ভ্যাট ফাঁকি রোধে নতুন কি পরিকল্পনা করছে রাজস্ব বোর্ড?

ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা ছবির কপিরাইট এনবিআর
Image caption ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা

বাংলাদেশের রাজস্ব বোর্ড বলছে, ভ্যাট আদায়ে ফাঁকি রোধে খুব শিগগিরই ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস বা ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

দেশটিতে গত পাঁচ বছরে যত রাজস্ব আহরিত হয়েছে তার প্রায় ৭৫ ভাগই এসেছে ভ্যাট আর আয়কর থেকে।

যদিও ভ্যাটের আওতা ক্রমশ: বাড়ানো নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে, আবার ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার ব্যাপক প্রবণতাও রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বলছেন, অনেকেই ভোক্তাদের কাছ থেকে ঠিকই ভ্যাট আদায় করছেন - কিন্তু সেটি সরকারকে দেন না।

এজন্য ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন এবং লেনদেনে প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption ঢাকার রেস্তোরাঁসহ বেশ কিছু খাত থেকে প্রত্যাশা মতো ভ্যাট আসছে না, বলছে এনবিআর

ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা যায়, দেশী-বিদেশী অনেকেই খাবার খাচ্ছেন।

মূলত বিদেশী খাবার খেতে এখানে ভীড় করেন অনেকে।

নিয়মানুযায়ী খাবারের বিলের সাথে পনের শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যোগ করেন তারা। কিন্তু ভোক্তার কাছ থেকে নেয়া এই ভ্যাট কি সরকারের কাছে পৌঁছায় ঠিকমতো?

জবাবে রেস্তোরাঁর কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, "তারা ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার ব্যবহার করেন। যা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভ্যাটের দৈনিক ও মাসিক হিসেব পাওয়া যায়। সেটিসহ মোট ভ্যাটের অর্থ তারা কর কর্মকর্তাদের দিয়ে থাকেন"।

আরও পড়ুন :

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অনলাইনে ক্রয়ে ভ্যাট বসবে না

বাজেটের ভ্যাট প্রস্তাব থেকে সরকারের ইউটার্ন

ছবির কপিরাইট জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
Image caption গত পাঁচ বছরের রাজস্বের প্রবণতা

এই রকম বহু রেস্তোরাঁ ঢাকার গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি কিংবা বেইলি রোড এলাকায় দেখা মেলে যেখানে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার ব্যবহার করে খাবারের মূল্যের রশিদ দেয়া হয় ক্রেতাদের।

কিন্তু এ ঢাকাতেই নামী দামী শপিং মলের ফুড কোর্ট গুলো সহ হাজার হাজার হোটেল রেস্তোরাঁই খাবার বিক্রির পর ক্রেতাকে কোন রশিদই দিতে চাননা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলছেন, ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে এটাই এখন বড় সমস্যা।

তিনি বলেন, "হোটেল-রেস্তোরাঁ ছাড়াও যাদের একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, তাদেরও অনেকে ঠিকমতো ভ্যাট দেননা। এজন্য ২৫ থেকে ৫০ ভাগ ভ্যাট আদায় হয়ে থাকে"।

তারপরেও চলতি অর্থ বছরের বাজেটেও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও আয়করের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় সমান।

আবার গত পাঁচ বছরেও যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে বাংলাদেশে, তার মধ্যে ভ্যাট থেকে এসেছে ৩৬ শতাংশ আর আয়কর থেকে এসেছে ৩৫ ভাগ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকার ভ্যাটের পাশাপাশি আয়কর আদায় হয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

ছবির কপিরাইট জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
Image caption পাঁচ বছরের রাজস্ব আদায়ের তুলনামূলক চিত্র

নতুন অর্থবছরেও ভ্যাটে প্রায় এক লাখ কোটি ও আয়কর খাতে প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বলছেন, লক্ষ্যমাত্রা যাই হোক - বাস্তবতা হলো দু'ক্ষেত্রেই রাজস্ব আদায় অনেক বাড়ানোর সুযোগ আছে।

তিনি বলেন, "আয়কর আদায়ের বৃদ্ধি ভ্যাট আদায়ের চেয়ে বেশি। গত কয়েক বছরে কর মেলার আয়োজন করা কিংবা কিছু নিয়মের পরিবর্তন এক্ষেত্রে ভুমিকা রেখেছে। এখন যেমন টিআইএন না হলে অনেক সেবা পাওয়া যায়না।"

"ইনকাম ট্যাক্সের ক্ষেত্রে সরকারের প্রচেষ্টা যত বেশি কার্যকর হয়েছে ভ্যাটের ক্ষেত্রে তা হয়নি। ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন না হওয়ায় এটা হয়েছে"।

ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়া বা পদ্ধতিগত দুর্বলতার কথা স্বীকার করেই রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলছেন, খুব দ্রুতই ইলেকট্রনিক লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন তারা।

ছবির কপিরাইট জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
Image caption ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বিবরনী

তিনি বলেন, "সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেনো ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস ক্রয় করে সেটি বাধ্যতামূলক করা হবে। এগুলো এনবিআরের কেন্দ্রীয় তথ্য ভান্ডারের সাথে সংযুক্ত থাকবে। তা হলে ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকবে না।"

পাশাপাশি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিত্তশালীদের এবং যারা স্থানীয় সরকার পর্যায়ে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকেন তাদের কিভাবে করের আওতায় আনা যায় - তা নিজেও কাজ চলছে বলে জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

থাই গুহায় আটকাপড়া ১৩ জনের সবাই বেরিয়ে এসেছে

বেলজিয়াম-ফ্রান্স: 'জিভে জল আসার মতো ম্যাচ হবে'

সম্পর্কিত বিষয়