বাংলাদেশে আদালতের নির্দেশে আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে হাসপাতালে পরীক্ষার পর আবার ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে

পুলিশ হেফাজতে শহিদুল আলম। ছবির কপিরাইট AFP
Image caption পুলিশ হেফাজতে শহিদুল আলম।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় রিমান্ডে থাকা আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আবার ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

শারীরিক পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে আর ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। পরে দুপুরের দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশে বুধবার সকাল ৯টার দিকে তাকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয় থেকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি হাসপাতালের কেবিন ব্লকের পঞ্চম তলায় আছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শহীদুল আলমকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অবিলম্বে বিএসএমএমইউ-এ পাঠানোর এই নির্দেশ দেন।

ওইদিন রাত ৯টার মধ্যে আদালতের এই নির্দেশনা ডিবি পুলিশের কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও কেন তাকে ওই রাতেই হাসপাতালে পাঠানো হল না এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদুল আলমের পরিবার।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে শহীদুল আলমের মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আদালত থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইদিন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হবে।

শহীদুল আলমের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ এবং তার আইনজীবী সারা হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরো পড়ুন:

শহিদুল আলমকে চিকিৎসা দিন: আদালত

আইসিটি আইনে মামলায় শহীদুল আলম ৭ দিনের রিমান্ডে

'শহীদুল আলমকে একদল লোক তুলে নিয়ে গেছে'

তবে তারা হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেও সাক্ষাতের কোন অনুমতি মেলেনি বলে জানান রেহনুমা আহমেদ।

তিনি বলেন, 'আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও পুলিশ দেখা করতে দেয়নি। এ বিষয়ে তারা হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। সেখানে তারা আমাদের জানিয়েছেন ইনভেস্টিগেশন শেষে আমরা দেখা করতে পারবো। শহীদুল আলম কেমন আছেন সে বিষয়ে কোন পরিষ্কার তথ্য পাইনি।'

শহীদুল আলমকে আটকের পর ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করার অভিযোগ এনে তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো এবং তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগে গতকাল হাইকোর্টে রিট করেছিলেন রেহনুমা আহমেদ।

ওই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত শহীদুল আলমকে ডিবি হেফাজত থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।

এতে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিআইজি (ডিবি) ও রমনা থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়।

ইতোমধ্যে শহীদুল আলমকে হাসপাতালে পাঠাতে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

আপিল উত্থাপনের কারণ হিসেবে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে সামাজিক উস্কানি ছড়ানো এবং সরকারের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে আনা হয়।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে 'উস্কানিমূলক' বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে শহীদুল আলম রমনা থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে আছেন।

ডিবি (উত্তর) পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে সোমবার বিকালে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

রোববার রাতে খ্যাতনামা আলোকচিত্রী, দৃক ফটো গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলমকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।