বিমানে সবাই কান্নাকাটি এবং দোয়া পড়তে থাকেন: সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একজন যাত্রী

সৌদি এয়ারলাইন্সের দুর্ঘটনা কবলিত বিমান। ছবির কপিরাইট Ziaul Afsar
Image caption সৌদি এয়ারলাইন্সের দুর্ঘটনা কবলিত বিমান।

নেপালের বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও একটি বিমান দুর্ঘটনার মুখোমুখি হল বাংলাদেশিরা। তবে সেই বিমান দুর্ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন প্রতিটি আরোহী।

সোমবার মদিনা থেকে ঢাকায় আসার পথে সৌদি এয়ারলাইন্সের বিমানটি যান্ত্রিক ক্রটির কারণে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে তিন বারের চেষ্টায় জরুরি অবতরণ করে।

বিমানটির ১৫১ জন আরোহীর মধ্যে ১৪১ জনই ছিল বাংলাদেশি।

আজ ভোরে ঢাকায় পৌঁছেছে জেদ্দা বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার কবলে পড়া সৌদি এয়ারলাইন্সের সেই বেঁচে ফেরা বাংলাদেশি যাত্রীরা।

তারা সৌদি আরবে ওমরা হজ্জ পালন করতে গিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার কবল থেকে নিরাপদে ফিরতে পারলেও তাদের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। তাদেরই একজন জিয়াউল আফসার।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বর্ণনা করেন বিমান দুর্ঘটনার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

আরো পড়ুন:

কিউবায় বিমান বিধ্বস্ত: একশ’র বেশি যাত্রী নিহত

পৃথিবীতে সবচেয়ে ব্যস্ত বিমান চলাচলের রুট কোনটি?

গত কয়েক বছরের বিমান দুর্ঘটনার বৃত্তান্ত

জিয়াউল আফসার জানান, সৌদি এয়ারলাইন্সের ওই বিমানটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার দেড় ঘণ্টা পর পাইলট জানান যে ঢাকার আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় বিমানটি জেদ্দা কিং আবদুল আজিজ বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

এসময় বিমানের একদম সামনের সারিতে বসেছিলেন জিয়াউল আফসার। পাইলটের এমন বার্তায় তার প্রাথমিকভাবে খটকা লাগে কেননা বিমানটি ঢাকায় পৌঁছাতে আরও ৫ ঘণ্টা বাকি ছিল। এরমধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

জিয়াউল আফসার জানান, বিমানটি আকাশে কয়েকবার চক্কর দিয়ে রানওয়ের একদম কাছ ঘেঁষে আবার উড্ডয়ন করে।

এভাবে কয়েক দফা ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা দেখে সবার সন্দেহ হয় এবং তারা বিমানবালার কাছে সঠিক তথ্য জানতে চান।

এক পর্যায়ে পাইলট জানান, বিমানে বড় ধরণের সমস্যা হয়েছে সবাই যেন সিটবেল্ট বেঁধে মাথা নিচু করে থাকেন। এসময় বিমানে অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছিল বলে জানান মি. আফসার।

এ সময় পুরো বিমানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই কান্নাকাটি করতে থাকেন এবং দোয়া পড়তে থাকেন।

পরে জরুরি অবতরণের সবশেষ প্রচেষ্টায় বিমানটি রানওয়েতে মুখ থুবড়ে পড়ে। এ সময় ল্যান্ডিং গিয়ারে আগুন ধরে যায়।

জিয়াউল আফসার জানালার বাইরে বড় ধরনের আগুন দেখতে পান। পরে ইমার্জেন্সি গেইটগুলো খুলে দেয়া হলে তিনি ও অন্যান্য যাত্রীরা দ্রুত নেমে পড়েন।

তবে পাইলটের দক্ষতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিমানটির এতো ঝুঁকিপূর্ণ অবতরণে যে পরিমাণ ঝাঁকুনি হওয়ার কথা ছিল তেমন কিছুই হয়নি।

ছবির কপিরাইট Ziaul Afsar
Image caption বিমানটির সফল অবতরণে পাইলটের দক্ষতার প্রশংসা করেন আরোহীরা।

এছাড়া ঘটনাস্থলে আগে থেকেই সৌদি সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখায় সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় বলে জানান তিনি।

পরে জিয়াউল আফসারসহ আরও কয়েকজন আরোহী দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটির পাইলটের সঙ্গে দেখা করে তার বিচক্ষণতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সবাইকে উদ্ধার করে একটি বাসে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে তাদের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান জিয়াউল আফসার।

তিনি বলেন, ওই বিমানে যারা নিজেদের মালপত্র ফেলে এসেছিলেন তা উদ্ধার করে পরদিন সব বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে তারা আরোহীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে ঢাকার ফ্লাইটে তুলে দেন।