ভারতে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনার পর হোয়াটসএ্যাপে কড়াকড়ি

ভারত হোয়াটসএ্যাপ ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption হোয়াটসএ্যাপ কর্তৃপক্ষ ভারতের জন্য কিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছে

হোয়াটসঅ্যাপ বলছে, শুক্রবার থেকে তারা ভারতে তাদের মেসেজিং সার্ভিস ব্যবহারকারীদের জন্য এমন দুটি নতুন ফিচার যোগ করেছে - যার মাধ্যমে মেসেজ বা ছবি অথবা ভিডিও শেয়ার করা সীমিত করা যাবে।

ভারত সরকার হোয়াটসঅ্যাপকে জানিয়েছিল যে তাদের মেসেজিং সার্ভিস ব্যবহার করে যেভাবে ছেলেধরার গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা রোধ করতে যেন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর পর হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, কোনও মেসেজ বা ছবি একসঙ্গে ৫টির বেশি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে ফরোয়ার্ড করা যাবে না। চটজলদি ফরোয়ার্ড করে দেওয়া সীমিত করতে তারা কুইক ফরোয়ার্ড বাটনটিও সরিয়ে দিচ্ছে।

এর আগে কোন মেসেজটি অন্য কারও কাছ থেকে ফরোয়ার্ড হয়ে এসেছে, সেটা স্পষ্ট করে চিহ্নিত করারও ব্যবস্থা করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।

ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং সার্ভিস ব্যবহার করে যেভাবে ছেলেধরার গুজব ছড়ানো শুরু হবার পর গত দেড় মাসে কুড়ি জনেরও বেশী মানুষকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়।

একটি ভুয়ো ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করেই ওই সন্দেহের গুজব ছড়ানো হয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপে।

ছেলেধরার গুজবের সঙ্গে ব্যবহার করা ভিডিও আর ছবিগুলি যে ভুয়ো, তা খুঁজে বার করেছিল ভুয়ো খবরের সন্ধানকারী ভারতীয় ওয়েবসাইট 'অল্ট নিউজ'।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

গুজবে কান দিয়ে কেন মানুষ পিটিয়ে মারা হচ্ছে?

ভুয়া খবরের দায়ে ভারতে প্রশ্নের মুখে হোয়াটসঅ্যাপ

ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption এরকম বার্তা ছড়িয়ে পড়ছিল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে

তারা জানিয়েছিল পাকিস্তানের এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছেলেধরাদের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরীর উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বানিয়েছিল। সেখান থেকেই একটি অংশ কেটে নিয়ে ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।

পরীক্ষামূলকভাবে যে দুটি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ, সেগুলি কতটা কার্যকরী হবে ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়াতে, তা জানতে চেয়েছিলাম অল্ট নিউজের প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক সিনহার কাছে।

তিনি বলছিলেন, "হোয়াটসঅ্যাপ যা জানিয়েছে, তা নিয়ে কয়েকটা প্রশ্ন উঠছেই - প্রথমত মেসেজ বা ছবি ৫জনকে ফরোয়ার্ড করা যাবে না ৫টি চ্যাটে একেকবারে ফরোয়ার্ড করতে পারবেন কেউ! যদি শুধু ৫টি মেসেজ ফরোয়ার্ড করা যায়, তাহলে মেসেজটি ভাইরাল হওয়া আটকানো কঠিন। তবে ৫জনকে একবারে ফরোয়ার্ড করার ব্যবস্থা যদি করে থাকে এরা, তাহলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ তো করাই যাবে বলে মনে হচ্ছে।"

"ফরোয়ার্ড হয়ে আসা মেসেজটিকে চিহ্নিত করার ব্যবস্থাটা ভাল, কারণ মানুষ বুঝতে পারবেন যে সেটা তার কনট্যাক্ট লিস্টে থাকা কেউ নিজে পাঠায় নি। হয়তো বিশ্বাস করে ফেলার আগে কিছুটা ভাববেন।"

হোয়াটসঅ্যাপ একটা প্রচেষ্টা শুরু করেছে, কিছু অন্তত উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো কতটা কার্যকরী হবে, সেটা বোঝার জন্য সময় লাগবে," বলছিলেন প্রতীক সিনহা।

"ফরোয়ার্ড করা মেসেজের সঙ্গে অন্য মেসেজ আলাদা করে চিহ্নিত করা গেলে কে ওই ভুয়ো খবর তৈরী করেছে আর কারা সেটা ছড়িয়েছে, এটা বুঝতে পারবে পুলিশ", বলছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাইবার অপরাধ বিষয়ে স্পেশাল পাবলিক প্রসেকিউটার বিভাস চ্যাটার্জী।

যদিও হোয়াটসঅ্যাপ বলছে যে তারা পরীক্ষামূলক ভাবে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুটি চালু করেছে, তবে এখনও সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছে নতুন আপডেট আসে নি।

অবশ্য ভারত সরকার বৃহস্পতিবারই জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের চালু করা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় তারা সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট নয়।

বিভাস চ্যাটার্জী অবশ্য বলছিলেন হোয়াটসঅ্যাপ নিজে থেকে যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে, তার থেকেও বেশী প্রয়োজন এ জন্য আইন প্রণয়ন।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

দিল্লিতে গণ-ফাঁসির কারণ কি অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস?

বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে আস্থার সংকট কি বাড়ছে?

ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণার প্রতিক্রিয়া কী হবে?

'কীভাবে আবিষ্কার করলাম যে আমার স্বামীর আরেকটি স্ত্রী আছে'

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর