নাইজেরিয়ায় নিরাপদ যৌনতার ক্যাম্পেইনে কী কাজে লাগছে বাহারি গিফট ব্যাগ?

এই ধরনের রঙচঙে ব্যাগে করেই এসটিআই টেস্ট কিট ও কন্ডোম পাঠানো হয় ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption এই ধরনের রঙচঙে ব্যাগে করেই এসটিআই টেস্ট কিট ও কন্ডোম পাঠানো হয়

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াতে যৌনতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার কোনও রেওয়াজ নেই, আর যারা তা বলেন তাদের সামাজিকভাবে বেশ হেয় হতে হয়।

কিন্তু সম্প্রতি একজন নারী শিল্পোদ্যোগী সে দেশে এমন এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে তরুণ-তরুণীরা নিরাপদ যৌনতার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারছেন।

সবচেয়ে বড় কথা, সেটা করা যাচ্ছে বেশ কম খরচে ও নিজেদের গোপনীয়তা সম্পূর্ণ বজায় রেখে।

কীভাবে তিনি সে কাজ করছেন আর কেমন সাড়া পাচ্ছেন, তা নিয়েই খোঁজ নিয়েছিলেন বিবিসির এমেলিয়া মার্টিন-হেমফিল।

নিরাপদ যৌনতার অভাবে সংক্রমণের ঘটনা, যাকে বলে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশনস বা এসটিআই, নাইজেরিয়াতে আকছার ঘটে - কিন্তু কীভাবে তা ঠেকাতে হবে দেশের বেশির ভাগ তরুণ-তরুণীর সে ব্যাপারে কোনও ধারণাই নেই।

ছবির কপিরাইট Slide Safe
Image caption স্লাইড সেফের বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেন

আমাদের পেজে আরও পড়তে পারেন :

পাকিস্তানে ভোট চলছে: ইমরান খানের সময় এসেছে?

নেদারল্যান্ডসে গর্ভবতী মাকে ভায়াগ্রা: প্রাণ গেলো ১১ নবজাতকের

থর মরুভূমিতে বিলাসবহুল টেন্ট

কিন্তু তারা যাতে নিজের ঘরে বসেই, কাউকে কিছু না জানিয়ে খুব সহজে পরীক্ষা করতে পারে তারা সংক্রামিত হয়েছে কি না, সেটাকেই যেন একটা মিশন হিসেবে নিয়েছেন ফ্লোরিডা উজুয়ারু। এ জন্য তিনি চালু করেছেন একটি অনলাইন কোম্পানি, স্লাইডসেফ।

"যৌনতা নিয়ে কথা বলাটা এদেশে অনেকের জন্যই বড় সমস্যা, কারণ বললে এখানে সামাজিক কলঙ্কের শিকার হতে হয়। কিন্তু যৌনতা তো আর আপনি বন্ধ করতে পারবেন না, কাজেই আমরা চাইছি সেটা যেন নিরাপদে ও বিপদমুক্তভাবে করা যায়।"

"যৌন সংক্রমণের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা চালিয়ে ও কনডোম ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এই নিরাপদ যৌনতাকেই উৎসাহিত দিচ্ছি", বলছিলেন মিস উজুয়ারু।

ফ্লোরিডা উজুয়ারুর সংস্থা গ্রাহকদের বাড়িতে বা অফিসে রঙিন গিফট ব্যাগে করে এসটিআই টেস্ট কিট বা জন্মনিরোধক পাঠানোর ব্যবস্থা করে - যা দেখে বাইরে থেকে কারও কিছু বোঝার উপায় থাকে না।

নাইজেরিয়াতে অন্তত ৩২ লক্ষ লোক এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে বেঁচে আছেন, কিন্তু জনসংখ্যার নব্বই শতাংশ জীবনে কখনও এইচআইভি টেস্টই করাননি।

কিন্তু স্লাইডসেফের পাঠানো কিট দিয়ে মানুষ খুব সহজেই হেপাটাইটিস-বি, এইচআইভি কিংবা সিফিলিসের মতো যৌনরোগ তার হয়েছে কি না সেই পরীক্ষা করতে পারেন - কোনও ডাক্তার বা নার্সের সাহায্য ছাড়াই।

ছবির কপিরাইট linkedin
Image caption ফ্লোরিডা উজুয়ারু

এ পর্যন্ত স্লাইডসেফ সাতশোরও বেশি কিট বিক্রি করেছে, যার দাম পাঁচ থেকে বিশ ডলারের মধ্যে। আনিকা (নাম পরিবর্তিত) ও তার বয়ফ্রেন্ডও নিজেদের পরীক্ষার জন্য ওই অনলাইন কোম্পানি থেকে কিট আনিয়েছেন।

আনিকার কথায়, "মেয়েদের আসলে এই বিষয়গুলো আসলে অত ভাল জানার কথাও না। তাই স্লাইডসেফের সবচেয়ে ভাল দিকটা হল তারা পুরো জিনিসটা গোপন রাখতে সাহায্য করে। নিজের ঘরের স্বাচ্ছন্দ্যে বসেই আপনি টেস্ট করতে পারছেন, অন্য কাউকে জড়ানোর দরকারই নেই। ওদের আর যে জিনিসটা আমার ভাল লাগে, তা হল ওরা সব সময় সাহায্য করতে তৈরি।"

ওই কোম্পানিতে কিছু অর্ডার করতে হলে আপনার আসল নাম দেওয়ারও দরকার নেই - শুধু একটা ফোন নাম্বারই যথেষ্ঠ।

সেখানেই হোয়াটসঅ্যাপ করে কোম্পানি জানিয়ে দেবে, কীভাবে কিট ব্যবহার করবেন - কিংবা পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলেই বা কী করতে হবে।

স্লাইডসেফের গ্রাহক ওমর (নাম পরিবর্তিত) বলছিলেন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাওয়ার চেয়ে এই পদ্ধতিটা কেন অনেক ভাল।

ছবির কপিরাইট স্লাইডসেফ
Image caption স্লাইডসেফের কিটবক্স

তার কথায়, "দিনের যে কোনও সময় আপনি ওদের সাহায্য চাইতে পারেন এই ব্যাপারটা আমার খুব ভাল লাগে। আর তা ছাড়া এখানে টেবিলের উল্টোদিকে বসে কেউ আপনাকে জাজও করছে না যে, এই লোকটা খুব খারাপ। আমি নিজে যেমন ফোন করার চেয়ে চ্যাট করাতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করি, আর সামনে কেউ বসে থাকলে তার কাছে আমি তো সহজই হতে পারবো না!"

ফ্লোরিডা উজুয়ারুও বলছিলেন তাদের অভিজ্ঞতা বলে বেশির ভাগ লোকই হাসপাতালে যেতে চান না কারণ সেখানকার কর্মীদের কাছ থেকে সংবেদনশীলতা আশা করা যায় না।

"ফলে আমাদের সংস্থা এ ব্যাপারে অতিরিক্ত সতর্ক থাকে যে গ্রাহকদের চরিত্রের ভালমন্দ যাতে কোনওভাবেই বিচার না করা হয় এবং আরও বেশি সংখ্যায় মানুষ এই পরিষেবা ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ বোধ করতে পারে।"

নাইজেরিয়াতে সমকামিতাও একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় - আর সমলিঙ্গের দম্পতিদের জন্যও সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাওয়া একরকম অসম্ভব। তাদের জীবনের নানা যৌন সমস্যার প্রতিকারেও খুবই কাজে আসছে এই স্লাইডসেফ।

সম্পর্কিত বিষয়