বিশ্বকাপ ২০১৮: কোন গ্রুপে কোন দেশ

বিশ্বকাপ ফুটবল ছবির কপিরাইট GABRIEL BOUYS
Image caption ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে মারিও গোৎসার সেই শিরোপা-জেতানো গোল

এবারের বিশ্বকাপে মোট ৩২টি দেশকে আটটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দেশ রাউন্ড অব সিক্সটিন বা নকআউট পর্বে উঠবে।

সেখান থেকে জয়ী দলগুলো ক্রমে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের দিকে এগুবে।

গ্রুপগুলোর দিকে ভালো করে নজর দিন, কারণ যত নামী দলই হোক না কেন, বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরোনো কিন্তু সহজ কথা নয়।

মনে রাখবেন - গত দুটি বিশ্বকাপেই কিন্তু ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দেশ গ্রুপ পর্বেই ছিটকে গেছে।

২০১০ সালের বিশ্বকাপে ছিটকে যায় তার আগের বারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি, আর সেবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনও চার বছর পর ২০১৪-র বিশ্বকাপে এসে গ্রুপ পর্ব পেরুতে পারে নি।

এর আগে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ী জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স পরের বার অর্থাৎ ২০০২ সালে গ্রুপ পর্বে ছিটকে গিয়েছিল। তিনটি খেলায় একটিও গোল করতে পারে নি তারা, আর খেয়েছিল তিনটি গোল।

বিশ্বকাপের গ্রুপ তালিকা দেখে ফুটবল পন্ডিতরা একটা-দুটো গ্রুপকে নাম দেন 'গ্রুপ অব ডেথ' বলে। কিন্তু আসলে মাঠে নামার পর দেখা যায় - যে কোন গ্রুপই যে কোন দলের জন্য গ্রুপ অব ডেথ হয়ে উঠতে পারে । এটাই বিশ্বকাপের বাস্তবতা।

গ্রুপ এ

গ্রুপ এ-তে আছে স্বাগতিক রাশিয়া, সৌদি আরব, মিশর, আর উরুগুয়ে।

এ গ্রুপে বড় তারকাদের অন্যতম অবশ্যই উরুগুয়ে এবং বার্সেলোনার লুইস সুয়ারেজ। কিন্তু এবার তারকাখ্যাতিতে তার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন মিশরের ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের হয়ে তার চোখ-ধাঁধানো খেলা এবং ৪৪টি গোল এবারের মৌসুমের অন্যতম বড় চমক ছিল।

বিশ্বকাপে নিশ্চয়ই সালাহর গোল করার ক্ষমতার দিকে সবার নজর থাকবে। তিনি কি একার ক্ষমতায় মিশরকে নাটকীয় কিছু উপহার দিতে পারবেন?

দেখা যাক।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption স্পেন ও রেয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার ইসকো

মিশর ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে - তাদের বিশ্ব র‍্যাংকিং ৩০তম।

আর তাদের রাশিয়ার টিকিট এনে দিয়েছিলেন এই মোহাম্মদ সালাহই - কোয়ালিফাইং পর্বে কঙ্গোর বিরুদ্ধে ৯৪তম মিনিটে এক পেনাল্টিতে জয়সুচক গোল করে।

৫৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে এ পর্যন্ত ৩২টি গোল করেছেন মোহাম্মদ সালাহ - মিশরের সবচেয়ে বড় তারকা।

উরুগুয়ে হচ্ছে এই গ্রুপে সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল। তারা ১৯৩০এর প্রথম বিশ্বকাপ এবং এর পর ১৯৫০এর বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption লুইস সুয়ারেজ

গ্রুপ বি

এই বিভাগে আছে পর্তুগাল, স্পেন, মরক্কো এবং ইরান।

ইউরোপের দুই 'হেভিওয়েটের' লড়াই এ গ্রুপে।

পর্তুগালেল সবচেয়ে বড় তারকা রেয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। তিনি তার দেশকে গত ২০১৬ সালে ইউরো জিতিয়েছেন, চার বার বিশ্বের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পেয়েছেন।

তিনি হচ্ছেন বিশ্বের মাত্র চারজন খেলোয়াড়ের একজন - যারা তিনটি বিশ্বকাপে গোল করেছেন।

ছবির কপিরাইট প্রিমিয়ার লিগ
Image caption মোহাম্মদ সালাহ কি হতে পারেন এবার বিশ্বকাপের নতুন চমক?

আর স্পেন হচ্ছে ২০১০-এর বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। এখন তাদের বিশ্ব ফুটবল র‍্যাংকিং হচ্ছে ১১তম, যদিও তারা ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিশ্বে এক নম্বর ছিল।

তাদের দলে তারকার কোন অভাব নেই, এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের দিয়েগো কস্তা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক দাভিদ দা হে (যাকে অনেকেই বলেন বিশ্বের এক নম্বর) আর হুয়ান মাতা, ম্যানচেস্টার সিটির দাভিদ সিলভা, চেলসির আলভারো মোরাতা, আর আছেন রেয়াল মাদ্রিদের ইসকো - যিনি এবার দারুণ ফর্মে। স্পেনের গত ৭টি ম্যাচে ৬টি গোল করেছেন এই মিডফিল্ডার।

স্পেনের দলটি এমনই যে চেলসি'র সেস ফ্যাব্রেগাসের মত খেলোয়াড়েরও জায়গা হয় নি এ দলে।

এই গ্রুপের সেরা ম্যাচ নি:সন্দেহে হতে যাচ্ছে পর্তুগাল আর স্পেনের মধ্যে - যা হবে ১৫ই জুন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো

গ্রুপ সি

গ্রুপ সি-তে আছে ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, পেরু আর ডেনমার্ক।

জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল, স্বাগতিক দেশ হিসেবে। তবে পরের বার গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছিল - যা আগেই বলেছিল।

তারা এ পর্যন্ত দু'বার ফাইনাল খেলেছে, সেমিফাইনালে খেলেছে পাঁচ বার। ব্রাজিলে গতবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে ছিটকে যায়।

তাদের দলেল সবচেয়ে বড় তারকা এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের আঁতোয়াঁ গ্রিজম্যান। ২০১৬-র ইউরোতে যেবার ফ্রান্স ফাইনাল খেলেছিল - সেবার ৬টি গোল করে টপ স্কোরার হয়েছিলেন গ্রিজম্যান।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৮৯ মিলিয়ন পাউন্ডে কেন মিডফিল্ডার পল পগবা তাদের আরেক বড় তারকা।

তার সাথে আছেন বার্সেলোনা ওসমান দেম্বেলে আর পিএসজি-র কাইলিয়ান এমবাপ্পি - যারা ইউরোপিয়ান ফুটবলের উঠতি তারকা।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মেসির হয়তো বিশ্বকাপ জেতার এটাই শেষ সুযোগ

গ্রুপ ডি

গ্রুপ ডি-তে আছে আর্জেন্টিনা, আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া আর নাইজেরিয়া।

আর্জেন্টিনা গত বারের রানার্স আপ। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কোয়ালিফাই করতে পারবে কিনা তা নিয়ে গ্রুপ পর্বে বহুদিন পর্যন্ত সমর্থকদের এক চরম উৎকণ্ঠায় থাকতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা রাশিয়ার টিকিট পেয়েছে বেশ কষ্ট করে।

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বিশ্বখ্যাত তারকা লিওনেল মেসি, যিনি বিশ্বসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন পাঁচ বার।

কিন্তু শুধুই কি মেসি? সেরজিও এগুয়েরো (ম্যানচেস্টার সিটি), গনজালো হিগুয়াইন আর পাওলো দিবালা (জুভেন্টাস), এ্যানজেল ডি মারিয়া (প্যারিস সঁ-জারমেইন) - তারকার অভাব নেই আর্জেন্টিনার।

ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় তারকা রেয়াল মাদ্রিদের সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ।

ছবির কপিরাইট PHILIPPE DESMAZES
Image caption ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ট্রফি

তবু প্রশ্ন - আর্জেন্টিনা কি বিশ্বকাপ জিততে পারবে?

লিওনেল মেসির ফুটবলে সবই পাওয়া হয়ে গেছে, কিন্তু এই একটি অপ্রাপ্তি যেন কোথায় খচখচ করে তার ভক্তদের মনে - অলিম্পিকে ছাড়া তার দেশের হয়ে তেমন কিছু জিততে পারেন নি মেসি। পেলে আর ম্যারাডোনার মত বিশ্বকাপও জেতা হয় নি তার।

এ না হলে যেন ফুটবলের 'হল অব ফেমে' তার নাম পাকা হচ্ছে না।

গতবার মেসি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু জার্মানির বিরুদ্ধে ফাইনালে জ্বলে উঠতে পারেন নি তিনি।

মেসির সামনে এবারই শেষ সুযোগ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption নেইমার ইনজুরিতে পড়লেও ব্রাজিল দলে তাকে রাখা হচ্ছে

গ্রুপ ই

গ্রুপ ই-তে আছে ব্রাজিল, সুইৎজারল্যান্ড, কোস্টারিকা, সার্বিয়া।

ব্রাজিলকে নিয়ে সব সময়ই বিশ্বকাপে একটা উচ্ছাস, এবং সমর্থকদের আশা-প্রত্যাশা দেখা যায়। তার নান্দনিক শৈলীর ফুটবলের ভক্ত বিশ্বজোড়া। গত বিশ্বকাপে তারা ছিল স্বাগতিক দেশ, দলে ছিলেন নেইমারের মতো তারকা। কিন্তু সেই দলের জার্মানির বিপক্ষে ৭ গোল খাওয়ার দু:স্বপ্নের স্মৃতি এখনো নিশ্চয়ই ভক্তদের মন থেকে মুছে যায় নি।

নেইমার এবারের দলেও আছেন, পরিবর্তন এটাই যে এখন তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ফুটবলার। তাকে ২০ কোটি পাউন্ডে কিনেছে প্যারিস সঁ-জার্মেইন।

আছেন বার্সেলোনার ফেলিপ কুতিনিও - তিনিও এখন পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি খেলোয়াড়। এছাড়াও আছেন উইলিয়ান (চেলসি), ফার্মিনো (লিভারপুল), গ্যাব্রিয়েল ইয়েসুস, এডারসন, দানিলো, ফার্নান্দিনিওর (এর সবাই ম্যানচেস্টার সিটির) মার্সেলো আর কাসামেরো (রেয়াল মাদ্রিদ) মতো তারকারা । এবার শিরোপা জেতার লড়াইয়ে ব্রাজিল কত শক্তিশালী দাবিদার?

বোঝা যাবে টুর্নামেন্ট শুরু হলেই।

তবে বলে রাখা দরকার - নেইমারের পায়ে মার্চ মাসেই একটি অপারেশন হয়েছে, তখনই বলা হয়েছিল তিন মাস তিনি খেলতে পারবেন না। আশা করা হচ্ছে তিনি বিশ্বকাপের আগেই ফিটনেস ফিরে পাবেন, তবে প্রস্তুতির সময় খুব বেশি পাবেন না।

ভুলে যাবেন না ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছে সবচেয়ে বেশি, মোট পাঁচ বার - ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, আর ২০০২ সালে।

ছবির কপিরাইট Jamie McDonald
Image caption মারিও গোৎসা জার্মান দলে নেই তবে আছেন টমাস মুলার

গ্রুপ এফ

জার্মানি আছে গ্রুপ এফ-এ। এ গ্রুপে আরো আছে মেক্সিকো, সুইডেন আর দক্ষিণ কোরিয়া।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিশ্বকাপের জন্য ঘোষণা করা ২৭ জনের দলে কয়েকজন বড় তারকা নেই। নেই লিভারপুলের এমরে চ্যান, আর আর্সেনালের স্কোদরান মুস্তাফি। তা ছাড়াও নেই মারিও গোৎসা - যিনি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে গতবারের ফাইনালে গোল করে জার্মানিকে জিতিয়েছিলেন।

তারকাসমৃদ্ধ জার্মান দলে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের টমাস মুলার, ম্যাট হামেলস এবং ম্যানুয়েল নোয়ার, রেয়াল মাদ্রিদের টনি ক্রুস, ম্যানচেস্টার সিটির ইলকে গুন্ডোগান, জুভেন্টাসের স্যামি খেদিরা, আর্সেনালের মেসুত ওজিল, এবং চেলসির এ্যান্টোনিও রুডিগার।

তাদের ম্যানেজারও থাকছেন আগের বারের মতোই জোয়াখিম লো।

জার্মানির প্রথম খেলা ১৭ই জুন। মনে রাখবেন ব্রাজিলের পরই সবচেয়ে বেশি - মোট চার বার - বিশ্বকাপ জিতেছে জার্মানি, ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ আর ২০১৪ সালে। অবশ্য ইতালিও মোট চার বার বিশ্বকাপ জিতেছে - কিন্তু সবাইকে অবাক করে এবার তারা বিশ্বকাপের চুড়ান্ত পর্বে কোয়ালিফাই করতেই পারে নি।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption রোমেলু লুকাকু, বেলজিয়াম

সুইডেন দলে এবার সেদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত তারকা স্লাতান ইব্রাহিমোভিচ থাকবেন কিনা তা নিয়ে অনেক জল্পনা চলছিল - কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ডাক পান নি।

দলে আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার ভিক্টর লিন্ডেলফ।

গ্রুপ জি

গ্রুপ জি-তে আছে বেলজিয়াম, পানামা, তিউনিসিয়া, আর ইংল্যান্ড।

এ গ্রুপে নিশ্চয়ই কাগজে-কলমে সবচেয়ে শক্তিশালী দল বেলজিয়াম।

বেলজিয়াম গত দু'দশকে তার ফুটবল কাঠামো এমনভাবেই গড়ে তুলেছে যে এই দেশটি থেকে এখন বহু তারকা ফুটবলার বেরিয়ে আসছেন এবং তারা ইউরোপের প্রথম সারির ক্লাবগুলোতে খেলছেন।

চেলসির থিবো কুর্তোয়া আর এডিন হ্যাজার্ড, ম্যানচেস্টার সিটির ভিনসেন্ট কোম্পানি আর কেভিন ডি ব্রাইনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রোমেলু লুকাকু, টটেনহ্যামের ইয়ান ভের্টোঙ্গেন - এরা সবাই বেলজিয়ান।

গত বিশ্বকাপেও বেলজিয়াম দলটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পায় নি তারা। এবার হয়তো তাদের প্রত্যাশা আরো বেশি।

ছবির কপিরাইট MAXIM MARMUR
Image caption মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়াম, এখানেই হবে এবারের ফাইনাল

ইংল্যান্ড যে বিশ্বকাপে কি করবে কেউ বলতে পারেন না। তাদের ব্যাপারে সাধারণত বলা হয়: 'কোয়ার্টার ফাইনাল এ্যান্ড আউট' - ইংল্যান্ডের নিয়তি এটাই।

তবে হ্যারি কেইন, রহিম স্টার্লিং বা ডেলি আলির মতো খেলোয়াড়দের আবির্ভাবের পর ইংলিশ ভক্তরা এবার অপেক্ষাকৃত ভালো কিছুর আশা করতে চাইছেন। ইংলিশ ম্যানেজার গ্যারেথ সাউথগেট ওয়েন রুনির মত অপসৃয়মান তারকাদের বাদ দিয়ে তারুণ্য এবং গতিনির্ভর একটি দল গড়ে তুলেছেন - যাদের মধ্যে এক সংহতি গড়ে উঠেছে বলেই কোয়ালিফাইং এবং প্রীতি ম্যাচগুলোয় মনে হয়েছে।

কিন্তু তারা কি কোয়ার্টার ফাইনাল পেরুনোর মতো দল? কেউ নিশ্চিত নন।

গ্রুপ এইচ

গ্রুপ এইচে আছে পোল্যান্ড, সেনেগাল, কলম্বিয়া আর জাপান।

পোল্যান্ডের বড় তারকা বায়ার্ন মিউনিখের রবার্ট লেভানডোস্কি। তাদের গোলকিপার জুভেন্টাসের ওইজেক স্‌চেজনি - আর্সেনালের গোলরক্ষক ছিলেন অনেক দিন। তা ছাড়া দলে আছেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের লুকাস পিজচেক, প্যারিস সঁ-জারমেইনের গ্রিগর ক্রাইচোবিয়াক, আর নাপোলির আকদিউস মিলিক।

সেনেগাল আফ্রিকার ফুটবলে বড় শক্তি, ২০০২-এ তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু এবার কোনো আফ্রিকান দেশই এবারের বিশ্বকাপে খুব বেশি দূর যাবে বলে ফুটবল পন্ডিতরা মনে করছেন না। এবার মিশর, মরক্কো, নাইজেরিয়া, তিউনিসিয়া আর গ্রুপ এইচের সেনেগাল - কেউই ফিফার র‍্যাংকিং-এ প্রথম ২০টি দেশের মধ্যে নেই।

সেনেগালের সবচেয়ে বড় তারকা লিভারপুলের সাদিও মানে, আর এসি মিলানের এমবায়ে নিয়াঙ। তারা এবার কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও সেটা একট বড় অর্জন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কলম্বিয়া দলের বড় তারকাদের মধ্যে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের হামেস রডরিগেজ, জুভেন্টাসের হুয়ান কুয়াদ্রাদো আর মোনাকোর রাদামেল ফালকাও।

জাপান দলে আছেন এমন বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় যারা বড় ইউরোপিয়ান ক্লাবে খেলেন। শিনজি কাগাওয়া বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে এবং শিনজি ওকাজাকি ইংলিশ লিগে লেস্টার সিটিতে খেলেন।