ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮: বারবার রক্তাক্ত হয়েছে সেন্ট পিটার্সবার্গের যে গীর্জা

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
বারবার রক্তাক্ত হয়েছে সেন্ট পিটার্সবার্গের যে গীর্জা

সেন্ট পিটার্সবার্গের অন্যতম বড় ট্যুরিস্ট স্পট 'চার্চ অন দা স্যাভিওর অফ স্পিল্ড ব্লাড'। আর এর পাশে ফিফা ফ্যান জোন।

আর এই গির্জা ঘুরতে এসে এক ব্রাজিলীয় দর্শনার্থীর মন্তব্য হলো 'ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শোক, এখানে তিন ধরণের অনুভব হচ্ছে'।

এবারের বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশেই তৈরি করা হয়েছে ফিফা ফ্যানজোন।

সেন্ট পিটার্সবার্গের ফিফা ফ্যান জোনের ঠিক সামনেই দেখা যায় সুরম্য এই গীর্জা। লম্বা লাইন ধরে ঢুকছেন বিভিন্ন দেশ থেকে আগত দর্শনার্থীরা।

জনপ্রতি ২৫০ রুবলের প্রবেশমূল্য এই গীর্জায়। যেই অর্থের বড় অংশ এর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়ে আসছে।

মূলত গীর্জা হলেও, এটি এখন ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে ঠায় দাঁড়িয়ে।

রাশিয়ান সম্রাট দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৫৫ সালে ক্ষমতা পান। তার ঠিক ২৬ বছর পর তাকে মেরে ফেলা হয়।

এই সম্রাটের সমাধিস্থলই এখানকার মূল।

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption ১৯৩০ সালে সোভিয়েত সরকার গীর্জাটি বন্ধ করে দেয় এবং সংস্কার করে।

মৃতদেহ যেখানে সমাহিত সেখানে সেখানে পাথুর দিয়ে ঢেকে দেয়া। এই পাথর কোলিভান গ্রাইন্ডিং ফ্যাক্টরি ও একাটেরিনবার্গ ও পেটারহফ ল্যাপিডারিতে তৈরি।

ইউরাল, আল্টাইরোডোনাইট, জ্যাসপার ও সেরপেন্টাইব পাথর থেকে নেয়া হয়েছে এগুলো।

এই সমাধিসৌধ তার স্মরণে তৈরি করেছেন উত্তরাধিকারী তৃতীয় আলেকজান্ডার।

১৮১৮ সালে মস্কোর ক্রেমলিনে জন্ম নেয়া দ্বিতীয় আলেকজান্ডার, ১৮৮১ সালে মারা যান আততায়ীর হাতে, সেন্ট পিটার্সবার্গের উইন্টার প্যালেসে।

দ্বিতীয় আলেকজান্ডার পোল্যান্ডেরও রাজা ছিলেন।

রাশিয়ার সম্রাট দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের সমাধিস্থলের দুটি ভাগ, গীর্জার মূল প্রান্ত আলাদা হয়েছে ইতালিয়ান মার্বেল পাথরে, যা ইতালির জেনোয়া থেকে তৈরি হয়ে এসেছে।

দেয়ালজুড়ে জিশু ও মেরীর চিত্র, যা মোজাইকে তৈরি।

তৃতীয় আলেকজান্ডার গীর্জাটি প্রথাগত রাশিয়ান কায়দাত তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।যাতে সেন্ট পিটার্সবার্গের যে পাশ্চাত্য ভাব তা থেকে বিরত থাকা যায়।

সেন্ট পিটার্সবার্গের অন্যান্য ভবনের মতো ধূসর না এটি, বরং এর বাহিরটা বিভিন্ন রঙের। যা মস্কোর ক্রেমলিনে দেখা গেছে।

এর কাজ শুরু হয় ১৮৮৩ সালে, শেষ হয় ১৯০৭ সালে।

তখন ক্ষমতায় ছিলেন রাজা দ্বিতীয় নিকোলাস।

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption দেয়ালজুড়ে জিশু ও মেরীর চিত্র, যা মোজাইকে তৈরি।

এই গীর্জার প্রায় ৮০০০ বর্গমিটার জুড়ে মোজাইক করা। রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত এক নারী বলেন, পৃথিবীর অন্য যে কোনো গীর্জার চেয়ে বেশি মোজাইক এই গীর্জায়।

মোজাইক দিয়ে বাইবেলের নানা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

১৯৩০ সালে সোভিয়েত সরকার গীর্জাটি বন্ধ করে দেয় এবং সংস্কার করে।

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই গীর্জার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

জার্মান সৈন্যদের লেনিনগ্রাদ দখলের সময় বেশ বড় রকম ধাক্কা খায় এই গীর্জা।

এখনো একটি দরজা ভাঙা আছে, সেখানে একটি বাক্সে অর্থ তোলা হচ্ছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ভারমুক্ত ক্রোয়েশিয়া নাকি দুর্বার ফ্রান্স?

'আমি ছিলাম বিশ্বকাপের হানি শট'

'নারী, মদ, ভাস্কর্য সব দারুণ, দারুণ আয়োজন রাশিয়ার'

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption এই গীর্জার প্রায় ৮০০০ বর্গমিটার জুড়ে মোজাইক করা

সম্পর্কিত বিষয়