প্রীতিভাজনেষু: আপনাদের প্রশ্ন, সম্পাদকের জবাব

  • সাবির মুস্তাফা
  • সম্পাদক, বিবিসি বাংলা
বিবিসি বাংলার তৎকালীন সাংবাদিক শুভজীত বাগচী ২০১০ সালে মধ্য ভারতের জঙ্গলে এক মাস কাটিয়েছিলেন মাওবাদী গেরিলাদের সাথে।
ছবির ক্যাপশান,

ছত্তিশগড়ের 'মুক্তাঞ্চলে': বিবিসি বাংলার তৎকালীন সাংবাদিক শুভজীত বাগচী ২০১০ সালে মধ্য ভারতের জঙ্গলে এক মাস কাটিয়েছিলেন মাওবাদী গেরিলাদের সাথে।

বাংলাদেশে যখন মাদক নিয়ে তোলপাড় এবং পুলিশের গুলিতে এক'শরও বেশি কথিত মাদক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে অনেকের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, সেসময় কানাডা সরকার গাঁজাকে নিষিদ্ধ দ্রব্যের তালিকা থেকে বাদ দিতে যাচ্ছে। এই গল্প বেশ উপভোগ করেছেন ভোলার লালমহোনের মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''কুষ্টিয়ার লালন মেলায় গাঁজা সেবকদের গোল হয়ে গাঁজা সেবন ও গান বাজনার কথা পত্রিকায় বহুবার শুনেছি কিন্তু সেটা সরকারী বৈধতার কোন স্বীকৃতি নয়, বরং বিচ্ছিন্ন আনন্দ বিনোদনের ঘটনা। এ ধরণের আয়োজন হয়তো নানা দেশে নানাভাবে পালিত হয়। তবে গাঁজা যে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়, এটা আমার একদম জানা ছিল না। অ্যার্থ্রাইটিস রোগে এটি কার্যকর ভাবে ব্যবহার করা যায় এবং এ কারণেই কানাডা সরকার এটিকে সরকারীভাবে বৈধ করতে যাচ্ছে। গাঁজা যদিও অধিকাংশ দেশে একটি নিষিদ্ধ পণ্য, সেখানে কানাডার উদ্যোগ সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক।

''তবে এ প্রসঙ্গে বিবিসির কাছে আমার জানতে ইচ্ছে করছে, অ্যার্থ্রাইটিস রোগ আসলে কী এবং এর উপসর্গই বা কী?''

অ্যার্থ্রাইটিস হচ্ছে মূলত হাড়ের জোড়ার ব্যাধি মিঃ রহমান। যেমন হাঁটু, কনুই বা আঙ্গুলের জোড়ায় ব্যথা, ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। গাঁজার উপকারী দিক নিয়ে অনেক দিন ধরেই পশ্চিমা বিশ্বে আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো সহ কয়েকটি রাজ্য গাঁজার ব্যবহারকে অপরাধ তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।

ছবির ক্যাপশান,

আশির দশকের বিবিসি বাংলা: (বসে আছেন, বাঁ দিক থেকে: গোলাম মুর্শিদ, জেবা রহমান, সেরাজুর রহমান, উর্মী রহমান, ক্লেয়ার ডকিংস এবং শ্যামল লোধ। (দাঁড়িয়ে আছেন, বাঁ দিক থেকে): দীপঙ্কর ঘোষ, ভুবন বড়ুয়া, দীপায়ন চ্যাটার্জী, জন রেনার (তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান), গোলাম কাদের এবং নুরুল ইসলাম।

কানাডা থেকে এবার যাই পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার একটি প্রসঙ্গে। বিবিসি বাংলা রেডিওতে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন নদীয়া জেলার ফুলিয়া চটকাতলা থেকে ধীরেন বসাক:

''এ'মাসের ৬ তারিখের প্রত্যুষা এবং প্রবাহ দুই অধিবেশনেই কোলকাতার হকার দৌরাত্ব বা হকার উচ্ছেদ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করা হলো, বিবিসির কাছে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা গেল । এখন প্রশ্ন এটাই, যে সত্যিই যদি হকার উচ্ছেদে আন্তরিকতা থাকে তবে কেন তা করা হচ্ছেনা এখনো । কথায় বলে, সর্ষের মধ্যেই ভুত থাকে । ঝামেলা জিইয়ে রাখলে তাতে অনেকেরই সুবিধে হয়।''

আপনি হয়তো ঠিকই বলেছেন মিঃ বসাক, হকারদের অনেকেই নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন, যে কারণে এই সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছে না। তবে আরেকটি ব্যাখ্যা হচ্ছে, হকারদের ব্যবসার সাথে এত মানুষ এবং তাদের পরিবারের জীবিকা জড়িত যে, কর্তৃপক্ষের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া আসলেই সহজ না। পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের শুধুমাত্র উচ্ছেদ করে দিলে সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে হয় না।

কিন্তু পুনর্বাসনও পূর্ণ সমাধান না। একদল হকারকে পুনর্বাসন করার পর মুক্ত হওয়া ফুটপাতে যে আরেক দল এসে বসবে না, তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

এবারে ফুটপাত থেকে গণপরিবহন। সৈয়দপুরের নীলফামারী থেকে মুকুল চৌধুরী ট্রেন সার্ভিস নিয়ে একটি অনুরোধ এই পাতার মাধ্যমে জানাতে চাইছেন:

''বিবিসির মাধ্যমে সৈয়দপুর থেকে ঢাকা যাবার আরেকখানি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করার অনুরোধ করছি। বাংলাদেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা উত্তর জনপদের সব যাত্রীরাই সৈয়দপুর হয়ে রেল পথে ঢাকায় গমন করেন। একটি ট্রেনে যাতায়াত করতে অনেককেই হিমশিম খেতে হয়। আরেকখানি আন্তঃনগর ট্রেনই পারে এই স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য যানজট মুক্ত ও সস্তায় ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে।''

আপনি একদম ঠিক কথা বলেছেন মিঃ চৌধুরী। দেশের ভেতর দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবার জন্য ট্রেন অবশ্যই সব চেয়ে ভাল মাধ্যম - দ্রুত চলতে পারে, নিরাপদ, খরচ কম। শুধু বাংলাদেশের স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য না, গণপরিবহন হিসেবে রেলপথ ইওরোপের সব দেশেই বিরাট ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে রেল পরিবহন যে আরো অনেক সম্প্রসারণ করা উচিত, আন্তঃনগর সার্ভিসগুলোতে আরো অনেক বেশি ট্রেন যোগ দেয়া উচিত, তা নিয়ে কোন বিতর্ক থাকতে পারে বলে আমার মনে হয়না।

ছবির ক্যাপশান,

লন্ডনের প্রতীক বিগ বেনকে পেছনে রেখে প্রতিবেদন রেকর্ড করছেন গোলাম কাদির (ছবিটি আশির দশকের কোন এক সময় তোলা)

আর কিছু দিন পরই ঈদ-উল ফিতর। এই সময় বিবিসির অনুষ্ঠানে কী থাকতে পারে তা জানতে চেয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''প্রতিটি ঈদে বিবিসি বাংলা তার আর্কাইভ থেকে কিছু পুরানো অনুষ্ঠান শ্রোতাদের শুনিয়ে থাকে। ছুটির অবকাশে এসব পুরানো অনুষ্ঠান শুনতে খারাপ লাগে না। এখন যেহেতু রেডিওতে বিবিসি বাংলার মাত্র দু'টি অধিবেশন রয়েছে তাই বরাবরের মতো এবারের ঈদেও পুরনো অনুষ্ঠান শোনা যাবে, এমনটা কি আশা করা যেতে পারে?''

আশা অবশ্যই করতে পারেন মিঃ সরদার। তবে এই ঈদে ব্যাপারটা কিছুটা ভিন্ন হবে। এবার নতুন কিছু প্রতিবেদন এবং সাথে সম্প্রতি প্রচার হওয়া কিছু বিশেষ সাক্ষাৎকার পুন:প্রচার করা হবে। তবে পরের ঈদে আবার আরো পুরনো দিনের অনুষ্ঠান নিয়ে আসা হবে।

গত মঙ্গলবারের প্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন দিনাজপুর থেকে কামরুজ্জামান সরকার:

''হঠাৎ মঙ্গলবার ( ৫ই মে) প্রবাহ অধিবেশন লন্ডন থেকে না করে ঢাকা থেকে সম্প্রচার কেন করা হলো? তাও আবার ফেসবুক লাইভ হলো না! যদি ঢাকা থেকে করতেই হয় তাহলে আগে ঢাকায় নতুন স্টুডিওতে উঠুন, ফেসবুক লাইভের জন্য উন্নতমানের ক্যামেরা বসান, তারপর না হয় ঢাকা থেকে সম্প্রচার করবেন। নচেৎ ঢাকা থেকে নয়।''

আপনার আক্ষেপের কারণ আমরা অবশ্যই বুঝতে পারছি মিঃ সরকার। তবে একটি বিশেষ প্রয়োজনেই মঙ্গলবারের অনুষ্ঠান ঢাকাতে নিতে হয়েছিল। লন্ডনে বিবিসি বাংলার সকল সাংবাদিক সেদিন একটি কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন। ঢাকা থেকে অনুষ্ঠান করার সুযোগ-সুবিধা যেহেতু আমাদের আছে তাই লন্ডনের সকল সহকর্মীকে নিয়েই কর্মশালা করা হয়েছিল। ক্ষতি হয়েছিল শুধুমাত্র ফেসবুক লাইভ বাতিল করে।

ঢাকার নতুন স্টুডিও তৈরি হতে আরো অনেক সময় লাগবে, কিন্তু এর মাঝে কারিগরি বা সম্পাদকীয় কারণে অনুষ্ঠান কোন কোন সময় ঢাকাতে নেবার প্রয়োজন হলে সেটাও আমাদের করতে হবে। আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করবো কোন কারণেই যেন রেডিও সম্প্রচার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

ছবির উৎস, OLI SCARFF

বাংলাদেশে চলমান মাদক-বিরোধী অভিযান নিয়ে একটি মন্তব্য করেছেন রংপুর সদর থেকে দেব প্রসাদ রায়:

''বাংলাদেশে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে যেমন প্রশংসা হচ্ছে তেমনি সমালোচনাও হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, অভিযানটি পরিচালনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো বেশী সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এবং শুধু চুনোপুঁটি নয়, রাঘব বোয়ালদের ধরাশায়ী করতে না পারলে মাদকের মূলোৎপাটন সম্ভব নয়।

''তবে মোটের উপর বলা যেতে পারে দেশের মানুষ কিছুটা হলেও সুফল পেতে শুরু করেছে। কেননা মাদক এবং অপরাধ কিংবা অপরাধী একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে সম্পর্কযুক্ত বা জড়িত। তাই মাদকমুক্ত হতে পারলে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় সন্ত্রাসের মত অপরাধ গুলো ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু, মাদক বিরোধী অভিযানে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং কেউ যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে।''

মাদক চোরাচালান, সরবরাহ এবং ব্যবহার নির্মূল বা অন্তত: নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী, তা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই মিঃ রায়। তবে প্রশ্ন উঠেছে এই অভিযানে শতাধিক লোক কেন মারা গেল। তারা কি আসলেই বন্দুক যুদ্ধে মারা গেছে, নাকি তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে? বাংলাদেশে অনেকে হয়তো মেরে ফেলার বিষয়টিও খারাপ চোখে দেখেন না, যদি নিহত ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে মাদক ব্যবসায়ী হয়ে থাকে।

কিন্তু বিনা বিচারে হত্যার মত চরম শাস্তির আপত্তিকর দিক হলো - আমরা কখনোই জানতে পারবো না তারা আসলেই অপরাধী ছিল কি না, অথবা তাদের অপরাধ কী ছিল। আইন প্রক্রিয়ার লক্ষ্যই হচ্ছে ন্যায় বিচারের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া এবং নিরপরাধ ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া। কিন্তু বিনা বিচারে হত্যা কোন সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এবারে ছোট একটি প্রশ্ন করে লিখেছেন ঠাকুরগাঁও-এর বড়গাঁও থেকে মোহাম্মদ ফিরোজুল ইসলাম:

''বিবিসি বাংলা ইদানীং তাদের ফ্যান পেজে বিভিন্ন খবরের ভিডিও দিচ্ছে। যা শ্রোতাদের মন কাড়ে, তবে কে এই সংবাদটি দিচ্ছে তার নাম থাকে না?এটা না দেয়ার কারণ কি?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মিঃ ইসলাম। আমি ধরে নিচ্ছি আপনি আমাদের ফেসবুক পাতায় যেসব ডিজিটাল ভিডিও দেয়া হয়, সেগুলো নিয়ে বলছেন। এই ভিডিওগুলোর মধ্যে যেগুলো বিবিসি বাংলার নিজস্ব ভিডিও সাংবাদিক তৈরি করলেও, ভিডিওতে তার কণ্ঠ না থাকলে তার নাম থাকে না। কারণ, যাকে নিয়ে ভিডিও, গল্পটি তার কণ্ঠ দিয়েই শোনানো হয়। যেমন শাম্মী হিজড়াকে নিয়ে এই ভিডিও:

ভিডিওর ক্যাপশান,

কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন শাম্মী হিজড়া?

যখন বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা হয় তখন অবশ্যই রিপোর্টারকে ভিডিওতে দেখতে পান। আর অনেক ভিডিও আমরা ফেসবুকে দেই যেগুলো ডিজিহাব নামে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ভিডিও বিভাগ থেকে আসে, সেগুলোতে কোন রিপোর্টারের নাম থাকে না, যেমন ধরুন এই ভিডিওটি:

ভিডিওর ক্যাপশান,

ডাচ প্রধান মন্ত্রী মার্ক রুতে সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি নিজেই এবার পার্লামেন্ট পরিষ্কার করবেন

নিয়মিত কলাম লেখক মালবী গুপ্ত'র জন্য ছোট প্রশংসা বানী নিয়ে এসেছেন বরিশাল থেকে মাহবুব হক:

''ধন্যবাদ,মালবী গুপ্তকে তাঁর গণতন্ত্রের উৎসব নামে বাস্তব সত্য অপ্রিয় কথা ব্যক্ত করার জন্য। মনে হয়েছে আমার মনের কষ্টই আপনি তুলে ধরেছেন। অব্যাহত চলুক, বিবিসিকে ধন্যবাদ।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ হক। মালবী গুপ্ত এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন যেটা আগামী দিনগুলোতে আরো জটিল হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ভারতে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসবে, ততই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে আধিপত্যের লড়াই হিংসাত্মক রূপ নেবার আশংকা রয়েছে।

এবার ফিরে যাবে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। তবে পত্রলেখক নীলফামারীর লোক হলেও, বর্তমানে রাউজানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন। কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:

''সেই ছোট বেলা থেকে আব্বুর মাধ্যমে বিবিসি বাংলার সাথে পরিচয়। অনেক বছর পেরিয়ে গেলো। আজ আমি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার জন্যই সৈয়দপুর থেকে চট্টগ্রাম আসা। এখানে প্রথম যেদিন এসেছিলাম তখন ভেবেছিলাম যে, হয়তো আব্বুর মত একসঙ্গে বসে বিবিসি বাংলার খবর শোনার মত আর কাউকে পাব না। বিবিসি-প্রিয় মানুষ এখানে আর পাব না।

''কিন্তু আমি যে কতটা ভুল ছিলাম তার প্রমাণটা যেন রাতেই তৈরি রাখা ছিল। সেদিন রাতের বেলা প্রত্যেক হল থেকেই ভেসে আসতে লাগলো বিবিসি বাংলার শুরুর সেই মধুর শুর। পড়াশুনার পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান ও বৈশ্বিক খবরাখবর জানার জন্য এখানকার সবাই কতটা বিবিসি-নির্ভর তা মনে হয় ব্যক্ত করা কঠিন। এই বিশ্ববিদ্যালয়েও আমার মত এত বিবিসি পাগল মানুষ পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত।''

আপনি যেহেতু প্রথম বর্ষের ছাত্র, তাই আমি ধরে নিচ্ছি আপনার এই অভিজ্ঞতা সাম্প্রতিক? তাহলে এটা অত্যন্ত সুখবর যে বিবিসি বাংলা তরুণদের বৈশ্বিক জ্ঞানের চাহিদা মেটাতে পারছে। তবে শুধু রেডিও নয়, আশা করি আপনারা বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহ এবং ক্লিকও উপভোগ করছেন এবং আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ঢুঁ মারছেন।

প্রীতিভাজনেষু রেডিওতে ফিরেয়ে আনার ব্যাপারে আবারো লিখেছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে তারিফ হাসান:

''শ্রোতাদের মতামত নিয়ে, বিবিসি বাংলার চিঠি পত্রের জবাবের অনুষ্ঠান প্রীতিভাজনেষু এর উন্নয়নের জন্য, বেশ কয়েক সপ্তাহ যাবত বিবিসি বাংলাকে উদ্দেশ্য করে পত্র লিখলেও তেমন কোনো জবাব বিবিসি বাংলার কাছ থেকে পাচ্ছি না। তবে, আমার মনে প্রশ্ন জাগে, রেডিও তে প্রচার বিষয়ে এটির কি আর কোনো উন্নয়ন হবেই না।''

জবাব যে দেয়া হয়নি, সেকথা ঠিক না মিঃ হাসান। জবাব দিয়েছি, একাধিকবার, কয়েকজন শ্রোতার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে। রেডিওতে প্রীতিভাজনেষু দেবার জায়গা নেই, এটা হলো প্রথম কথা। দ্বিতীয়ত, ১০ মিনিটের অনুষ্ঠান না করে ৫ মিনিট করে দু'দিন দেবার কথা আমরা বিবেচনা করছি। কিন্তু সেখানে সংবাদ এবং সাময়িক প্রসঙ্গের জন্য দু'দিন জায়গা কমে যাবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শ্রোতারা কী সাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে রিপোর্ট, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি শুনতে বিবিসি বাংলা রেডিও শোনেন, নাকি প্রীতিভাজনেষু শোনার জন্য? প্রশ্নটা রাখছি, কারণ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রেডিওতে প্রীতিভাজনেষু ফিরিয়ে আনা মানেই হবে সংবাদ এবং সাময়িক প্রসঙ্গ কমিয়ে দেয়া।

সব শেষে, দুটি রেডিও অনুষ্ঠান বন্ধ হওয়া নিয়ে এখনো বিরক্ত রংপুরের বিলকিছ আক্তার:

''ঠিক আগের মত নিয়ম করে আর বিবিসি বাংলা শোনা হচ্ছে না আমার! কারণ হিসেবে বলতে পারি, বিবিসি'র সকাল সাড়ে ৭ টার প্রত্যুষা কিংবা সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার প্রবাহর কথাই বলুন না কেন, কেন জানি দুটি অধিবেশন বন্ধের পর থেকে এই খবরগুলোকে আমার কাছে অনেকটা বাসি মনে হয়। কারণ বিবিসির আগেই অন্য কোন না কোন মাধ্যম থেকে খবরগুলো আগেই পেয়ে যাচ্ছি বোধহয়।

''শুধু আমার নয়, আমি অনেকের সাথে কথা বলে বিষয়টি জেনেছি, তাদেরও একই অবস্থা। আমার মনে হয় বর্তমান বিবিসির প্রতি আমরা আস্থার সংকটে ভুগছি, আর তা থেকেই বোধহয় এমনটি হচ্ছে!''

বিষয়টি বেশ জটিলই মনে হচ্ছে মিস আক্তার। আস্থার সংকট হবে তখন, যখন প্রচারিত খবরের সততা বা নিরপেক্ষতা নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন আসবে। সেটা কি হয়েছে? আর, তার সাথে অধিবেশনের সংখ্যা কমিয়ে আনার সম্পর্ক কী? তাছাড়া, সকাল সাড়ে সাতটার প্রত্যুষার আগে আপনি বাংলাদেশে কোন সূত্র থেকে সব খবর জেনে নিচ্ছেন, তা আমি বুঝতে পারছিনা।

বাংলাদেশ বেতার সাতটায় খবর প্রচার করে ঠিকই, কিন্তু তার সাথে আমাদের অনুষ্ঠানের অনেক পার্থক্য। আর সন্ধ্যায় তো আমাদের শেষ অধিবেশন বন্ধ করা হয়েছে - যেটা অনেকেই বাসি খবর মনে করতেন। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার প্রবাহ কেন বাসি মনে হবে? আগেও তো এই সময়েই বিবিসি শুনতেন? বুঝতেই পারছেন ,আপনার যুক্তির সাথে আমি মোটেও একমত হতে পারলাম না!

যাদের মেইল পেয়েছি কিন্তু আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা গেলা না, তাদের কয়েকজনের নাম এখানে উল্লেখ করছি:

এম সবুজ মাহমুদ,মাদারগঞ্জ, জামালপুর

জুয়েল সাহা, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

আব্দুল কাদের, ভালুকা , ময়মনসিংহ

কুমুদ চন্দ্র রায়, দিনাজপুর বাংলাদেশ।

সাখাওয়াত হোসেন বিদ্যুৎ, খড়িখালী, ঝিনাইদহ

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড় গোপালগঞ্জ

জুনাইদ আল হাবিব, লক্ষ্মীপুর।

মনির হোসেন, জলঢাকা, নীলফামারী।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা:

ইমেইল: bengali@bbc.co.uk

টুইটার: https://twitter.com/bbcbangla