প্রীতিভাজনেষু: আপনাদের প্রশ্ন, সম্পাদকের জবাব

মোয়াজ্জেম হোসেন আর মাসুদ খান প্রবাহ পরিবেশন করছেন।
Image caption রেডিওতে ফিরবে প্রীতিভাজনেষু, তবে শুধুমাত্র সকালের অধিবেশনে।

প্রায় চার মাস হলো 'প্রীতিভাজনেষু' নামের চিঠি-পত্রের আসর রেডিওতে বন্ধ হয়েছে। এ'সময়ে অনেক পত্র লেখক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সপ্তাহের কোন একদিন দশ মিনিটের অনুষ্ঠান প্রচার সম্ভব না হলে, প্রীতিভাজনেষু যেন সপ্তাহে দু'দিন, দুটি খণ্ডে প্রচার করা হয়।

আমি শুরুতে এ'বিষয়ে দ্বিধান্বিত ছিলাম। দু'দিন পাঁচ মিনিটের প্রীতিভাজনেষু দেয়া মানে ঐ দু'দিন সাময়িক প্রসঙ্গের অনুষ্ঠান থেকে কিছু বাদ দেয়া। তবে রেডিওতে প্রীতিভাজনেষু যদি শুধুমাত্র সকালে প্রচার করা হয়, তাহলে অনুষ্ঠানের ওপর চাপটাও সহনীয় মাত্রার মধ্যে থাকবে।

সুতরাং পথ পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। আগামী মাস, অর্থাৎ অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দু' দিন পাঁচ মিনিট করে প্রীতিভাজনেষু সকালের অনুষ্ঠানে প্রচার করা হবে। প্রথম পর্ব যাবে শনিবার সকালে আর দ্বিতীয় পর্ব প্রচার হবে রোববার সকালে। একই সাথে, অনলাইনে প্রীতিভাজনেষুর প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে।

এবারে আপনাদের চিঠি-পত্রের দিকে আসা যাক।

শুরু করছি একজন নিয়মিত পত্র লেখকের নিয়মিত অভিযোগ দিয়ে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''বর্তমান বিবিসির খবর আমার কাছে আর আগের মত অতটা ভালো লাগে না! দুটি অধিবেশন বন্ধ হওয়াতে শুধুমাত্র প্রত্যুষা ও প্রবাহ দিয়ে সারাদিনে ঘটে যাওয়া ঘটনার খবর কতটুকু পরিবেশন করা সম্ভব? তা নিজেরাই একবার ভেবে দেখুন...যেখানে দেশের প্রাইভেট রেডিও কিংবা টিভি চ্যানেলগুলো ঘণ্টায় ঘণ্টায় খবর প্রচার করছে, সেখানে বিবিসি বাংলা রেডিও অনেক পিছিয়ে পড়েছে বলেই আমার কাছে মনে হয়। আপনারা নিশ্চয়ই অনলাইন কিংবা অন্যান্য মাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে আনবেন। যদি তাই টানেন, তবে অন্যান্য বে-সরকারী রেডিও-টিভিগুলো কি ভার্চুয়াল জগত থেকে পিছিয়ে? আপনারা যত যুক্তিই দিন, বিবিসি বাংলা যে তার গুরুত্ব কিংবা গ্রহণযোগ্যতা হারাতে বসেছে, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই আমার।''

Image caption শেষ হলো ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ রাশিয়া: দুই রুশ ফ্যান এক অপরের মুখে জাতীয় পতাকা একে দিচ্ছেন।

বিবিসি বাংলা রেডিওর গুরুত্ব বাড়ছে না কমছে, সে ব্যাপারে আমি কোন যুক্তি বা মতামত দিব না মিঃ ইসলাম। সেটা আপনারা, অর্থাৎ রেডিও শ্রোতারাই নির্ধারণ করবেন এবং আমরা জরীপের মাধ্যমে সেই মেসেজটা পেয়ে যাবো। তবে আমি এ'টুকু বলতে পারি, ভোর এবং রাতে দুটি রেডিও অধিবেশন বন্ধ করার ফলে আমাদের খবর পরিবেশন ব্যাহত হচ্ছে না। আগে কিন্তু খুব কম দিনই রাতের অধিবেশনে নতুন কোন খবর দেয়া বা সাক্ষাৎকার নেয়া সম্ভব হতো। আর শ্রোতাদের অনেকেই অভিযোগ করতেন, ভোরের প্রভাতী আর প্রত্যুষায় প্রায় একই খবর থাকতো।

তাহলে, এই দুটি অধিবেশন বন্ধ করার ফলে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের ফিচারগুলো। আর হ্যাঁ, অনলাইনের কথা তো আমি অবশ্যই বলবো, কারণ অনলাইনে পরিবেশনা জোরদার করার জন্যই তো রেডিওতে অনুষ্ঠান কমানো হয়েছে। তবে বিবিসি বাংলা কখনোই সারাদিনের ঘটে যাওয়া সব ঘটনা প্রচার করেনি, করা সম্ভব ছিলনা। সব সময় দিনের গুরুত্বপূর্ণ দু'একটি ঘটনা দিয়ে অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে। খবরের সংখ্যা দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যম কোন সময়ই স্থানীয় গণমাধ্যমের সাথে পাল্লা দিতে পারে না। চেষ্টা করাটাই বোকামি হবে।

একটি শিরোনাম নিয়ে ছোট প্রশ্ন করেছেন ঢাকা থেকে মাহমুদুল আলম:

''এই সংবাদের শিরোনামে 'সম্ভাবনা'র স্থলে 'আশংকা' শব্দটি ব্যবহার করা উচিত কিনা?''

Image caption বিবিসি বাংলার খবরের শিরোনাম, যেটা নিয়ে পাঠকের প্রশ্ন।

একদিক থেকে আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ আলম। এখানে মাথার আঘাতের বিষয়টি একেবারেই নেতিবাচক একটি ব্যাপার, তাই 'আশঙ্কা' শব্দটি ব্যবহার করাটাই হয়তো যথার্থ হতো। কিন্তু একই সাথে, সম্ভাবনা শব্দটির ব্যবহারও উপযুক্ত, যেহেতু এখানে সম্ভাবনা শব্দটির ব্যবহারের মাধ্যমে একটি বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে।

এবারে ভাষার ব্যবহার নিয়ে ছোট একটি প্রশ্ন, লিখেছেন ঢাকা থেকে বখতিয়ার মুহাম্মদ:

''আপনারা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কোটা বিরোধী কেন বলছেন?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মিঃ মুহাম্মদ। এখানে কয়েকটি কারণ আছে। কোন আন্দোলনকে আমরা ঠিক আন্দোলনকারীদের ভাষায় বর্ণনা করি না। নিরপেক্ষতার স্বার্থে আমাদের ভিন্ন একটি ভাষা বেছে নিতে হয় যা আন্দোলনকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করবে। আপনারা কোটা ব্যবস্থার সংস্কার চাইছেন নাকি আসলে এর বাতিল চাইছেন, সেটা বিতর্কের ব্যাপার। কিন্তু বর্তমানে যে কোটা ব্যবস্থা রয়েছে, আপনারা তার বিরোধিতা করছেন, সেটা বললে কোন ভুল হবেনা । তাই আমরা বিরোধিতা শব্দটিই বেছে নিয়েছি।

আরো একটি ছোট প্রশ্ন তবে, আমাদের কোন পরিবেশনা নিয়ে নয়। জানতে চেয়েছেন খুলনার বটিয়াঘাটা থেকেতরিকুল সরদার:

''আমি জানতে চাই আসলে বাংলাদেশকে কোন রাষ্ট্র সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয়?''

ভুটান সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। তারিখটি ছিল ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর। তার পরপরই, একই দিনে, ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

ছবির কপিরাইট Kuni Takahashi
Image caption ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে প্রয়াত রাজা জিগমে দোর্জি ওয়াংচুকের স্মৃতিসৌধ, যিনি ১৯৭২ সালে মারা যান।

বাংলাদেশে ডিপ্লোমা শিক্ষা নিয়ে একটি মন্তব্য করে লিখেছেন পিরোজপুরের কাউখালী থেকে রেদোয়ান হোসেন:

''আমাদের দেশে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় উচ্চ শিক্ষা আরও যুগোপযোগী করা আবশ্যক। ৪৯ টি সরকারি ও ৫০০ মতো বেসরকারি পলিটেকনিকের বিপরীতে উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান মাত্র একটি। আর চার বছর ডিপ্লোমার পর আবার চার বছর বিএসসি মোট আট বছরে গ্রাজুয়েট। অন্যদিকে, যারা জেনারেল এইচএসসি করেন, তারা দুই বছর আর বিএসসি চার, মোট ছয় বছরে ডিগ্রি লাভ করেন। কেনো এই বৈষম্য? এ ব্যাপারে আপনাদের রিপোর্ট চাই।''

স্বীকার করতেই হবে, বিষয়টি এভাবে কখনো দেখিনি। হয়তো ইঞ্জিনিয়ারিং এমন একটি বিষয় যেটায় দু'বছরে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করা সম্ভব না। রিপোর্টের কথাটা মাথায় রাখবো। আপনাকে ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ সরকারের মাদক-বিরোধী অভিযান নিয়ে বিবিসি বাংলার পরিবেশনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে মনে করছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইর থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''গত ১৭ই জুলাই প্রবাহে মাদক বিরোধী অভিযানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে রাকিব হাসনাতের রিপোর্টটি শুনেছি। ছোটবেলায় পাঠ্যপুস্তকে পড়েছি সংবাদ মাধ্যম সমাজের দর্পণ। তবে এই অভিযান শুরুর আগে বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে বিবিসি কোন অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রচার করেনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই অভিযানে নিহত ইস্যুতে অনেক সোচ্চার । কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীরা যে সারা দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে সেই বিষয়ে তাদের কোন প্রতিক্রিয়া চোখে পড়েনি।''

মানবাধিকার সংগঠনগুলি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবোনা মিঃ আহমেদ। তবে আপনি ঠিকই বলেছেন, মাদক ব্যবহার বাংলাদেশের যুব সমাজের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে কোন বিস্তারিত রিপোর্টিং আমরা করি নাই। কিন্তু কথিত বন্দুক যুদ্ধে শতাধিক কথিত মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু সত্যি চমকে দেয়ার মত খবর ছিল।

এবারে ছোট এবং সহজ একটি প্রশ্ন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে তাপস প্রামাণিক:

''আমর একটি সহজতম প্রশ্নের উত্তরের উপর নির্ভর করছে আজ থেকে আর বাংলা বিভাগ শুনবো কি না! প্রশ্নটি হলো: বাংলা বিভাগটি বাংলাভাষীদের জন্য নাকি, বাংলাদেশীদের জন্য?''

উত্তরটি কিন্তু অত সহজ না মিঃ প্রামাণিক। বিবিসি বাংলা সার্ভিস অবশ্যই সব বাংলা ভাষা-ভাষীদের জন্য। কিন্তু এ'কথাও সত্য, আমাদের রেডিও শ্রোতাদের ৮০ শতাংশরও বেশি আসে বাংলাদেশ থেকে। প্রতি সপ্তাহে যারা আমাদের অনলাইনে আসেন, তাদের ১০ শতাংশ আসেন ভারত থেকে। কাজেই আমাদের সব কিছু বিবেচনা করে অনুষ্ঠান সাজাতে হয়। আপনাকে ধন্যবাদ।

তবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮ নিয়ে আমাদের আয়োজন কোন একটি দেশের দর্শক-পাঠকদের জন্য ছিল না। যেমন, শাহনেওয়াজ রকির তৈরি এই ভিডিও:

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
বর্ণিল আলোয় রাতে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ

রেডিওতে প্রচারিত এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী খবর নিয়ে লিখেছেন ভোলা থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''উনিশে জুলাই রেডিওর প্রবাহ অনুষ্ঠানে "ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বা যুবকরাও যৌন নিপীড়নের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না" শীর্ষক অমিতাভ ভট্টশালী ও শাকিল আনোয়ারের কথোপকথনটি শুনলাম। সংবাদটি ব্যতিক্রমধর্মী হলেও এটি বিশ্বব্যাপী কমবেশি ঘটে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ সমাজে পুরুষ কর্তৃক নারীরা যেমন নিপীড়িত, নিগৃহীত বা নির্যাতিত হয়, ঠিক তেমনি এর উল্টোটাও ঘটে।

''নারী কর্তৃক পুরুষ নির্যাতিত বা নিগৃহীত হলে সেটা অনেকে লোক লজ্জায় প্রকাশ করে না বা সমাজ সেটাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে না। সবচেয়ে বড় বাধা, আইন এটাকে মোটেও সমর্থন করে না। অনেক পুরুষ মনে করে এটি প্রকাশ পেলে তার ব্যক্তিসত্তা লোপ পাবে বা সমাজে তার ব্যক্তিত্ব প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। অনেক পুরুষকে আমি স্ত্রীদের দ্বারা নিগৃহীত হয়ে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে দেখেছি।''

আপনাকে ধন্যবাদ মিঃ রহমান। অমিতাভ ভট্টশালীর প্রতিবেদনের মূল কথা কিন্তু ছিল, কলকাতার পথে-ঘাটে কীভাবে পুরুষরা অন্য পুরুষ দ্বারাই যৌন আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এখানে নারীর হাতে পুরুষ নিগৃহীত হবার কথা ছিলনা। তবে আপনার চিন্তা-ভাবনা বুঝতে পারছি, এবং নারীর হাতে পুরুষ আক্রান্ত হবার ঘটনাও হয়তো ঘটে থাকে। কিন্তু পুরুষরা সাধারণত যৌন আক্রমণের শিকার হবার কথা স্বীকার করতে চায় না।

রেডিওতে অমিতাভ ভট্টশালীর কথোপকথন যে রিপোর্টের ভিত্তিতে হয়েছিল সেটা পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন ।

গত সপ্তাহের একটি বড় ঘটনা নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''বিবিসি বাংলার মাধ্যমেই জেনেছি, সম্প্রতি ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভ্লাদিমির পুতিন আনুষ্ঠানিক বৈঠক মিলিত হয়েছিলেন। চরম বৈরি এ দুটি দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে এমন বৈঠক হতে পারে, সেটি দু'দিন আগেও হয়তো বিশ্ববাসী কল্পনাও করতে পারতো না। "ট্রাম্প-পুতিন" বৈঠক কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলিয়ে উষ্ণতার দিকে নিয়ে যাবে, নাকি এটি শুধু মাত্রই আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?''

আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন মিঃ সরদার, হেলসিংকিতে বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টকে সমালোচনা না করার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজ দেশে আক্রমণের মুখে পরেছেন। মূল মিডিয়াগুলো এবং তার প্রতিপক্ষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প-এর বিরুদ্ধে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করার অভিযোগ করছেন। অনেকে তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ পর্যন্ত এনেছেন। এ'রকম চাপের মুখে মিঃ ট্রাম্পের পক্ষে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ভাল করা কঠিন হয়ে পরবে।

কিন্তু এতসব কিছুর মধ্যে জানা গেল যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভ্লাদিমির পুতিনকে পুনরায় বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ করবেন, যে খবর সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে। কাজেই আমার মনে হয়, কোন রকম ভবিষ্যদ্বাণী না করে চুপচাপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে! আপনার কী মনে হয়?

সব শেষে, শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে একটি চিঠি। লিখেছেন শিমুল বিল্লাহ তবে তার কোন ঠিকানা দেননি:

''বাংলাদেশে রাষ্ট্রের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেনা যে সকল শিক্ষকরা, তারা দীর্ঘ সময় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বার বার দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশে পদ্মা সেতু যদি নিজস্ব অর্থে হয়, তাহলে ৫২৪২টি স্বীকৃতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কেন রাষ্ট্রের আর্থিক সুবিধা পাবে না। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় ভাল চলছে।

''তাহলে আমাদের দেশের নন-এম পিও প্রতিষ্ঠান গুলি সরকার নির্দেশ দিলে অনেক কোম্পানি শিল্প পরিবার আর্থিক সুবিধা প্রধান করতে পারে। তাহলে হয়তোবা মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা দুইটা লবণ ভাত খেয়ে বাঁচতে পারবে। বিবিসি সারাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম ।কিন্তু কেন জানিনা বিবিসি বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজের এই করুন অবস্থা প্রকাশ করছে না।''

আমরা প্রকাশ করছিনা, সেটা বলা হয়তো অন্যায় হয়ে যাচ্ছে শিমুল বিল্লাহ। কারণ কিছু দিন আগেও এমপিও ভুক্তির দাবীতে শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচী নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষকদের নিয়ে প্রতিবেদন অবশ্যই করা হবে।

আরো অনেকে লিখেছেন, যাদের চিঠি আলোচনায় আনা গেলনা তাদের মেইলের প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

শামীমা আক্তার লিপি, তালা, সাতক্ষীরা।

আবু বকর মিয়া, নবাব গঞ্জ, ঢাকা।

জিল্লুর জাহিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

মাহবুব চৌধুরী, ঢাকা।

আহসান হাবিব রাজু, মহেন্দ্রনগর, লালমনিরহাট।

হাসান আল মামুন, ঢাকা।

মোহাম্মদ আরিফ, সৌদি আরব।

রফিক সরকার, গুলশান, ঢাকা।

আব্দুস সবুর, খুলনা সদর।

আনিছ হোসেন, লক্ষ্মীপুর।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সিলেট।

বিবিসি বাংলার খবর সম্পর্কে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখুন:

ইমেইল: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক: www.facebook.com/BBCBengaliService/

সম্পর্কিত বিষয়