খুলনার সিটি নির্বাচনে জোর করে ব্যালটে সিল মারায় একটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত

খুলনার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নারীদের ভালো উপস্থিতি রয়েছে ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption খুলনার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নারীদের ভালো উপস্থিতি রয়েছে।

জোর করে ভোট কেন্দ্র ঢুকে ব্যালটে সিল দেয়ার অভিযোগে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছেন রিটার্নি কর্মকর্তা।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২০/২৫জন যুবক একটি কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপার নিয়ে সিল মারতে শুরু করে। বারোটার দিকে ওই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

খুলনা থেকে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা আবুল কালাম আজাদ জানাচ্ছেন, অনেক কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি নিজেও কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের পাননি।

আরো কয়েকটি কেন্দ্রেও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption অনেক কেন্দ্রে থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

তবে এসব সত্ত্বেও খুলনার এই স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে বলে জানাচ্ছেন বিবিসির সংবাদদাতা। তাদের মধ্যে নারী পুরুষের ভালো উপস্থিতি রয়েছে।

তবে তিনি বলছেন, বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের বিপুল কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি দেখা গেলেও, বিএনপির কর্মীদের প্রায় দেখাই যাচ্ছে না।

সকালে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ভোট দেয়ার পর বলেছেন, ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, তিনি মেনে নেবেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সকাল থেকেই অভিযোগ করেছেন, অনেক কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের ঢুকতেই দেয়া হয়নি।

ভোটাররা প্রত্যাশা করছে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের ব্যক্তি নগরপিতা হবেন।

তবে এই নির্বাচনটি কি ভোটাররা সাধারণ একটি স্থানীয় নির্বাচন হিসাবেই দেখছে নাকি তাদের কাছে এর গুরুত্ব আরো বেশি? যেহেতু নির্বাচনটি হচ্ছে দলীয় প্রতীকে, তাহলে এখানে দলীয় প্রতীক গুরুত্ব পাচ্ছে নাকি ব্যক্তি?

এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অবশ্য রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি, এই দলের প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

অনেক ভোটার বলছেন, এখানে ব্যক্তিই গুরুত্বপূর্ণ। কে কাজ করতে পারবে, কে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে, সেগুলো বিবেচনা করেই তারা ভোট দেবেন।

আবার কেউ কেউ বলছেন, তাদের কাছে প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সারা জীবন যে প্রতীকে তারা ভোট দিয়ে এসেছেন, এবার তার বাইরে ভোট দিতে পারবেন না।

অনেক ভোটার মনে করছেন, স্থানীয় নির্বাচন হলেও এটা জাতীয়ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামীর জাতীয় নির্বাচনে কাদের প্রতি জনসমর্থন বেশি, তার একটি আভাসও পাওয়া যাবে।

বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। মোট ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল, যার মধ্যে একটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ভোটার রয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৩ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। ওই নির্বাচন অবশ্য দলীয় প্রতীকে হয়নি।