বিশ্ব ক্রিকেট কেন এবি ডি ভিলিয়ার্সকে মনে রাখবে?

ক্রিকেট ছবির কপিরাইট Hannah Peters
Image caption ৩৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। এই দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার আজ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

চার দিন আগেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুড়ুর হয়ে একটি মৌসুম শেষ করেছেন তিনি।

হঠাৎ অবসরের কারণ কী?

৩৪ বছর বয়সী ডি ভিলিয়ার্স অবসরের কারণ হিসেবে বলেছেন, তিনি ক্লান্ত।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১১৪টি টেস্ট ম্যাচ, ২২৮টি ওয়ানডে ম্যাচ ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, 'এখন সময় এসেছে অন্যদের সুযোগ করে দেয়ার। আমি আমার খেলা খেলেছি এবং সত্যি বলছি, আমি ক্লান্ত।'

আরো পড়তে পারেন:

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে কেন এই সতর্কতা?

'মাদক ব্যবসার চেয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা বড় অপরাধ'

যেভাবে শুরু হলো মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান

'বিমানে সবাই কান্নাকাটি এবং দোয়া পড়তে থাকেন'

রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল কতটা নিরাপদ?

ছবির কপিরাইট Gallo Images
Image caption ৩১ বলে ১০০ করার পর এবি ডি ভিলিয়ার্স

ডি ভিলিয়ার্স জানান, সিদ্ধান্ত নেয়াটা তার জন্য কঠিন ছিল। এটা নিয়ে বেশ ভালভাবে ভেবেছেন তিনি। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভাল দুটি সিরিজ খেলার পর এই সময়টাকেই অবসরের উপযুক্ত সময় হিসেবে মনে করেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বেশ কয়েকটি সিরিজে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বেছে বেছে খেলেছেন এই ক্রিকেটার। তবে এটা তার পছন্দ নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, 'দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বেছে বেছে খেলাটা ভাল লাগছিলো না। হয় আমি সব ফরম্যাটে খেলবো নতুবা কোনো ফরম্যাটেই খেলবো না। আমি আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাই, যাদের ছাড়া আমি এমন ক্রিকেটার হতে পারতাম না।'

যে কারণে ডি ভিলিয়ার্সকে মনে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব

ছবির কপিরাইট Gallo Images
Image caption ক্রিকেটীয় ব্যাকরণের বাইরে শট খেলার জন্য বিখ্যাত এবি ডি ভিলিয়ার্স

বিশ্বজুড়ে মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রী হিসেবে পরিচিত ডি ভিলিয়ার্স। উইকেটের চারিপাশে স্ট্রোক খেলার বিশেষ ক্ষমতা আছে তার। বিশেষত রিভার্স সুইপ অথবা হাঁটু গেড়ে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শী তিনি।

বিশ্ব ক্রিকেটের ওয়ানডে ফরম্যাটে বর্তমান দ্রুততম শতক এসেছে তার ব্যাট থেকে। ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩১ বলে ১০০ রান করেন তিনি। সেই ইনিংসে ৪৪ বলে ১৪৯ রান করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই ছিল তার দাপট।

ছবির কপিরাইট ISHARA S.KODIKARA
Image caption এক সময় উইকেটের পেছনে দাঁড়ালেও পরবর্তীতে দারুণ ফিল্ডার হিসেবে আবির্ভূত হন ডি ভিলিয়ার্স

১১৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৮৭৬৫ রান তোলেন তিনি। ৫০.৬৬ গড়ে ২২টি শতক এসেছে ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাট থেকে। সাথে ৪৬টি অর্ধশতক। সর্বোচ্চ ২৭৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি, ২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ডি ভিলিয়ার্স। সর্বোচ্চ ১৭৬ রান করেন বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০১৭ সালে।

ওয়ানডেতে ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাট থেকে আসে মোট ৯৫৭৭ রান। স্ট্রাইক রেট ১০১.০৯।

টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে ডি ভিলিয়ার্সের স্ট্রাইক রেটের তারতম্য ব্যাটসম্যান হিসেবে তার মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতার প্রমাণ। টেস্ট ক্রিকেটে ডি ভিলিয়ার্সের স্ট্রাইক রেট ৫৪.৫১।

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ডি ভিলিয়ার্সের এই অবসরকে দু:খজনক বলেছেন। তার মতে, এটা বিশ্বব্যাপী টি-টোয়েন্টি লিগের প্রসারের একজন নতুন বলি।

২০০৭ সালে ডি ভিলিয়ার্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপে খেলেন হাবিবুল বাশার। সুপার এইটের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ৬৭ রানের জয় পেয়েছিল। হাবিবুল বাশার বলেন, ডি ভিলিয়ার্স যে কোনো দিন ম্যাচ উইনার। উইকেটে যতক্ষণ আছেন ততক্ষণ ভরসা করতে পারবেন তার ওপর।

ডি ভিলিয়ার্সের সেরা পাঁচটি ইনিংস

  • ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪৯, জোহানেসবার্গে এইওয়ানডে ম্যাচে ৩১ বলে ১০০ রান।
  • বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭৬, ২০১৭ সালে খেলা এই ইনিংস ডি ভিলিয়ার্সের সর্বোচ্চ ওয়ানডে সংগ্রহ।
  • অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩৬*, ২০১৪ সালে হারারেতে ডি ভিলিয়ার্সের ইনিংস ৩২৭ রান তাড়া করতে সাহায্য করে।
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬২, ২০১৫ বিশ্বকাপে সিডনিতে এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০৮ রান তোলে।
  • পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৭৮*, ২০১০ সালে আবু ধাবিতে এমন একটি ইনিংস খেলেন ডি ভিলিয়ার্স।

সম্পর্কিত বিষয়