বিশ্বকাপ ২০১৮: দন্ত চিকিৎসক, রাজনীতিক, পরিচালক: আইসল্যান্ডের ফুটবল দলের সাফল্যের নায়কেরা

আইসল্যান্ডের জনসংখ্যা মাত্র তিন লাখ ৩৫ হাজার। কিন্তু ফুটবলে তাদের সাফল্য বিস্ময়কর। ছবির কপিরাইট HALLDOR KOLBEINS
Image caption আইসল্যান্ডের জনসংখ্যা মাত্র তিন লাখ ৩৫ হাজার। কিন্তু ফুটবলে তাদের সাফল্য বিস্ময়কর।

জনসংখ্যার বিচারে আইসল্যান্ড হচ্ছে ক্ষুদ্রতম দেশ, যারা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু তারপরও লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মত পরাক্রমশালী প্রতিপক্ষকে তারা ১-১ গোলে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

কীভাবে এটা সম্ভব হলো? ফুটবলের মান উন্নয়নে আইসল্যান্ড চেষ্টা শুরু অতি সাম্প্রতিক কালে। মাত্র তিন লাখ ৩৪ হাজার ২৫২ জন মানুষের এই দেশটির ফুটবল দলে আছে অবশ্য বিচিত্র সব চরিত্র। বিশ্বকাপে যে ইতিহাস তারা তৈরি করেছে, এরাই তার নেপথ্য নায়ক:

পরিচালক: হ্যানস হ্যালডরসন

ছবির কপিরাইট Clive Rose
Image caption হ্যানস হ্যালডরসন

মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়ে হ্যানস এখন আইসল্যান্ডের নতুন জাতীয় বীর।

কিন্তু গোলপোস্টে বল ঠেকানোই হ্যানসের একমাত্র কাজ নয়।

তিনি একজন পরিচালকও বটে। তিনি অভিনেতাদের নির্দেশনা দেন। ২০১২ সালের ইউরোভিশন সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় আইসল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে যে মিউজিক ভিডিও, সেটির পরিচালক তিনি।

যে ফিল্ম কোম্পানিতে তিনি কাজ করেন, নরওয়ের সেই 'সাগাফিল্ম' জানিয়েছে, ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে তিনি পুরনো চাকুরিতে ফিরে যেতে পারেন।

রাজনীতিক: রুরিক গিসলাসন

ছবির কপিরাইট Matthias Hangst
Image caption রুরিক গিসলাসন

মিশরের স্ট্রাইকার মো সালাহ অপ্রত্যাশিতভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। কারণ দশ লাখের বেশি ভোটার ব্যালট পেপারে তার নাম লিখে তাকেই ভোট দিয়েছিল।

কোন নির্বাচনে ফুটবলার বা সেলিব্রেটিকে টেনে আনার ইতিহাস অবশ্য পুরোনো। ডাচ ভাষায় তো এর জন্য একটা শব্দই তৈরি হয়ে গেছে।

ইউরো ২০১৬-তে আইসল্যান্ডের সাফল্যের পর মিডফিল্ডার রুরিক এতটাই খ্যাতিম্যান হয়ে উঠলেন যে রেকিয়াভিক সাউথ আসনে দক্ষিণপন্থী ইন্ডিপেনডেন্স পার্টি থেকে তাকে পর পর দুটি নির্বাচনে প্রার্থী করা হলো। তবে মো সালাহ'র সঙ্গে তার ঘটনার তফাৎ আছে। তার সম্মতি নিয়েই তাকে প্রার্থী করা হয়েছিল। তবে তার কোন পরিকল্পনা ছিল না নির্বাচনে জিতলে পার্লামেন্টে আসন নেয়ার। কারণ তিনি ফুটবল খেলেন জার্মানিতে।

ফুটবল পরিবার: আলবার্ট গুডমুন্ডসন

ছবির কপিরাইট Gabriel Rossi
Image caption আলবার্ট গুডমুন্ডসন

২০১৬ সালের ইউরো কাপের সময় আইসল্যান্ডের একজন মানুষ খুব বিখ্যাত হয়ে গেলেন, অন্তত তার কন্ঠের জন্য। তিনি আইসল্যান্ডের ফুটবল ধারাভাষ্যকার গুডমুন্ডুর বেনেডিক্টসন।

যেভাবে উত্তেজিত ভাষায় তিনি গোলের ধারাভাষ্য দিতেন, ভাষা বুঝুক আর না বুঝুক, সেটি সারা দুনিয়ার মানুষ শুনে দারুণ মজা পেয়েছিল। বেনেডিক্টের গলায় যে উত্তেজনা, সেটি বুঝতে এক বিন্দু আইসল্যান্ডিক ভাষা জানার দরকার নেই আসলে।

এই বেনেডিক্টের ছেলেই হচ্ছেন আইসল্যান্ড দলের আরেক তারকা আলবার্ট গুডমুন্ডসন। তবে তাদের পারিবারিক ফুটবল ঐতিহ্যের গল্প কেবল এটুকুতেই শেষ নয়। আলবার্টের মাও একজন সাবেক ফুটবল খেলোয়াড়। আর আলবার্টের নানা ছিলেন আরেক নামী ফুটবল খেলোয়াড়, যিনি আইসল্যান্ডের টপ ডিভিশন ফুটবলে ১৯৮৭ সাল হতে ২০১২ সাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডধারী। আর আলবার্টের প্রপিতামহ, যার নামও আলবার্ট, তিনি ছিলেন দেশটির প্রথম পেশাদার ফুটবলার। যিনি ১৯৪০ এর দশকে আর্সেনাল আর এসি মিলানের মতো দলে খেলেছেন।

দন্ত চিকিৎসক: হেইমির হ্যালগ্রিমসন

ছবির কপিরাইট Matthias Hangst
Image caption হেইমির হ্যালগ্রিমসন

জাতীয় দলের ম্যানেজার হওয়ার আগে বহু বছর দাঁতের ডাক্তার ছিলেন হেইমির হ্যালগ্রিমসন। দেশটির প্রথম মহিলা ফুটবল দলের ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন ১৯৯০ এর দশকে। তবে তখনো পাশাপাশি দন্ত চিকিৎসকের কাজও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে এটাই তার পেশায় পরিণত হলো। ২০১১ সালে পুরুষ জাতীয় দলের সহকারী ম্যানেজার হলেন। ২০১৬ সালে পুরোপুরি ম্যানেজারের দায়িত্ব পেলেন।

বেকারি মালিকের ভাই: কোলবেইন সাইথরসন

ছবির কপিরাইট Laurence Griffiths
Image caption কোলবেইন সাইথরসন

যদিও বিশ্বকাপের চুড়ান্ত স্কোয়াডে তার জায়গা হয়নি, তারপরও কোলবেইন এবং তার ভাইয়ের নাম উল্লেখ না করাটা লজ্জার ব্যাপার হবে। ২০১৬ সালের ইউরো কাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক দ্বিতীয় গোলটি কিন্তু কোলবেইনের করা। আর আন্দ্রেই এখন তারই ফুটবল এজেন্ট। একসময় আন্দ্রেই নিজেও দুর্দান্ত ফুটবল খেলতেন, কিন্তু বাস্তবে সেরকম সাফল্য পাননি। আন্দ্রে তাদের পারিবারিক ব্যবসা, রুটি তৈরির বেকারি দেখাশোনা করেন।