প্রীতিভাজনেষু: আপনাদের প্রশ্ন, সম্পাদকের জবাব

ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাতকার নিচ্ছেন শ্যামল লোধ।
Image caption স্মৃতির পাতা থেকে: ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাতকার নিচ্ছেন শ্যামল লোধ।

টানা চার মাস বিরতির পর চিঠি-পত্রের আসর প্রীতিভাজনেষু আবার ফিরে আসলো রেডিওতে। তবে একদিনে ১০ মিনিটের অনুষ্ঠান নয়। দু'দিনে দুটি পর্বে হবে রেডিওর প্রীতিভাজনেষু।

তবে অনলাইনে প্রীতিভাজনেষুর পাতা গত কয়েক মাস যেভাবে সাজানো হয়েছে, ঠিক সেভাবেই সেটা প্রকাশ করা হবে। রেডিওতে প্রীতিভাজনেষু প্রচার করা হবে প্রতি শনি এবং রোববার, আর অনলাইনে ভার্সন চলে আসবে শুক্রবার রাতেই। সামাজিক মাধ্যমে প্রমোশন শুক্রবার রাত এবং শনিবার সকালে হবে।

তাহলে শুরুতেই প্রীতিভাজনেষু নিয়েই একটি চিঠি নেয়া যাক, লিখেছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে তাজমিন নাহার:

''বিবিসি বাংলা বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী একটি গণমাধ্যম। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনাই যাদের মূল লক্ষ্য। সেই বিবিসির সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি পর্ব প্রীতিভাজনেষুকে আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম। বুক ভরা কষ্ট নিয়ে বিবিসি শুনতে শুনতে হঠাৎ শুনতে পেলাম সেই জনপ্রিয় প্রীতিভাজনেষু আবারো ফিরে আসছে আমাদের মাঝে। আনন্দে মনটা ভরে উঠল। ধন্যবাদ জানাই বিবিসি বাংলার কর্তৃপক্ষকে। ''

আপনাকেও ধন্যবাদ মিস নাহার। আশা করি ভবিষ্যতে আরো চিঠি লিখবেন।

Image caption এক সময়ের জনপ্রিয় ফিচার কাকলি রেকর্ড করছেন নুরুল ইসলাম এবং মানসী বড়ুয়া।

প্রীতিভাজনেষু রেডিওতে ফিরে আসছে জেনে আবার লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিস আক্তার:

''প্রীতিভাজনেষু রেডিওতে বন্ধের আগে বিবিসি বাংলা'র সম্পাদক ঘোষণা দিয়েছিলেন, দু'একটি বাদে অন্যসব ফিচারগুলি অপরিবর্তিত থাকবে। কিন্তু কই, এখনও তো মিস করি, বিজ্ঞানের আসর, ইতিহাসের সাক্ষী কিংবা এ সপ্তাহের সাক্ষাতকারের মত দারুণ সব ফিচারধর্মী অনুষ্ঠানগুলি। পরিশেষে একটাই প্রশ্নঃ এসকল অনুষ্ঠান কি আর কখনোই ফিরবে না বিবিসি রেডিওতে?''

না মিস আক্তার, আমার ঘোষণাটি ছিল ঠিক উল্টো। আমি বলেছিলাম রেডিওতে শুধু ফোন-ইন আর বিশেষ প্রতিবেদন বহাল থাকবে। আর অনলাইনে প্রীতিভাজনেষু, ইতিহাসের সাক্ষী এবং বিশেষ সাক্ষাৎকার টেক্সট ফর্মে প্রকাশ করা হবে। রেডিও অনুষ্ঠান যতদিন দুটোই থাকবে, ততদিন কোন লম্বা ফিচার দেয়া সম্ভব হবে না।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সব চেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ঢাকায় বাসের নিচে তিনজন ছাত্রের মৃত্যু, তার জের ধরে সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ। পরবর্তীতে ঢাকা শহর জুরে চলেছে স্কুল-কলেজ ছাত্রদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এবং বাস চালকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন। বাস শ্রমিকদের নেতা নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের পদত্যাগও দাবী করছেন অনেকে, তিনি যদিও সড়ক পরিবহন-এর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নন। যাই হোক, এই ঘটনায় অনেকের মত বিক্ষুব্ধ হয়েছেন খুলনার মুকুল সরদার:

''বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়মিত ঘটনা। প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ এসেছে লাইসেন্স বিহীন চালক এবং গাড়ী আটক করবার জন্য। প্রশ্ন হচ্ছে, অবৈধ গাড়ী বা চালক রাস্তায় এলো কী ভাবে? ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তারা কি ঘুমিয়ে থাকে, নাকি তাদের যথাযথ ভাবে কাজ করতে দেওয়া হয় না? সারাদেশে একই চিত্র, সড়কে কোথাও নিয়ম মেনে যানবাহন চলছে এমনটা মনেই হয় না।

''দেশের সাধারণ মানুষ পরিবহণ সেক্টরের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিম্বা বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রতিবাদ করলেই পরিবহণ ধর্মঘট। পরিবহণ শ্রমিকদের উস্কানি ও শেল্টার দাতাদের খুঁজে বের করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হলেই আমাদের সড়ক গুলি নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে, অন্যথায় নয়।''

Image caption নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ঢাকার রাজপথে তরুণ বিক্ষোভকারী।

খুবই কড়া বক্তব্য রেখেছেন মিঃ সরদার। পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে সেটা ঢাকা শহরের অস্থির ট্রাফিক দেখলেই বোঝা যায়। শৃঙ্খলার বড়ই অভাব। তবে সেটার জন্য আমি শুধু বাস শ্রমিকদের দায়ী করবো না। সব ধরনের যানবাহন চালকরাই নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে চলেন। এমনকি পথচারীদেরও দেখা যায় নিয়ম-কানুন না মেনে রাস্তা পার হবার চেষ্টা করতে। তাতে পথচারীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পরেন।

একদিকে জনসাধারণের মধ্যে রাস্তার নিয়ম-কানুন মেনে চলার প্রতি অনীহা বা অজ্ঞতা, অন্যদিকে ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। এখানে শুধু শ্রমিকদের দোষ দিলে তো সমস্যার অনেক কারণ আড়ালে রয়ে যাবে। সমস্যা যখন সড়ক পরিবহন খাতে, সেখানে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বই কি মুখ্য নয়?

বিষয়টি ভিন্ন আঙ্গিকে দেখছেন হাসান বানা। তার মতে, সড়ক অবরোধ করে ভাংচুর নয়, বরং ফিটনেস বিহীন বাস বয়কট করলেই ফল আসবে বেশি:

''যে সব বাস মালিকরা অধিক টাকার লোভে রাস্তায় ফিটনেস বিহীন গাড়ি নামায়, আর বাচ্চাদের হাতে গাড়ি তুলে দেয়, তাদের বাস বয়কট করলে হয়তো তাদের টাকার শক্তি কমতো। টাকার জোর থাকায় তারা এ সব করতে সাহস পায়। কয়েকটা বাস পুড়িয়ে আর সড়ক অবরোধ করে তাদের শক্তি কমানো যাবে না। সবাই মিলে যদি তাদের টাকার শক্তি কমাতে পারি, তাহলে এ সব বাস দিন দিন কমবে।''

অনেকেই বয়কটের কথা বলেন মিঃ বানা, কিন্তু কাজটা সফল করা বেশ কঠিন। প্রথমে সবাইকে জানতে হবে তাদের লক্ষ্য কী - কোন্‌ পরিবহন কোম্পানির কী বাস বয়কট করবে এবং কেন। তাদের নিশ্চিত হতে হবে যে তারা যেন অন্য কোন ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক স্বার্থের পুতুলে পরিণত না হয়। আর বয়কটে সকলের অংশগ্রহণ থাকতে হবে, নাহলে এটা ব্যর্থ হবে। নির্দিষ্ট কোম্পানি বা পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করতে পারলেই বয়কট সফল হবার সম্ভাবনা থাকে।

এ'বিষয়ে আরো একটি চিঠি, লিখেছেন রংপুরের দক্ষিণ পানাপুকুর থেকে দেব প্রসাদ রায়:

''বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা প্রবাহ এটাই প্রমাণ করে, রাজধানীসহ দেশের সড়ক পথ মোটেই নিরাপদ নয়। সবার মনে আছে নিশ্চয়ই, টাঙ্গাইলে ধর্ষণের পর জাকিয়া সুলতানা রূপাকে ঘার মটকে হত্যার কথা। চট্টগ্রামে শিক্ষানবিশ ডাক্তার যাত্রীকে ধর্ষণের অপচেষ্টার কথা। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েলকে মুখ থেঁতলে হত্যার কথা।

''কে করল এসব? চালক এবং হেলপার। আর এগুলো কি চালকদের করার কথা? অথচ ঘটছে অহরহ। গত ৩০শে জুলাই বিবিসি বাংলায় সাইয়েদা আক্তারের প্রতিবেদনে উঠে আসে বাংলাদেশের গণপরিবহনের দুর্দশা এবং অব্যবস্থাপনার চিত্র। কিন্তু রাষ্ট্র কি এর দায় কোন ভাবে এড়াতে পারে?''

অবশ্যই পারে না মিঃ রায়। এই সব ঘটনার একটি বড় কারণ হচ্ছে সরকারের উদাসীনতা। সড়ক পরিবহন খাতে যেসব গোষ্ঠিগত স্বার্থ আছে, সেগুলো সরকারেরই মোকাবেলা করার কথা। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনের কঠোর প্রয়োগও সরকারের করার কথা। আমি আগেই যেটা বলেছি, জনসাধারণও তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, কিন্তু সেটা কোন ভাবেই সরকারকে দায়মুক্ত করে না।

ঘটনার সূত্রপাত হয় রোববার ২৯শে জুলাই। সেদিনই মেইল করেছিলেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''আজ ২৯ শে জুলাই দুপুর ১২.৩০ থেকে ১ টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২ শিক্ষার্থী নিহত হয়। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। এই খবরটি দ্রুত বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের ফেসবুক পেজে চলে আসলেও, বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে এই খবরটি দেখছি না।''

আপনি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন মিঃ আহমেদ, বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় বা ওয়েবসাইটে ঘটে যাওয়া সব খবর আসে না। কিছু কিছু আসতে একটু দেরী হয়, যেহেতু তথ্য যাচাই করার ব্যাপার আছে। আর সড়ক দুর্ঘটনার খবর সচরাচর আমরা দেইনা। কিন্তু যদি দুর্ঘটনার কোন দিক ব্যতিক্রমী হয় বা সেই ঘটনা কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক মাত্রার প্রতিক্রিয়া হয়, তখন সেটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হযে উঠে, যেটা এই ঘটনার ক্ষেত্রে হয়েছে। তাছাড়া আমরা নিরাপদ সড়ক নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান করে আসছি।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই।

এক সময়ে আমাদের খেলা-ধুলার খবর পরিবেশনা নিয়ে অনেক অভিযোগ আসতো। সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন। কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেল সেরকম কোন অভিযোগ আসে না। খেলার খবরকে ত্রুটিমুক্ত করতে আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছিলাম তা সফল হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

Image caption ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন উইন্ডিজ।

যাই হোক, কোন অভিযোগ নয়, এবারে খেলা-ধুলা নিয়ে একটি প্রশ্ন পাঠিয়েছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ তারিফ হাসান:

''চলতি বছর পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট সিরিজ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আছে বাংলাদেশজাতীয় ক্রিকেট দল। চলমান এই ক্রিকেট সিরিজের মাধ্যমে হঠাৎ করেই জানতে পারলাম নামের একটি বিশেষ পরিবর্তন। আগে যেটি ছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ বর্তমানে তা পরিবর্তিত হয়ে শুধু 'উইন্ডিজ' করা হয়েছে। নাম পরিবর্তন করার পেছনে মুল কারণটা কী আর কেনইবা হঠাৎ করে এই পরিবর্তন?''

পরিবর্তনটি ঠিক হঠাৎ করে হয়েছে, তা আমি বলাবো না মিঃ হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বরাবরই উইন্ডিজ নামেই পরিচিত ছিল। সংক্ষেপে, দুটো শব্দ ব্যবহার না করে একটি নামে টিমকে সম্বোধন করা হতো। যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে টাইগার্স বলা হয়, বা দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে প্রোটিয়াস বলা হয়।

গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড নিজেদের নাম বদলে রাখে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই সময়, তারা ঘোষণা দেয় দলের আনুষ্ঠানিক নাম এখন থেকে উইন্ডিজ রাখা হবে - যেটা বহু বছর ধরে তাদের ডাক নাম ছিল। এটা করা হয়েছে বোর্ড এবং টিম দুটোকেই আধুনিক একটি ভাবমূর্তি দেবার জন্য।

সম্প্রতি বাংলাদেশে তিনটি নগর নির্বাচনের কাভারেজ নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন ভোলার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''৩০ শে জুলাই ২০১৮ তারিখ সোমবার বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট তিনটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে ঐ দিনের সন্ধ্যার প্রবাহ অনুষ্ঠান শুনছিলাম। গাজীপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মতো সরেজমিন প্রতিবেদন শুনবো বলে প্রত্যাশা করেছিলাম। প্রবাহ শুনে সত্যিই হতাশ হতে হলো। কারণ বিবিসি বাংলার নিজস্ব কোন সাংবাদিক তিনটি সিটির কোনটিতেই সরেজমিন যাননি।

''শুধু কাদের কল্লোল ঢাকার অফিসে বসে তিন সিটির তিনজন সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করলেন এবং তা প্রবাহ অনুষ্ঠানে প্রচার করা হলো। ঢাকায় বিবিসির এত সংবাদকর্মী থাকার পরও কেন নির্বাচন কাভার করতে কোন সংবাদকর্মী পাঠানো হলো না, তা আমার মতো শ্রোতার কাছে বোধগম্য নয়। বিবিসির এই রহস্যজনক ভূমিকার কারণ কী?''

এখানে কোন রহস্যই নেই মিঃ রহমান এবং আপনার অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক না। আমাদের টেলিভিশন রিপোর্টার তাফসির বাবু রাজশাহীতে ছিলেন, তিনি সেখানকার ভোটের চিত্র বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহতে সুন্দরভাবে তুলে ধরেন।

Image caption রাজশাহীর একটি ভোটকেন্দ্র প্রিসাইডিং অফিসারের সাথে কথা বলছেন বিবিসির তাফসির বাবু।

তাছাড়া আমরা সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ওয়েবসাইটে লাইভ পেজ চালানো হয়, যেখানে নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে নির্বাচনের হালচাল কাভার করা হয়। সেখানে রাজশাহীতে বিএনপি প্রার্থীর অবস্থান প্রতিবাদের একটি ভিডিও রিপোর্টও ছিল।

তিনটি শহরে একই সাথে সংবাদদাতা পাঠানোর মত লোকবল আমাদের নেই। কিন্তু ঐ তিনটি শহরেই আমাদের সহযোগী সংবাদদাতা আছেন যাদের সবাই আমাদের চোখে নির্ভরযোগ্য। তাছাড়া, কেন্দ্রীয় ভাবে অনেক তথ্য এবং প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে সেগুলো সঠিক প্রেক্ষাপটে পরিবেশন করার প্রয়োজন ছিল। সে কারণে কাদের কল্লোল ঢাকাতেই অবস্থান করেছিলেন এবং রেডিও-টিভি দুটো মাধ্যমেই সংবাদ পরিবেশন করেছিলেন।

আরো একজন শ্রোতা, কুড়িগ্রামের ফরিদুল হক, আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে সন্তুষ্ট হননি। তাঁর অভিযোগের বিষয় সাপ্তাহিক ফোন-ইন:

''গত শনিবারের ফোন- ইন এর বিষয়বস্তু শুনে কিছুটা আশ্চর্য হলাম। যেখানে দেশের কয়লা লুটপাট হচ্ছে কিংবা সিটি কর্পোরেশনের ভোট হচ্ছে। সেখানে বিবিসি টিএসসিতে কে কাকে চুম্বন করলো কিংবা কে সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি কিংবা ভিডিও ফুটেজ তুললো, এসব অর্থহীন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। বিবিসির শ্রোতাসংখ্যা বা জনপ্রিয়তা কমাতে কি এই বিষয়গুলো যথেষ্ট নয়?''

আপনার কি তাই মনে হয় মিঃ হক? আমাদের তো তা মনে হয়নি। সেই ছবি নিয়ে বাক-বিতণ্ডা যখন তুঙ্গে তখন আমরা এই বিষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করি, যেটা সেই সপ্তাহে বিবিসি বাংলায় সব চেয়ে বেশি পঠিত প্রতিবেদন ছিল। অর্থাৎ বিষয়টি নিয়ে বিবিসি বাংলার পাঠকদের প্রবল আগ্রহ ছিল। সেজন্যই আমরা চুম্বনের ছবিটাকেই ফোন-ইনের বিষয় হিসেবে বেছে নেই।

পরের চিঠি লিখেছেন মাহবুবুর চৌধুরী, তবে তাঁর ঠিকানাটি মেইলে উল্লেখ করেননি:

''আমি দেখি আমাদের দেশের কয়েকটি পএিকা বিশেষ করে কালের কণ্ঠ, ডেইলি সংগ্রাম, প্রথম আলো, তারা রেডিও তেহরান থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদ ছাপায়। মাঝে মাঝে তারা বিবিসি থেকেও খবর ছাপায়। আমার প্রশ্ন এটা কি হুবহু অন্যর সংবাদ নকল করা নয়তো?''

আমি এটাকে ঠিক নকল বলবো না মিঃ চৌধুরী। এই সব গণমাধ্যম বিবিসি বা রেডিও তেহরানের বরাত দিয়েই খবরগুলো পরিবেশন করছে। তবে হ্যাঁ, যখন কোন খবর তারা হুবহু তুলে দেয় তখন সেটা যদি কোন চুক্তির ভিত্তিতে করা হতো, তাহলে আরো ভাল হতো। মাঝে মধ্যে অনেকে আমাদের প্রকাশিত খবর থেকে তথ্য নিয়ে নিজেদের প্রতিবেদন তৈরি করে। সেটা নিয়ে আমাদের কোন সমস্যা থাকেনা, যদি তথ্যের সূত্র হিসেবে আমাদের নাম উল্লেখ করা হয়। ।

যে বিষয় দিয়ে শুরু করেছিলাম, অর্থাৎ প্রীতিভাজনেষু, সেটা দিয়েই শেষ করছি। লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''প্রীতিভাজনেষুকে আমরা নতুন নামকরণে দেখতে চাই। সেটা বিবিসি'র দেয়া কোন নাম নয়। শ্রোতাদের কাছ থেকে নাম আহবান করলে আমরাই তা লিখে পাঠাবো, ওখান থেকে নির্বাচিত একটি নাম নিয়ে নতুন আঙ্গিকে প্রীতিভাজনেষুর পথচলা শুরু হোক, এমনটাই কাম্য।''

ভাল প্রস্তাব করেছেন মিঃ ইসলাম। প্রীতিভাজনেষু নামটা বেশ সেকেলে শোনায়, বদলালে ভালই হতো। এই অনুষ্ঠান যারা শুনছেন বা যারা অনলাইনে পড়েছেন, চিঠি-পত্রের আসরের জন্য একটি সময়োপযোগী নাম প্রস্তাব করুন, সেখান থেকে আমরা একটি বাছাই করে নিবো। আপনাদের ধন্যবাদ।

যাদের চিঠি কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করেছি কিন্তু আলোচনায় আনতে পারিনি, তাদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে শেষ করছি:

জহিরুল ইসলাম পিয়ার, ঢাকা।

মোহাম্মদ আপেল মাহমুদ, ঢাকা।

মোহাম্মদ রুবায়েত বিন আবেদীন, নোয়াখালী।

তোরাব বিশ্বাস, চৌগাছা,যশোর।

মোহাম্মদ আজিনুর রহমান লিমন, ডিমলা, নীলফামারী।

মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন, ঢাকা।

মোকলেছুর রহমান, গাজীপুর।

মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, যশোর।

মাকামে মাহমুদ চৌধুরী, রাউজান, চট্টগ্রাম।

আহসান হাবীব রাজু, মহেন্দ্রনগর, লালমনিরহাট

তপন মজুমদার, বাগেরহাট, বাগেরহাট

আজিজুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, ঢাকা।

মোহাম্মদ শাহ্ জামাল, মেলান্দহ, জামালপুর

শামীম উদ্দিন শ্যামল, ধানমন্ডি, ঢাকা।

মোহাম্মদ এনামুল, পশ্চিম টুটপাড়া, খুলনা ।

বিবিসি বাংলার খবর সম্পর্কে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখুন:

ইমেইল: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক: www.facebook.com/BBCBengaliService/

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর