গড়ে ৩৫ মিনিটেই বিল পাস হয় বাংলাদেশের সংসদে: টিআইবি

জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের উপর চোখ রাখে টিআইবি। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের উপর চোখ রাখে টিআইবি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি নিয়মিতভাবেই সংসদ অধিবেশনগুলো পর্যবেক্ষণ করে 'পার্লামেন্ট ওয়াচ' নামে তাদের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে গত কয়েক বছর ধরে।

এবার তারা যে রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে, চলতি সংসদের চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ অধিবেশন অর্থাৎ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের জাতীয় সংসদ তার অংশ।

টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় সংসদের অন্যতম মূল যে কাজ আইন প্রণয়ন করা, তার পেছনে মাত্র ৯ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে। এবং প্রতিটি বিল পাশ করতে গড়ে সময় লেগেছে মাত্র ৩৫ মিনিট।

তিনি বলছিলেন, ভারতের লোকসভায় প্রতিটি বিল পাসের গড় সময় ২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট।

'অশ্লীল শব্দ চলছেই...'

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ শাখার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ''সংসদ সদস্যদের একাংশ কর্তৃক অশ্লীল শব্দের ব্যবহার অব্যাহত ছিল। এসব আলোচনায় সংসদের বাইরের বিষয়, সংসদ সদস্যদের অনুপস্থিত, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও নাগরিক সমাজের একাংশের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণাত্মক অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।''

বর্তমান সংসদের আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য মো.দবিরুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, সংসদের এই সময়কালে জনগণের স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে বরং বাইরের বিষয় নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে, যা দুঃখজনক।

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption প্রতিবছর 'পার্লামেন্ট ওয়াচ' রিপোর্ট প্রকাশ করে টিআইবি

তবে এরমধ্যেও তারা স্থানীয় জনগণের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে পেরেছেন এবং কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছেন বলে তিনি দাবি করেছেন।

কী করছে বিরোধী দল?

জাতীয় সংসদে সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় বিরোধী দলও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির একজন সংসদ সদস্য সালমা ইসলামের কাছে জানতে চেয়েছিলাম বিরোধী দল হিসেবে কতটা ভূমিকা রাখতে পেরেছেন তারা?

তিনি বলছিলেন, সরকার যখন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে তখন তারা তাদেরকে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

"ঝগড়া বা হৈ চৈ করলেই যে বিরোধী দলের নেত্রী হয়ে যায় সেই ধারণাটা সঠিক না," বলেন তিনি।

সংসদ সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে সংসদীয় বিষয়ক কমিটিগুলো।

টিআইবি বলছে, এসব কমিটির কার্যক্রম বর্তমানে খুব দুর্বল এবং তারা যেসব প্রতিবেদন দেয় এবং সুপারিশ করে সেসব অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না।

আরো পড়তে পারেন:

বাংলাদেশে রোজা পালনকারীর জন্য জরুরী ১১টি পরামর্শ

অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা চায় উত্তর কোরিয়া?

জাপানে ২৫ সেকেণ্ড আগে ট্রেন ছাড়ায় শোরগোল

কোরাম সঙ্কট

প্রতিবেদনে সংসদ অধিবেশনে অ-সংসদীয় ভাষার ব্যবহার ও কোরাম সংকট অব্যাহত থাকার বিষয়কে উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষক এবং লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলছিলেন বর্তমান সংসদের কার্যক্রম একটি আদর্শ সংসদের ধারণাকে ধরে রাখতে পারে নি।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption টিআইবি বলছে, কোরাম সঙ্কটও উদ্বেগজনক পর্যায়ে।

তিনি বলেছেন, "তারা যদি সব সময় ছায়ার সাথে যুদ্ধ করে, যে প্রতিপক্ষ সেখানে অনুপস্থিত, যাদের তাদের কথার জবাব দেয়ার সুযোগ নেই- এটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয় না।"

"সবচেয়ে বড় কথা হলো সত্যিকার অর্থে যদি একটা বিরোধী দল সংসদে থাকতো তারা হয়তো এক ধরনের ভূমিকা রাখতে পারতো এবং একটা জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি হতে পারতো। কিন্তু যেহেতু জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে সেই ভূমিকা রাখতে পারছে না, সুতরাং সেই জবাবদিহির জায়গাটা আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে গেছে," বলেন তিনি।

জাতীয় সংসদকে অধিক কার্যকর করার জন্য টিআইবি 'সংসদ সদস্য আচরণবিধি বিলে' প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, চূড়ান্ত অনুমোদন ও আইন হিসেবে প্রণয়নের মতো বেশ কিছু সুপারিশ করেছে।