এমপিদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের সমস্যা কোথায়?

খুলনার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্র।
Image caption খুলনার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্র।

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের পথ খুলে দিয়ে নির্বাচন কমিশন যে নতুন বিধিমালা তৈরি করেছে তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে বলে মনে করছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষকরা।

নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে।

বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, তফসিল প্রকাশের পর মন্ত্রী এমপিসহ সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে পারেন না।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বিবিসিকে বলছিলেন, নির্বাচন কমিশন কেন এই সময়ে এধরনের একটি বিধি তৈরি করলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সংসদ সদস্যরা স্থানীয়ভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি অনেক বেশি।

ছবির কপিরাইট ফেসবুক
Image caption বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুজন।

আরো পড়তে পারেন:

“বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে স্বাধীন তদন্তের সুযোগ নেই”

ফেসবুক কেন ব্যবহারকারীদের নগ্ন ছবি চাইছে?

মালয়েশিয়ার বিমান ধ্বংস রুশ মিসাইলে: তদন্ত দল

"এই রকম ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা যদি স্থানীয় নির্বাচনে কোন বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারাভিযান চালায়, তাহলে সব প্রার্থীর জন্য সুযোগ সমান থাকে না।"

এই নতুন বিধিমালা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলেও তিনি মনে করছেন।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধির ওপর বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সংসদ সদস্যরা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু তারা সার্কিট হাউজ এবং সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবে না।

কমিশনের অনুমোদনের পর এই খসড়া বিধিমালা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।

খুলনার মেয়র নির্বাচনসহ নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তার সবই সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে সুজনের সচিব মন্তব্য করেন।