বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্যাটায়ার করা কি এখন কঠিন?

ঢাকার দৃক গ্যালারিতে শুরু রম্য ম্যাগাজিন উন্মাদের চল্লিশ বছর পূর্তি উদযাপন ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption ঢাকার দৃক গ্যালারিতে রম্য ম্যাগাজিন উন্মাদের ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন

বাংলাদেশের আশি ও নব্বই এর দশকজুড়ে দৈনিক পত্রিকা এবং রম্য ম্যাগাজিনে রাজনৈতিক স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গচিত্র হয়ে উঠেছিল এক অবশ্যম্ভাবী অংশ। খবরের পাশে আলোকচিত্রের সাথে প্রধান বিষয় ছিল রাজনৈতিক কার্টুন।

এখন সব জাতীয় দৈনিকের নিজেদের সাপ্তাহিক রম্য আয়োজন রয়েছে। কিন্তু আগের মত রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র এখন আর তেমন দেখা যায় না। এর কারণ কি?

রম্য ম্যাগাজিন উন্মাদ পত্রিকা, এবছর যার ৪০ বছর পূর্তি হয়েছে, তার সম্পাদক আহসান হাবীব বিবিসি বাংলাকে বলছেন, রাজনৈতিক স্যাটায়ার বা কার্টুন করা এখন কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

"রাজনৈতিক কার্টুন যারা আঁকেন, তারা এখনো আঁকছেন, কিন্তু সম্পাদকেরা সেটা প্রকাশ করছেন না। বাংলাদেশের সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনের আরেকটু রিল্যাক্স হওয়া দরকার," বলেন তিনি।

ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption কার্টুন প্রদর্শনী উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখছেন উন্মাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবীব

কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব বলেন, "যেমন ভারতের মোররজি দেশাই তাকে নিয়ে হওয়া কার্টুন বোর্ডে টাঙিয়ে রাখতেন, ওখান থেকে তিনি শিক্ষা নিতেন।"

"আবার কার্টুনিস্টেরও দায়িত্ব আছে, ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যাবে না। এমন চিত্র করা যাবে না যাতে যার ছবি আঁকলেন সে ক্ষেপে গেল," বলেন তিনি।

সংবাদপত্রে স্যাটায়ার প্রকাশ নিয়ে যে কিছুটা চাপ রয়েছে, সেটা কিছুটা হলেও বোঝা যায় যখন বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত কার্টুনিস্ট এবং একজন সম্পাদক এবিষয়ে বিবিসির সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption সাংবাদিক আবেদ খান

এরশাদ সরকারের আমলে নানা ধরনের রাজনৈতিক কার্টুন প্রকাশিত হতো পত্রপত্রিকায়। সেই ধারাবাহিকতা চালু ছিল বেশ কয়েক বছর। কিন্তু বর্তমানে সংবাদপত্রে রাজনৈতিক স্যাটায়ার কমে যাবার পেছনে কারণ কি?

সাংবাদিক আবেদ খান বলছেন, এখন সেলফ সেন্সরশিপ বেড়ে যাওয়া এর একটি বড় কারণ।

তিনি বলেন, "মানুষের মধ্যে একটা ধারণা হয়েছে যে এখানে বোধ হয় খুব চাপ আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না সেটা আছে। সমস্যা হলো এখন সেলফ সেন্সরশিপ বেড়ে গেছে।"

"কিন্তু সুকুমার রায় যখন ননসেন্স ক্লাব করতেন তখনো চাপ ছিল। বাংলাদেশে চাপ তো আগেও ছিল, এরশাদ সরকারের সময় বা জিয়ার আমলে চাপ ছিল না? অনেক চাপ ছিল। কিন্তু তারমধ্যে লোকে একটু একটু করে করেছে, কারণ তখন ভোগবাদী চিন্তা অতটা ছিল না," বলেন মি. খান।

ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption কার্টুনিস্ট নাসরিন সুলতানা মিতু

উন্মাদকে বলা হয় বাংলাদেশে প্রকাশিত ও দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা রম্য ম্যাগাজিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো।

মে মাসে ম্যাগাজিনটি পূর্ণ করেছে প্রকাশের ৪০ বছর, কিন্তু সেই উদযাপন তারা শুরু করেছে আজ, ঢাকার দৃক গ্যালারিতে।

সেখানে তরুণ ব্যঙ্গচিত্র আঁকিয়েদের অনেকে বলছিলেন, বাংলাদেশে কার্টুন আঁকাকে প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নেয়া এখন কঠিন।

"সেকারণে কাজের জন্য সমালোচনা হতে পারে ভেবে সতর্ক থাকেন অনেকেই," বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কার্টুনিস্ট নাসরিন সুলতানা মিতু

ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption প্রদর্শনী চলবে ৯ই জুলাই পর্যন্ত

"কার্টুন করা এখনো খুব অফ-ট্র্যাকের একটি পেশা, ফলে অল্প কিছু লোক আছে এ সেক্টরে। আমি রানা প্লাজা ঘটনার পর একটি কার্টুন করেছিলাম, জিন্সের ওপর রক্তের ছাপ। সেটার জন্য কর্পোরেট হাউজসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে খুব চাপের মধ্যে ছিলাম। খুব খারাপ সময় গেছে তখন," বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে কার্টুনভিত্তিক রম্য পত্রিকা ম্যাডের আদলে ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল উন্মাদ।

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর