নিকারাগুয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ: নিহতের সংখ্যা কেন বেড়েই চলেছে

ড্যানিয়েল ওর্তেগা ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সান্দিনিস্তা বিদ্রোহের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ড্যানিয়েল ওর্তেগা

নিকারাগুয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভে গত তিন মাসে নিহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিনশো মানুষ। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সরকারের সমর্থকরা হামলা চালানোর ফলেই এসব হতাহতের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিকারাগুয়ার মোনিম্বো শহরের সমাধিস্থানে পুরোনো একটি রণসঙ্গীতের সুর বাজাচ্ছিলো বাদকদল। হোসে পালাসিওস নামের এক তরুণের মরদেহ সৎকারের জন্য সেখানে জড়ো হয়েছেন তার আত্মীয় ও বন্ধুরা।

নিকারাগুয়ায় গত তিনমাসের অস্থিরতায় নিহত হওয়া ব্যক্তিদের একজন ২৭ বছর বয়সী পালাসিওস। নিকারাগুয়ায় তিনমাসে নিহত হওয়া প্রায় সাড়ে তিনশো মানুষের সবাই প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগার পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষেোভ করেছিলেন।

পালাসিওসের বিধবা স্ত্রী রোকসানা বলেন, নিকারাগুয়ায় চলতে থাকা অবিচারের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন তাঁর স্বামী।

সমাধিক্ষেত্রের বাইরে শহরের মূল চত্বরের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। সেখানে রাস্তায় অস্ত্রশস্ত্র হাতে, মুখোশ পড়ে বসে আছে বেশ কয়কেজন, যাদের কোনো একজনের গুলিতেই হয়তো পালাসিওস মারা গেছেন।

সান্দিনিস্তা বিদ্রোহের বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

প্রায় চার দশক আগে ঐ বিদ্রোহের মধ্যে দিয়েই নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট হন ড্যানিয়েল ওর্তেগা।

প্রেসিডেন্ট ওর্তেগার বিরুদ্ধে এখন নিকারাগুয়ায় যেরকম আন্দোলন চলছে, ১৯৭৯ সালে ঠিক এরকমই এক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ওর্তেগা নিজে।

নিকারাগুয়ার সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু তারপর প্রেসিডেন্ট ওর্তেগার তত্বাবধানেই সেটি সাধারণ মানুষ আর ওর্তেগা সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হয়।

সান্দিনিস্তা বিদ্রোহের শুরু থেকে ঐ এলাকায় কাজ করা সাংবাদিক জন লি অ্যান্ডারসন বলেন, ওর্তেগা নিজে একসময় যেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, এখন নিজে ঐ একই অন্যায় করছেন।

আরো পড়ুন:

বিপ্লবী না স্বৈরশাসক, ড্যানিয়েল ওর্তেগা আসলে কে?

ক্ষমতায় সমতা: বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ যেখানে নারীর হাতে

নতুন পাঁচ 'স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায়' বাংলাদেশ

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিকারাগুয়ার সাধারণ মানুষ

মি. অ্যান্ডারসন বলেন, "চল্লিশ বছর আগে প্রেসিডেন্ট সামোযার উৎখাতের সময়কার পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতি অনেকটাই একরকম।"

"সামোযার মত বিভিন্ন শহরে বিমানহামলা না করলেও, বড় শহরগুলোতে মুখোশধারী প্যারামিলিটারি পাঠাচ্ছেন ওর্তেগা। যারা সব ধরণের সরকারবিরোধী বিদ্রোহ নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে।"

অতীতে প্রেসিডেন্ট সামোযা'র ওপরও ভরসা রেখে নিপীড়িত হতে হয়েছে নিকারাগুয়ার মানুষকে, এবার প্রেসিডেন্ট ওর্তেগার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটলো।

তবে নিকারাগুয়ার সাধারণ মানুষ সরকারবিরোধী বিদ্রোহ চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হোসে পালাসিওসের শবদেহ সৎকারের সময় তার পরিচিতদের কন্ঠে ছিল সেই প্রতিজ্ঞার আভাস।