যে কারণে রাজাকারদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার 'ঘৃণা-স্তম্ভ' নির্মাণের পরিকল্পনা করছে

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় একটি চিত্র প্রদর্শনী। ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় একটি চিত্র প্রদর্শনী (ফাইল ফটো)।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরোধিতা করেছে এবং যারা হত্যা, ধর্ষণ, লুঠপাটসহ নানা ধরনের অপরাধে সাথে জড়িত ছিল তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের জন্য একটি 'ঘৃণা-স্তম্ভ' নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বিবিসিকে জানান, এই ঘৃণা-স্তম্ভ তৈরির প্রশ্নে ইতোমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি স্তম্ভের নকশার জন্য একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে, যার মধ্য দিয়ে সেরা নকশাটিকে বাছাই করা হবে।

অগাস্টের মধ্যে এই ঘৃণা-স্তম্ভের নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

"মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানানোর তাগিদ থেকেই এই ঘৃণা-স্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে।"

রাজধানী ঢাকার কোন এক জায়গায় এই ঘৃণা-স্তম্ভটিকে স্থাপন করা হবেন। তবে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও একই ধরনের স্তম্ভ নির্মাণ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

কিন্তু এই ঘৃণা-স্তম্ভের মধ্য দিয়ে সরকার কেন স্বাধীনতা-বিরোধীদের অমর করে রাখতে চাইছে, এই প্রশ্নে জবাবে আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বলছেন, যারা সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের জন্মের বিরোধিতা করেছে, তারা এখনও সক্রিয়।

আরও দেখুন:

খুন, সংঘর্ষের জেরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা

নেতা হবে ছেলে, তাই নাম ঠিক করতে পরিবারের ভোট

Image caption আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ।

বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন নেতৃত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে মি. হক বলেন, "তারা নানা ধরনের দুষ্কর্ম করেছে, খুন-জখম, লুঠপাট করেছে, মানুষের ঘরে আগুন দিয়েছে। নারী ধর্ষণ করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা এনিয়ে কোন অনুশোচনা প্রকাশ করেনি।"

"তারা বলুক তারা অনুতপ্ত। তারা বলুক বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি তারা অনুগত।"

তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর এসব মন্তব্যের বিষয়ে জামায়াতের কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

ওদিকে একই বিষয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাজাকারদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বেসরকারিভাবে জনগণের কাজে লাগানোর কোনও পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর