আলাদা"।

Image caption হাতি পাচার রোধে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হলেও ব্যর্থ হয় প্রায় সেসব পদক্ষেপ

বিমবাই এই দলের স্টার রেঞ্জার। আজ ঘোষণা করা হবে তাকে পদোন্নয়ন করা হবে, নাকি হবে না। বনের মধ্যে একসারিতে দাড়িয়ে আছেন সবাই।

ডামিয়েন মানদের বিমবাইকে সামনে আসার অনুরোধ করলেন। বিমবাই এর প্রমোশন বা পদোন্নতি হল সেটাই ঘোষণা করা হল।

বিমবাই বলছেন, ''আমি জানি না কেন তারা আমাকে পছন্দ করলো, তারাই ভালো জানে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো তাদেরকে খুশি করার জন্য। আমরা এখানে রয়েছে প্রাণীদের রক্ষা করার জন্য। এটাই আমাদের দায়িত্ব।''

বনের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো একটা হাতির দিকে তাকিয়ে তিনি বলছিলেন, ''এখন থেকে এরা চিরতরে হারিয়ে যাবে না।''