অভিবাসন প্রশ্নে ইউরোপে বিদ্রোহ, ভিন্ন মহাদেশে আশ্রয় শিবির তৈরির চিন্তা

আফ্রিকা থেকে অবৈধ অভিবাসীদের নৌকা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপ ছবির কপিরাইট AFP
Image caption আফ্রিকা থেকে অবৈধ অভিবাসীদের নৌকা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অভিবাসনের ব্যাপারটি বহু বছর ধরেই এক বিষাক্ত ইস্যু। কিন্তু এখন ক্রমশ এই ইস্যুকে ঘিরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে বৃহত্তর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে।

আশ্রয়প্রার্থীদের জায়গা দিতে একের পর এক সদস্য দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত মানতে খোলাখুলি অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে অভিবাসন বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার দিমিত্রিস আভরামোপালাস স্বীকার করেছেন, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদনের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ইউরোপের বাইরে অন্য কোনো দেশের রাখার সম্ভাবনা খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

যারা স্থলপথে বা নৌপথে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঢোকার চেষ্টা করবে, তাদেরকে পথে থামিয়ে অন্য কোন দেশে আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা যায় কিনা, সেটা বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি জানিয়েছেন, আলজেরিয়া, মরক্কো, লিবিয়া, এবং মিশরের সঙ্গে তারা এধরণের আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে কথা বলেছিলেন, কিন্তু কেউ এখনো রাজী হয়নি।

অস্ট্রেলিয়া বেশ ক'বছর ধরে এই নীতি অনুসরণ করছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

মি আভরামোপালাস অবশ্য বলছেন, তারা জেনেভা কনভেনশন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইনকানুন মেনেই এই কাজ করতে চাইছেন, তারা শরণার্থীদের জন্য কোন 'গুয়ানতানামো শিবির' তৈরি করতে চান না।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption অভিবাসী আটকাতে দেয়াল তুলেছে হাঙ্গেরি।

আরও পড়ুন:

'পাসপোর্ট পেতে হলে হিন্দু হয়ে যান'

নতুন মাদক আইন: টার্গেট গডফাদার-সিন্ডিকেট

কেন অন্য দেশে আশ্রয় শিবিরের চিন্তা?

ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইউরোপের বাইরে আশ্রয় শিবির করার কথা ভাবতে হচ্ছে, কারণ একের পর এক দেশ অভিবাসন প্রসঙ্গে বিদ্রোহীর মত আচরণ করছে।

গত সপ্তাহে ইটালির নতুন সরকার বহু অনুরোধ উপরোধের পরও সাগর থেকে উদ্ধার করা ৬,০০০ আফ্রিকান অভিবাসী বহনকারী জাহাজ তীরে ভিড়তে দেয়নি। তারা বলে দিয়েছে, আর আশ্রয়প্রার্থীকে তারা জায়গা দেবেনা।

অভিবাসন প্রশ্নে রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১০ টি দেশ ব্রাসেলসে একটি জরুরী বৈঠককে বসছে। কিন্তু ইটালির নতুন সরকার বলে দিয়েছে, তাদের উদ্বেগ প্রতিফলিত না হলে, কোনো চুক্তিতে সই করা হবেনা।

ইটালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি টুইট করেছেন, "ব্রাসেলসে গিয়ে যদি ফ্রান্স এবং জার্মানির তৈরি করা চুক্তি আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ ব্রাসেলসে যাওয়ার খরচ বাঁচানো।"

হাঙ্গেরি বুধবার নতুন এক আইন করেছে যাতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সমর্থনে যে কোনো তৎপরতা অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে।

হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড আর চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলো, যাদের সঙ্গে এখন যোগ দিয়েছে অস্ট্রিয়া আর ইটালিতে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার, এঙ্গেলা মেরকেলের নেতৃত্বে জার্মানি আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসনের ব্যাপারে এতদিন পর্যন্ত যে উদারনীতি অনুসরণ করে এসেছে, তার বিরুদ্ধে রীতিমত বিদ্রোহ করেছে।

এই পাঁচটি দেশ দেশ আজ (বৃহস্পতিবার) হাঙ্গেরিতে একটি বৈঠকে বসছে তাদের কৌশল ঠিক করতে।

জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মেরকেল এরই মধ্যে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে তিনি এই সমস্যার একটি অভিন্ন ইউরোপীয় সমাধানের পক্ষে। প্রতিটি দেশ তার মতো করে ব্যবস্থা নিক, সেটা তিনি চান না।

বুধবার এক অনুষ্ঠানে এঙ্গেলা মেরকেল বলেন - যুদ্ধ আর সন্ত্রাস থেকে বাঁচতে যারা পালাচ্ছে, তাদের রক্ষায় যে মানবিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য, সেটার পক্ষে ইউরোপীয় আছে থাকবে, কিন্তু একই সঙ্গে ইউরোপীয় ঐক্য ধরে রাখার দায়িত্বও পালন করতে হবে।

"অভিবাসন একটি ইউরোপীয় চ্যালেঞ্জ, হয়তো এই মূহুর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এবং এই চ্যালেঞ্জের মুখে ইউরোপকে এক রাখতে হবে।"

জুনের ২৮ তারিখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ বৈঠক রয়েছে। সন্দেহ নেই, অভিবাসনের নতুন কৌশল হবে এই বৈঠকের মূখ্য এজেন্ডা। কতটা ঐক্য মিসেস মেরকেল এই ইস্যুতে ধরে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে প্রবল সন্দেহ রয়েছে।