বাংলাদেশে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা: চার্জশিটে অভিযুক্ত ৮, রোহান ছিলো নেতৃত্বে

পুলিশ বলছে ওই হামলায় মোট ২১ জনের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে তারা
Image caption পুলিশ বলছে ওই হামলায় মোট ২১ জনের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে তারা (ছবিটি ঘটনার পরপর ওই এলাকায় তোলা)

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার দু বছর পর আট জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তে ঘটনার সাথে মোট একুশ জন জড়িত ছিলো বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ এবং এর মধ্যে ঘটনার দিন ও পরে তেরজনই বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

তবে এতে হামলার ঘটনার পর আটক হওয়া ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অভিজাত গুলশান এলাকায় হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে গত ২০১৬ সালের ১লা জুলাই।

বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করা ওই ঘটনায় জঙ্গিরা ওই রাতে ২০ জনকে হত্যা করে যাদের ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপান, ৩ জন বাংলাদেশী এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক।

এছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় দুজন পুলিশও প্রাণ হারায়।

পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী ৫জনও প্রাণ হারায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আরো একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়; যাকে পরবর্তীতে রেস্টুরেন্টের কর্মচারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

হামলাকারীদের মধ্যে অনেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলো। এরা শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।

আরও পড়ুন :

"প্রথমে গুলি করেছে, তারপর কাছে গিয়ে কুপিয়েছে"

হামলাকারীরা সবাই উচ্চশিক্ষিত, ধনী পরিবারের সন্তান

হোলি আর্টিজানে হামলা: এক বছরে শঙ্কা কাটেনি

চার্জশীটে যাদের অভিযুক্ত করা হলো

আদালতে চার্জশীট দাখিলের পর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

তিনি জানান ওই ঘটনায় মোট একুশ জনের মধ্যে পাঁচজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে আরও আটজন।

তাই চার্জশীটে তারা বাকী আট জনকে অভিযুক্ত করেছেন। এরা হলেন রাকিবুল হাসান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাশেদুল ইসলাম, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, মামুনুর রশীদ রিপন ও শরীফুল ইসলাম খালেদ।

এর মধ্যে মামুনুর রশীদ রিপন ও শরীফুল ইসলাম খালেদ এর মধ্যে দুজনকে এখনো আটক করা যায়নি।

অন্য অভিযানে নিহত আটজন হলেন: তামিম চৌধুরী, মারজান, সারোয়ার জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান, তানভীর কাদেরী, তারেক রায়হান ও ছোটো রায়হান।

হলি আর্টিজানে যারা নিহত: রোহান ইমতিয়াজ, খায়রুল ইসলাম পায়েল, সামিউল মোবাশ্বির, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ও নিবরাস ইসলাম।

মনিরুল ইসলাম বলেন ঘটনার নেতৃত্বে ছিলো রোহান ইমতিয়াজ আর তার ডেপুটি ছিলো খায়রুল ইসলাম পায়েল।

গুলশান হামলা: নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন মোড়

আইসিসে বাংলাদেশী এক জিহাদি সুজনের নেটওয়ার্ক

'সবাইকেই জঙ্গি মনে হতো, বাড়ি থেকে বের হতাম না'

Image caption ঘটনার রাতে হামলাকারীদের এই ছবি প্রকাশ করেছিলো আইএস

কতদিন ধরে প্রস্তুত হচ্ছিলো জঙ্গিরা?

মনিরুল ইসলাম বলেন হামলার অন্তত ৫/৬ মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে যার মূল উদ্দেশ্য ছিলো দেশকে অস্থিতিশীল করা যাতে করে সরকার চাপের মুখে পড়ে।

দেশ অর্থনৈতিক ভাবে পর্যুদস্ত হয়, সরকার বিব্রত হয় ও পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে যাতে কাজে লাগানো যায় এসব উদ্দেশ্যেই জঙ্গিরা এ হামলা করেছে বলে জানান মিস্টার ইসলাম।

পাশাপাশি বিদেশী জঙ্গি সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণের একটা উদ্দেশ্যও ছিলো হামলাকারীদের।

"তারা ভেবেছিলো বেশি বিদেশী হত্যা করলে আন্তর্জাতিক ভাবে বেশী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের দৃষ্টি আকর্ষণ হবে। এ জন্যই তারা হলি আর্টিজানকেই বেছে নেয়"।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption হোলি আর্টিজানে সকালে সেনা অভিযানের সময়ে তোলা ছবি

হলি আর্টিজান কেনো টার্গেট হলো?

মনিরুল ইসলাম জানান জঙ্গিরা আরও কয়েকটি জায়গায় রেকি করেছিলো। কিন্তু তাদের হিসেবে দেখেছে হলি আর্টিজানে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলতে কিছু ছিলোনা।

দ্বিতীয়ত এ জায়গা থেকে তাদের সরে পড়াটা সুবিধার হবে আর এখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশী একসাথে পাওয়া যাবে।

এসব কারণেই ঘটনার ২/৩ দিন আগে তারা হলি আর্টিজানকে চূড়ান্ত করে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হামলা হলো ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে।

সম্পর্কিত বিষয়