বাংলাদেশের কক্সবাজারে কেন বাড়ছে পাহাড়-ধসের ঝুঁকি?

  • ফারহানা পারভীন
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়িতে এই বাড়িটি পাহাড়-ধসের কবলে পড়লে বেশ কয়েকজন হতাহত হন

ছবির উৎস, ওবায়দুল হক চৌধুরী

ছবির ক্যাপশান,

রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়িতে এই বাড়িটি পাহাড়-ধসের কবলে পড়লে বেশ কয়েকজন হতাহত হন

বাংলাদেশের কক্সবাজারে পৃথক দুটি পাহাড়-ধসে পাঁচজন নিহত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

কক্সবাজারে বর্তমানে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী রয়েছে যাদের পাহাড়-ধসের শিকার হওয়ার উদ্বেগ রয়েছে ।

কিন্তু এর বাইরেও প্রায় আড়াই লক্ষ পরিবার যারা স্থানীয় বাসিন্দা, তাদেরও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে, অর্থাৎ এখনো দুমাসেরও বেশি বর্ষাকাল স্থায়ী হবে।

বুধবার কক্সবাজার পৌরসভা এবং রামুতে যে পাঁচজন পাহাড়-ধসে নিহত হয়েছে তাদের মধ্যে এক পরিবারের চার ভাইবোন রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভোররাতে।

কক্সবাজারের গত কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যার ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বাস করা এসব মানুষের জীবন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বেসরকারি একটি সংস্থা জেলা উপকূলীয় পল্লী উন্নয়ন পরিষদ বলছে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ পরিবার পাহাড়-ধসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান নুরুল আমিন সিদ্দিক বলছিলেন কক্সবাজারের আটটি উপজেলায় এই ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি জানাচ্ছেন, "বিশেষ করে টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর, রামু, চকোরিয়া, পেকুয়া এসব এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।"

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা এই কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় প্রায় এক বছর ধরে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আশ্রয় নিয়েছে। যাদের আশ্রয়ের দেয়ার জন্য অনেক পাহাড় কাটা হয়েছে ঐ এলাকায়।

ছবির উৎস, ওবায়দুল হক চৌধুরী

ছবির ক্যাপশান,

ওই এলাকায় বর্ষাকাল আরও অন্তত দুমাস স্থায়ী হবে

আরও পড়ুন:

আবার একই সাথে কিছু কিছু মানুষ টিলা বা পাহাড়ের পাদদেশে বাস করছে এখনো। তাদের ভূমিধসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বরাবরই করা হচ্ছে।

কিন্তু এর বাইরে স্থানীয় মানুষ যারা রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে, তাদের জন্য কী করা হচ্ছে?

টেকনাফ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বলছিলেন ভারী বৃষ্টিপাত হলেই তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়।

"সকাল ১২ টা থেকে আমরা মাইকিং করা শুরু করছি মানুষকে সচেতন করার জন্য। ভোররাতে মানুষ মারা গেছে এটাও জানাচ্ছি। কিন্তু এখনো কেউ আসেনি।"

"আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করছি, বাকিটা তাদের দায়িত্ব। একটা পরিবারের চলার জন্য যেসব জিনিস দরকার সব আমরা দিচ্ছি। স্কুল, কলেজ গুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে", জানাচ্ছেন তিনি।

তিনি আরো বলছিলেন "যখনই জরুরি সংকেত যেমন ৮ বা ৯ নম্বর সংকেত দেয় তখন আমরা পুলিশ, প্রশাসন গিয়ে তাদেরকে নিয়ে আসি। যাদের বাড়িঘর আছে তারা আসে না, যাদের নেই তারা আসে।"

এদিকে জেলা উপকূলীয় পল্লী উন্নয়ন পরিষদ নির্বাহী প্রধান নুরুল আমিন সিদ্দিক বলছিলেন, "দীর্ঘদিন এই অঞ্চলে কাজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি যারা ভাসমান বা ভূমিহীন তাদের জন্য স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে দিলে এই ঘটনা চলতেই থাকবে।"

তবে কক্সবাজারের জমির দাম অনেক বেশি, তাই তাদের জন্য স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা খুব কঠিন বলেও মানছেন মি. সিদ্দিক।

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে সারাদেশের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। আর এই বৃষ্টিপাতের তিনটি কারণ।

একটি হল একটা লঘুচাপের বর্ধিত অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, মৌসুমী বায়ু সারা দেশের উপর প্রবল রয়েছে এছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প বাংলাদেশের উপর প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২২৮ মিলিমিটার। আজ বুধবার সকাল ছয়টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে ৩০ মিলিমিটার।

তারা আরও জানাচ্ছেন "অতি বৃষ্টির কারণে মাটি এমনিতেই নরম হয়ে যায়, সেখানে মানুষের সৃষ্টি করা সমস্যা যেমন পাহাড় কাটার মত ঘটনা যদি হয় তাহলে পাহাড়-ধসের ঝুঁকি স্বভাবতই আরও বেড়ে যায়।"