প্রীতিভাজনেষু: আপনাদের প্রশ্ন, সম্পাদকের জবাব

প্রশিক্ষণ শেষে লন্ডন এবং দিল্লি থেকে আসা কয়েকজন সহকর্মীর সাথে ঢাকায় বিবিসির নতুন-পুরাতন কর্মীরা ।
Image caption প্রশিক্ষণ শেষে লন্ডন এবং দিল্লি থেকে আসা কয়েকজন সহকর্মীর সাথে ঢাকায় বিবিসির নতুন-পুরাতন কর্মীরা ।

চিঠি-পত্রের 'আসর' এখন ইমেইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। ঢাকায় বিবিসির পোস্ট বক্স বন্ধ করে দেবার পর ডাকে পাঠানো কোন চিঠি আমাদের হাতে আসে না। তবে ফেসবুকে অনেক মেসেজ আসে যেটা এখন পর্যন্ত প্রীতিভাজনেষুতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে।

তাহলে এবার দেখা যাক এ'সপ্তাহে কোন্‌ কোন্‌ বিষয়ে আপনারা ইমেইল করেছেন।

প্রথমেই বাংলাদেশের একটি বড় খবর নিয়ে একটি চিঠি। লিখেছেন প্রবীণ রেডিও শ্রোতা খুলনার বাসিন্দা মুনির আহম্মদ। তিনি লিখেছেন, তিন দিন আগে হয়ে যাওয়া খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে:

''মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ও বুধবার সকালে আপনাদের অনুষ্ঠান শুনছিলাম। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সংক্রান্ত আবুল কালাম আজাদ আর গৌরাঙ্গ নন্দীর প্রতিবেদনে ভিন্নতা ছিলো। সকাল থেকে ভোট চলতে থাকলেও বিএনপি সমর্থকরা কেউ প্রকাশ্যে ছিলেন না। এমন কি কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বিএনপি সমর্থকরা কেউ সামনে আসেন নি। ভোটকেন্দ্রের বাইরে এবং ভিতরে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ছিলেন।

''বুথের ভিতর ভোট কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা আর পোলিং এজেন্ট ছাড়া অন্য কারো প্রবেশাধিকার না থাকলেও নৌকা প্রতীকের কিছু কর্মী ছিলো, ভোটারকে তাদের সামনে সিল দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিলো। বেলা ১১ টায় আমি ভোট দেবার জন্য কেন্দ্রে গেলে আমাকেও তাদের সামনে সিল দিতে বলা হয়। আমি প্রতিবাদ করলে সে জোর করতে থাকে। আমি যখন বলি আমি সরকারী চাকরী কালে ছয়বার প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, এ অবস্থা হতে দেইনি। প্রিসাইডিং অফিসার কি করছেন? তখন তারা আমাকে ভোট কক্ষে যেতে দেয়। প্রিসাইডিং অফিসার নির্বিকার।

''অনেক কেন্দ্রেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোট শেষ হয়ে যায়। আমি বেলা ১১টায় দেখেছি ব্যালট বাক্স পূর্ণ। আমার ব্যালটপেপার অনেক কষ্টে ঢুকিয়েছি। অনেক মহিলাকে বলতে শুনেছি তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে শুনেছেন তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গিয়েছে। আপনাদের প্রতিবেদন আর আমার পর্যবেক্ষণ অন্য রকম। সত্যিই বড় অদ্ভুত ভোট। আমার জীবনে এ রকম আর দেখিনি।''

আবুল কালাম আজাদ আর গৌরাঙ্গ নন্দীর সাক্ষাৎকারে ভিন্নতা ছিল, সেটা ঠিক। তার কারণ হচ্ছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আজাদ দিনের শেষে মূলত ভোট গ্রহণের চিত্র তুলে ধরেন। আর বুধবার সকালে গৌরাঙ্গর কাছ থেকে মূলত ভোটের পর বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল।

তবে আজাদের সাক্ষাৎকারের সাথে আপনার অভিজ্ঞতার কিন্তু খুব একটা অমিল নেই। আজাদও তার সাক্ষাৎকারে পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন, রূপসার যে ভোট কেন্দ্রে তিনি গিয়েছিলেন, সেখানে বিএনপির কোন এজেন্ট বা কর্মী দেখেননি, শুধু নৌকা মার্কার সমর্থকদের দেখেছেন, এমনকি ভোট কেন্দ্রের ভেতরেও। ভোট গণনার সময় তিনি দেখেছেন অনেক ব্যালট পেপারে কর্মকর্তার সিল নেই। অনিয়ম এবং সম্ভাব্য কারচুপির চিত্র ফুটে আসে তার সাক্ষাৎকারে - আজাদ তার সাক্ষাৎকারে কী বলেছিলেন তার অংশবিশেষ শুনতে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
খুলনায় যা দেখলেন বিবিসি সংবাদদাতা

আরেকটি নির্বাচন নিয়ে ছোট একটি মন্তব্য করেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভার নির্বাচনের খবর বিবিসি থেকে তুলনামূলক কমই শুনেছি।''

কিসের সাথে তুলনা করে কর্ণাটক নির্বাচনের খবরকে কম বলছেন, তা বুঝলাম না মিঃ আহমেদ। তবে আমাদের মতে, খবরের গুরুত্ব অনুযায়ী আমাদের পরিবেশনা ঠিক ছিল। ফলাফলকে ভারতের জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতির প্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রচার করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি করা উচিত হতো না, কারণ নির্বাচনটি ছিল একটি রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচন। দ্বিতীয়, আমাদের শ্রোতাদের সিংহভাগ কর্ণাটকের নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহী নন।

এবার এই সপ্তাহের সব চেয়ে বড় আন্তর্জাতিক খবর, অর্থাৎ ইসরায়েলি গুলিতে গাযায় ব্যাপক প্রাণহানি এবং একই দিনে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তর নিয়ে আমাদের প্রতিবেদনের ওপর একটি মন্তব্য। পাঠিয়েছেন আনাস চৌধুরী:

''বিবিসি বাংলা পরিবেশিত নিচের বিশ্লেষণটিতে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী একটি সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে আপনারা 'জঙ্গি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ( এই প্রতিবেদনে, জেরুসালেম নিয়ে ট্রাম্প কেন শান্তির পথে হাঁটছেন না ) আমার জানার বিষয় হচ্ছে, কোনো সংগঠনকে 'জঙ্গি' বা 'সন্ত্রাসী' বলার ক্ষেত্রে আপনাদের মূলনীতি কী?"

এখানে আমাদের নীতি বেশ স্বচ্ছ মিঃ চৌধুরী। আমারা কোন গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী বলে বর্ণনা করি না। তবে আমরা যখন খবর ইংরেজি থেকে অনুবাদ করি, তখন militant শব্দটি নিয়ে কিছুটা সমস্যা হয়। সন্ত্রাসীর ইংরেজি হচ্ছে terrorist, কিন্তু বিবিসি তার নীতি অনুযায়ী কাউকে সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করে না (যদিও সহিংস আক্রমণকে অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে।)

হামাস বা লেবাননের হেজবোল্লাহ রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করে ঠিকই, কিন্তু অন্য দশটি রাজনৈতিক দল থেকে তারা ভিন্ন, কারণ তাদের নিজস্ব সশস্ত্র শাখা আছে যেগুলো নিজ দেশের সাংবিধানিক সেনাবাহিনীর অংশ নয়। সেজন্য তাদের militant হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এই militant শব্দটির অনুবাদ আমরা করি 'জঙ্গি' হিসেবে, সন্ত্রাসী না। তবে আমরা নিজেরাও এই অনুবাদ নিয়ে সন্তুষ্ট না, যেহেতু আপনার মত অনেকেই জঙ্গি আর সন্ত্রাসী, এই দুই শব্দকে ভিন্নভাবে দেখেন না। আশা করি কারণটা ব্যাখ্যা করতে পেরেছি।

Image caption বিবিসির সদর দফতর নিউ ব্রডকাস্টিং হাউসে কর্মব্যস্ত বাংলা সার্ভিসের কয়েকজন সাংবাদিক।

রেডিও অনুষ্ঠান সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

"মে মাসের ১২ তারিখের ফোন-ইন অনুষ্ঠানে আকবর হোসেন কলারদের মন্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে ফেসবুকে পাওয়া দু'একটি মন্তব্য পড়ে দিলেন। আইডিয়াটা খারাপ না, ভালই লাগলো। মাসে সাধারণত: চারটি ফোন-ইন হয়ে থাকে এবং প্রতিটি ফোন-ইনে কলাররা নির্ধারিত বিষয়েই কথা বলে থাকেন। চারটি ফোন-ইন অনুষ্ঠানের যে কোনো একটিকে অনির্ধারিত বিষয়ে করা হলে নিশ্চয়ই খারাপ লাগবে না, বরং ঐ ফোন-ইন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কলাররা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারবেন। বিষয়টি ভেবে দেখবার অনুরোধ জানাচ্ছি।''

বিষয়টি নিয়ে আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবছি মিঃ সরদার। প্রতি মাসে একটি বা দুটি, অথবা দুটি ফোন-ইন পর পর একটি অনুষ্ঠান মুক্ত করে দিলে মন্দ হয় না। তবে মুক্ত ফোন-ইনের সপ্তাহে যদি কোন বড় জন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থাকে, তখন আমরা অবশ্যই চাইবো ঐ বিষয়েই ফোন-ইন করতে।

কিছুদিন হলো আমাদের সান্ধ্য অধিবেশন প্রবাহ ফেসবুক লাইভের মাধ্যমেও প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু দুই-একদিন ফেসবুক লাইভে ঝামেলা হওয়ায় শ্রোতা-দর্শকরা বেশ বিরক্ত। যেমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থেকে মোহাম্মদ আলী মিয়া:

''আপনারা বিবিসি ফেসবুক লাইভ একদিন প্রচার করছেন তো অন্যদিন করছেন না, এর কারণ কী? আপনাদের বিবিসি ফেসবুক লাইভ ডাউনলোড করে শুনবো বলে অনলাইনে শুনছি না ব্যস্ততার কারণে। আপনারা লাইভ নিয়মিত প্রচার করুন নয়তো একেবারে বন্ধ করে দিন। একে তো ইতিহাসের সাক্ষী, বিজ্ঞানের আসর চিরতরে বন্ধ করে দিলেন, তার উপর আপনাদের অবহেলায় বিবিসি ফেসবুক লাইভ শুনতে পাবো না!''

বিরক্ত হবার পূর্ণ অধিকার আপনার আছে মিঃ মিয়া। ফেসবুক লাইভ নিয়ে আমাদের বেশ ঝামেলা যাচ্ছিল ঠিকই, তবে আমি যতদূর জানি সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং সন্ধ্যার অনুষ্ঠান এখন নিয়মিত ফেসবুকে লাইভ হচ্ছে। আশা করি এরকম সমস্যা আর হবে না।

অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে আসি। ইতিহাসের সাক্ষী কিন্তু একবারে বাতিল করে দেয়া হয়নি। ইতিহাসের সাক্ষী নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটে দেয়া হচ্ছে তবে শুধু টেক্সট ফরম্যাটে, কোন অডিও ছাড়া। প্রীতিভাজনেষুর মতই। বিজ্ঞানের আসর ফিচার আকারে নেই ঠিকই, তবে বিজ্ঞান জগতের খবর এখন আমাদের সাময়িক প্রসঙ্গের অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাছাড়া খেয়াল করবেন, আমাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান বিষয়ক খবর বা ফিচার প্রতিবেদনের সংখ্যা এখন বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছবির কপিরাইট OLI SCARFF

সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয় গান-গল্প অনুষ্ঠানের দুজন উপস্থাপককে মিস করছেন খুলনার কয়রার বাসিন্দা সুরঞ্জন মিত্র। তিনি লিখেছেন:

''ছোট একটা প্রশ্ন। জাহাঙ্গীর রনি ও অর্চি অতন্দ্রিলা। ওরা দুই জন কি বিবিসি থেকে চলে গেছেন? ওদের তো কোন ভয়েস শোনা যায় না। আর যদি না যায় তাহলে কোথায়? এড়িয়ে যাবেন না।''

অর্চি অতন্দ্রিলা কিন্তু বিবিসিতেই আছেন। তবে তিনি গত দু'বছর ধরে আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহতে কাজ করছেন, যে কারণে তার কণ্ঠ রেডিওতে শুনতে পান না। আর জাহাঙ্গীর রনি একজন আইনজীবী। তিনি সম্ভবত তার পেশায় ব্যস্ত রয়েছেন। এই মুহূর্তে তিনি বিবিসির সাথে জড়িত নন।

এই হলো আপনার সহজ প্রশ্নের সহজ উত্তর। কিন্তু আপনি কেন ভাবলেন এই প্রশ্ন আমি 'এড়িয়ে' যেতে পারি, তা আমি বুঝলাম না। এখানে এড়ানোর কিছু ছিল কি?

এবারে ভিন্ন একটি প্রসঙ্গ নিয়ে এসেছেন ভোলার লালমোহন থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''এগারো তারিখের প্রবাহ অনুষ্ঠানে ভারতীয় রেল বিভাগের চাকুরী নিয়ে শায়লা রুকসানার ডাবিং করা একটি প্রতিবেদন শুনলাম। ভারতের নয়াদিল্লীতে শুভজ্যোতি ঘোষ ও কলকাতায় অমিতাভ ভট্টশালী বিবিসি বাংলার দুইজন সংবাদদাতা হিসাবে নিয়োজিত আছে। আমার প্রশ্ন, তারা দুইজন সংবাদদাতা থাকার পরও ভারতের একটি প্রতিবেদন কেন ঢাকার শায়লা রুকসানাকে দিকে করাতে হলো? আমার মতে তাদের যেকোনো একজনকে দিয়ে প্রতিবেদনটি করালে বেশ প্রাসঙ্গিক হতো।''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মিঃ রহমান। সাধারণত ভারতের খবর আমাদের দুই ভারত-ভিত্তিক সংবাদদাতারাই করে থাকেন। তবে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিল বিবিসি নিউজের দিল্লি সংবাদদাতা। তার প্রতিবেদন অনুবাদ করা হয়েছিল। শুভজ্যোতি ঘোষ বা অমিতাভ ভট্টশালী রেডিওর জন্য মৌলিক প্রতিবেদন তৈরি করেন, অন্যের রিপোর্ট অনুবাদ করেন না। তবে ঢাকায় বা লন্ডনে আমরা প্রায়ই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিবিসি সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন অনুবাদ করে থাকি।

অনুষ্ঠানের কনটেন্ট থেকে স্টাইল নিয়ে একটি প্রশ্ন করেছেন মোহাম্মদ তারিফ হাসান, যিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। তার প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের সময় বলার ধরণ নিয়ে:

''গত ১১ই মে, শুক্রবার বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে দেখলাম, কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বিবিসিকে জানিয়েছেন, সব কিছু ঠিক থাকলে পরীক্ষা করার পর শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর রাত ২টা ১৪মিনিটে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট আবার উৎক্ষেপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখানে আমার জানতে চাওয়ার বিষয়টি হচ্ছে, বাংলাদেশ সময় ২টা ১৪মিনিটে ভোর রাত হয় কীভাবে? বাংলাদেশের ঐ সময়টিকে দিবাগত রাত বা মধ্যরাত বলা যায় না কি?''

মধ্যরাত বলা যায় না মিঃ হাসান, কারণ শুধু রাত ১২টাকেই আমরা মধ্যরাত বলি। তবে দিবাগত রাত বলার প্রচলন আছে, এবং আমরা অনেক সময় সেটাও বলি। ভোর রাত বলার যুক্তি হচ্ছে, রাত বারোটার পর ক্যালেন্ডারের তারিখ এগিয়ে যায়, নতুন দিন শুরু হয়ে যায়। কাজেই রাত দু'টাকে আমরা ভোর রাত বলতেই পারি।

আমাদের স্টাইল নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন, পাঠিয়েছেন কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বিলকিছ আক্তার:

''আপনাদের প্রচারিত ফোন ইন নিয়ে আমার মনে একটা ছোট্ট প্রশ্নের উদয় হয়েছে। আপনারা ফোন ইন এ প্রায়ই বলে থাকেন বিবিসিকে সালাম-ধন্যবাদ দিবেন না এবং পুরুষের ক্ষেত্রে 'মিস্টার' এবং নারীদের বেলায় 'মিস' শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। এমনটি কেন করেন? আমি যতদূর জানি বিবিসি বাংলা তো বাঙালীদের জন্য একটি সংবাদ মাধ্যম। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনারা কেন পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুসরণ করেন?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মিস আক্তার। এক সময় বিবিসি বাংলার দুটি পৃথক অধিবেশন ছিল, একটি ভারতের শ্রোতাদের জন্য আর অন্যটি পাকিস্তানের শ্রোতাদের জন্য। তখন ধর্মীয়-সামাজিক রীতি অনুযায়ী নমস্কার, সালাম, আদাব ইত্যাদি বলা হতো, আর শ্রী-শ্রীমতী, জনাব-জনাবা বলে সম্বোধন করা হতো। কিন্তু ১৯৬৯ সালে দুই বাংলা সার্ভিস একত্রিত হবার পর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নিরপেক্ষ, সেরকম সম্বোধন বেছে নেয়া হয়। সেজন্যই আমরা পশ্চিমা স্টাইলে মিস্টার, মিস, মিসেস ইত্যাদি বলে থাকি।

এবার আপনার কাছে আমার একটি প্রশ্ন আছে মিস আক্তার। গত সপ্তাহে আপনার মেইলে ঠিকানা দিয়েছিলেন রংপুরের কাউনিয়া, কিন্তু আজকে দেখছি কুড়িগ্রাম। দুটি জেলা পাশা-পাশি হলেও এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিকানা কী করে পাল্টে গেল সেটা বুঝতে পারছি না।

বিবিসি বাংলার নামে ভুয়া ফেসবুক পাতা নিয়ে বেশ বিরক্ত বোধ করে লিখেছেন ঝালকাঠির কাঠালিয়া থেকে মোবারক হোসেন:

''সেদিন বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেইজে যাওয়ার জন্য সার্চ করলাম। কিন্তু অনেকগুলো ফেইক পেইজের মধ্যে থেকে মুল পেইজ খুঁজে বের করতে খুব কষ্ট হল। বিবিসির জন্য কি এসব ফেইক পেইজের বিষয়ে ভাবার জন্য কোন সময় নেই? এভাবে আর কতদিন চলবে? আশাকরি কোন ব্যবস্থা নিবেন।''

ব্যবস্থা অবশ্যই নেয়া হচ্ছে মিঃ হোসেন। যখনই কোন ভুয়া পাতা আমাদের নজরে আসে তখনি সেটা আমাদের সোশাল মিডিয়া বিভাগকে জানিয়ে দেই, এবং তারা দ্রুত ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সেই পাতা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করে। তবে আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমারা যত দ্রুত ভুয়া পাতা সরাচ্ছি, ঠিক একই গতিতে নতুন ফেইক পেইজের আবির্ভাব হচ্ছে!

বেশ কয়েকটি অভিযোগ করে লিখেছেন ঢাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান:

''আমি বিবিসি বাংলা অনুষ্ঠান ২০০৪ সাল থেকে নিয়মিত শুনে আসছি কিন্তু আপনাদের ফোন-ইন অনুষ্ঠানে মতামত দেয়ার জন্য বহুবার চেষ্টা করেও কোন দিন কথা বলতে পারিনি। কোন সময় হয় কল ঢুকে, আবার কোন সময় ঢুকে না। কল যাওয়ার পরেও আজ পর্যন্ত কোন দিন কথা বলতে পারিনি। আজও বেশ কয় বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। তাই মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় আর কখনও খবর শুনব না। আমি আপনাদের ৭০ বছর পূর্তির ম্যাগাজিন চেয়ে চিঠি দিলাম কিন্তু পেলাম না।''

সত্তর বছর পূর্তির ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়েছিল সাত বছর আগে। এখন আর কোন কপি আমাদের কাছে নেই, সেজন্য আমরা দুঃখিত। আর ফোন-ইনের জন্য তো আপনার ফোন করার প্রয়োজন নেই। আপনি টেক্সট করে আগ্রহ রেজিস্টার করবেন, তারপর বিবিসি থেকে আপনাকে ফোন করে অনুষ্ঠানে নেয়া হবে। ফোন-ইনের দিন অফিসে ফোন করে কাজ হবে না।

যথারীতি সবার চিঠির উত্তর এখানে দেয়া সম্ভব হয়নি। অন্য যারা লিখেছেন তাদের কয়েকজনের নাম এখানে উল্লেখ করা হলো:

হাসান মীর, রাণীবাজার, রাজশাহী।

বাবুল দেবনাথ,নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজ, মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা।

আহসান হাবিব রাজু, মহেন্দ্রনগর, লালমনিরহাট ।

সিরাজুল হক ভূঞা, গুয়াহাটি, আসাম।

কামাল হোসাইন, মধুখালী, ফরিদপুর।

মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, চট্টগ্রাম।

কামরুজ্জামান সরকার, শংকরপুর তেলীপাড়া, দিনাজপুর - সদর।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

রিপন পাল, বি এল কলেজ,খুলনা।

মাকামে মাহমুদ চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী।

এনামুল হক সুমন, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা:

ইমেইল: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক: www.facebook.com/BBCBengaliService/

টুইটার: https://twitter.com/bbcbangla