দিল্লিতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল মুসা-রুবেলের?

ছবির কপিরাইট উত্তরপ্রদেশ পুলিশ
Image caption সন্দেহভাজন দুই জঙ্গী মুসা (বাঁয়ে) ও রুবেল আহমেদ

ভারতের রাজধানী দিল্লির উপকন্ঠে গ্রেটার নয়ডা এলাকা থেকে আটক দুজন সন্দেহভাজন জেএমবি জঙ্গী দিল্লি বা তার আশেপাশে বড়সড় কোনও হামলা চালানোর পরিকল্পনার করছিল বলে পুলিশ ধারণা করছে।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অ্যান্টি টেরর স্কোয়াড (এটিএস) ও কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এক যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার গ্রেটার নয়ডার সুরজপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বাংলাদেশী নাগরিক মুশাররফ হোসেন (ওরফে মুসা) ও রুবেল আহমেদকে।

এরা দুজনেই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য বলে পুলিশ কর্তৃপক্ষের দাবি।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি) ওমপ্রকাশ সিং এদিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "ধৃত দুজনেই জেএমবি-র হয়ে ভারতের মাটিতে সক্রিয় ছিল।"

"প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা আভাস পেয়েছি যে দিল্লি বা তার আশেপাশের এলাকায় তারা কোনও বড় জঙ্গী হামলারও পরিকল্পনা করছিল।"

ওই দুই সন্দেহভাজন জঙ্গীকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে এখন কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররজিম ইউনিটের সঙ্গেও এই ধৃতদের ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে।

ছবির কপিরাইট BIJU BORO
Image caption বর্ধমান বিস্ফোরেণ জড়িত সন্দেহে এক জেএমবি জঙ্গীকে ভারতের আদালতে পেশ করা হচ্ছে

আরও পড়ুন:

পাকিস্তানে ভোট চলছে: ইমরান খানের সময় এসেছে?

আগুনে পুড়ছে গ্রীসের সাগর তীরের স্বর্গ

নিরাপদ যৌনতায় কী কাজে লাগছে গিফট ব্যাগ?

কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই দুই জেএমবি সদস্য এ বছরের গোড়ার দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

পুলিশের বক্তব্য, শুরুতে তারা মধ্য কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রীট এলাকায় একটি বাড়িভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে।

কিন্তু এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন জেএমবি সদস্য পুলিশের জালে ধরা পড়লে মুসা ও রুবেল কলকাতা থেকে পালিয়ে গিয়ে দিল্লির কাছে নয়ডাতে আশ্রয় নেয়।

এই দুই জঙ্গী গ্রেটার নয়ডার কাছে সুরজপুর এলাকায় থাকছে, গোয়েন্দা সূত্রে এই খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে সেখানে পুলিশ অভিযান চালায় ও তাদের গোপন আস্তানা থেকে আটক করে।

আগামী ১৫ অগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা চালাতে পারে এই আশঙ্কার কারণে পুলিশ নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর