পশ্চিমা ক্লাসিক্যাল মিউজিক গানার অর্কেস্ট্রাতে

'আক্রা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার একজন শিল্পী

ছবির উৎস, বিবিসি

ছবির ক্যাপশান,

'আক্রা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার একজন শিল্পী

পশ্চিমা ক্লাসিক্যাল মিউজিককে নতুন আঙ্গিকে তুলে আনছে 'আক্রা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা'।

তারা আশা করছে নতুন প্রজন্মের কাছে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে পারবে।

বিবিসির সংবাদদাতা গিয়েছিলেন কিভাবে 'আক্রা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা' দর্শকদের মন জয় করছে কাদের আফ্রিকান এবং পশ্চিমা ক্লাসিক্যাল আর্ট ফরম দিয়ে।

'আক্রা সিম্ফনি অকের্স্টা'র শিল্পীরা পশ্চিমা ক্লাসিক্যাল মিউজিকের সাথে আফ্রিকান গানের মিশেলে ফিউশন পরিবেশন করছেন।

পিছনে লাইভ স্ক্রিনে লেখা রয়েছে লিভ ইন পেইন। 'আক্রা সিম্ফনি অকের্স্টা' বর্তমানে গানার একমাত্র ব্যক্তিগত ভাবে গড়ে তোলা অর্কেস্ট্রার দল।

ছবির উৎস, বিবিসি

ছবির ক্যাপশান,

স্টেজে পারফর্ম করছে তারা

এই দলের মিউজিক পরিচালক বেনেডিকটাস বলছিলেন " অর্কেস্ট্রার প্রত্যেকটা স্তরের সন্নিবেশ করা হয়েছে এখানে। আমাদের সব ধরণের মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট আছে।

'আক্রা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা'র সবচেয়ে যে কারণে স্বতন্ত্র সেটা হল আফ্রিকান মিউজিকের সাথে পশ্চিমা ক্লাসিক্যাল আর্ট ফর্মের সাথে একটা ফিউশন তৈরি করতে পেরেছে।

বেনেডিকটাস বলছিলেন, "আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুধু চর্চা করি যাতে করে স্টেজে পারফর্ম করার সময় সবকিছু একদম পারফেক্ট হয় যেসব গান আমরা করি সেগুলো বেশির ভাগই পুরনো গান, আর সেই পুরনো গান যেগুলো মানুষজন এখনো শোনে। আবার অন্য অর্কেস্ট্রা যারা আগেই মিউজিকগুলো পরিবেশন করে ফেলেছে এমন কিছু থাকে।অর্থাৎ মূলত গানের প্রতি এটা আমার একটা ব্যক্তিগত অভিমত"।

এখানে যারা শিখতে আসছে বা আগ্রহ প্রকাশ করছে তারা বেশির ভাগই নতুন প্রজন্মের কারণ তারা ফাইনালি একটা সুযোগ পাচ্ছে দেখানোর যে অন্যদের সাহায্য ছাড়ায় তারা কি করতে পারে।

অনেকেই তাদের তিরস্কার করেছে, বলেছে এত কিছু থাকতে কেন তারা এসব করে সময় নষ্ট করছে।

অর্কেস্ট্রা দলের একজন ভায়োলিন বাদক এভারলিন হারিস বলছিলেন " আমি আশা করি একদিন আমি বিশ্বসেরা ভায়োলিন বাদকদের মধ্যে একজন হতে পারবো। লন্ডনের ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা দলের সাথে হয়ত কোন দিন একই অনুষ্ঠানে ভায়োলিন বাজাবো"

'আক্রা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা' মনে করে এখন পর্যন্ত অনেক মানুষের কাছেই তারা এই ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ধারাকে পৌছে দিতে পেরেছে।

মানুষ এখন এই মিউজিকের ধারা কে ভালোবাসতে শুরু করেছে বলে তারা মনে করেন।

ড্যানিয়েল অ্যাকরঙ বলছিলেন "ছয় বছর হয়ে গেছে। এখন আমরা দেখতে পাই এর যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তারা এখন অপেরার সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে, তারা এখন বুঝতে শুরু করেছে অপেরার সব বিষয় সম্পর্কে"।

সবকিছু যখন ভালই চলছে তখনো তাদের রয়েছে চ্যালেঞ্জ।

চ্যালেঞ্জটা হল, মানুষজন মনে করছে ক্লাসিক্যাল মিউজিক পশ্চিমা সংস্কৃতি এবং আফ্রিকার সংস্কৃতির অংশ নয়।

পরিচালক বেনেডিকটাস বলছিলেন, "আমরা চেষ্টা করছি এটাকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে যেতে। কিন্তু আফ্রিকান মিউজিকের যারা নতুন ভার্সন করছে এবং গান করছে , তারা এটা করছে আফ্রিকান এবং পশ্চিমা যন্ত্র ব্যবহার করে"।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: