পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জীবনযাপন করে কীভাবে এই পৃথিবী রক্ষায় অবদান রাখতে পারেন?

স্কুলে বা কাজে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প উপায় বেছে নিতে পারেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

স্কুলে বা কাজে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প উপায় বেছে নিতে পারেন

আমাদের এই পৃথিবীতে প্রায় শতাব্দী ধরে বহু শহর বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

পঞ্চাশের দশকে লন্ডনে ধোঁয়ায় নিহত হয়েছিলো হাজার হাজার মানুষ।

এরপর থেকে বাতাসকে মানুষের নি:শ্বাস উপযোগী করতে অনেক কিছু করা হয়েছে তারপরেও ব্রিটেনের এই শহরের বাতাস এখনো ইউরোপের অনেক শহরের তুলনায় বেশী দূষিত।

যুক্তরাজ্য সরকার বলছে বায়ু দূষণ এখনো একটি বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়। এমনকি বলা হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির ক্ষেত্রে ক্যান্সার, স্থূলতা ও হৃদরোগের পরই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এই দূষণ।

কিন্তু কি করা যেতে পারে বাতাসের মান উন্নীত করতে, তা আপনি যেখানেই বাস করুন না কেন।

এখানে তেমন কয়েকটি উপায়ের কথা বলা হয়েছে।

১. ভ্রমণের বিকল্প পথ

নিজের গাড়িটা বাড়িতে রেখে আপনি কার্বন নিঃসরণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

লন্ডনের মেয়র লোকজনকে উৎসাহিত করছেন গণ পরিবহন ব্যবহারে বা দু মাইলের কম রাস্তা বাইক বা হেটেই পার হতে। লন্ডনে নতুন টক্সিটি চার্জও নির্ধারিত হয়েছে দশ পাউন্ড করে। যা প্রয়োগ করা হবে ২০০৬ সালের আগে রেজিস্ট্রেশন করা ডিজেল ও পেট্রোল চালিত গাড়ীর ক্ষেত্রে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছে লন্ডন শহর

২.কার্বন নি:সরণ পরীক্ষা করে দেখুন

নতুন গাড়ি কেনার সময় বা গাড়ীর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাগুলো যখন দেখবেন তখন দেখুন নিঃসরণ হার কেমন। সবচেয়ে কম নিঃসরণ হয় এমন গাড়িই পরিবেশের জন্য ভালো। যুক্তরাজ্যে ডিজেল চালিত গাড়ী কমেছে চল্লিশ ভাগ এবং সরকার বলছে ২০৪০ সাল নাগাদ ডিজেল চালিত কার ও ভ্যান বিক্রয় বন্ধ করে দেয়া হবে।

৩. ইলেকট্রিক কার

সরকার আশা করছে সারাবিশ্বেই সামনে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়বে আগামী দশকে। ২০৪০ সাল থেকে শুধু পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়ি আর বিক্রি হবেনা যুক্তরাজ্যে। তারও এক দশক পর সব চলবে শুধু ইলেকট্রিক গাড়ি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে। এ মুহূর্তে সেখানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বিদ্যুৎচালিত গাড়ি চলছে। রাজ্যটির লক্ষ্য হলো ২০২৫ সাল নাগাদ তার রাস্তায় থাকবে প্রায় পনের লাখ গাড়ি রাস্তায় থাকবে যেগুলো থেকে কার্বন নিঃসরণ হবেনা।

৪.রাইড শেয়ারিং

বিশ্বের বহু জায়গায় আপনি এখন আপনার ভ্রমণকে অন্য কারও সাথে শেয়ার করতে পারেন যেটি কার্বন নিঃসরণ কমাবে। বহু প্রযুক্তি কোম্পানি এ ধরনের অফার দিচ্ছে যেখানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই আপনি অন্যের সাথে যানবাহনে যেতে পারেন। এটায় খরচও তুলনামূলক কম। আর আমেরিকাতে তো রাস্তায় রাইড শেয়ারিং যানবাহনের জন্য আলাদা লেনই আছে মোটরওয়েতে।

আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

আপনি কি জানেন আপনার গাড়ী কতটা বায়ু দূষণ ঘটায়?

৫. নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন

আপনি কখনো বাসায় সোলার প্যানেল লাগানোর কথা ভেবেছেন?

এটা দীর্ঘমেয়াদে আপনার জ্বালানি খরচ কমাতে পারে।

কেউ দরকারের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সেটি গ্রিডে দিয়ে বোনাসও নিতে পারে।

৬. বাড়িতে ব্যাটারি

ইলেকট্রিক বা বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি থাকলে এটা জ্বালানি জমা রাখার সুযোগও দিয়ে থাকে।

ভবিষ্যতে জ্বালানি কোম্পানি গুলো ভেহিকল টু গ্রিড প্রযুক্তি আনার বিষয়টি খুঁজছে। অর্থাৎ আপনি ব্যাটারিতে জ্বালানি সঞ্চিত রাখতে পারেন এবং পরে গ্রিডে বিক্রয়ও করতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়াতে নতুন বাড়িঘর হচ্ছে সোলার প্যানেলসহ এবং সেখানে ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জিং পয়েন্টও থাকবে।

এই বিষয়ে আরো খবর:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ক্যালিফোর্নিয়ায় এখন বিদ্যুৎচালিত যানবাহন আছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ

৭. বাড়িতে জ্বালানি সঞ্চয়

সারাবিশ্বেই জ্বালানি খরচ বাড়ছে ঘরবাড়ির। যুক্তরাজ্যেই এক দশকে এটি দ্বিগুণ হয়েছে।

খরচ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে কাজে দিতে পারে স্মার্ট মিটার যা থেকে ডিজিটালি সঠিক রিডিং পাওয়া যাবে।

এছাড়া আরও ছোটও কিছু পদক্ষেপও খরচ কমিয়ে আনতে পারে। জ্বালানি ব্যবহার হয় এমন সব কিছু সবসময় চালিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। টিভি দেখছেননা যখন সংযোগটিই বন্ধ করে রাখুন। অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে।