প্রীতিভাজনেষু: আপনাদের প্রশ্ন, সম্পাদকের জবাব

পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সাক্ষাতকার নিচ্ছেন শ্যামল লোধ। সাথে আছেন বাংলা বিভাগের তৎকালীন প্রধান জন রেনার।
Image caption স্মৃতির পাতা থেকে: পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সাক্ষাতকার নিচ্ছেন শ্যামল লোধ। সাথে আছেন বাংলা বিভাগের তৎকালীন প্রধান জন রেনার।

গত কয়েকদিন বাংলাদেশে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে গেল। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদে হাজার হাজার স্কুল এবং কলেজ ছাত্র-ছাত্রী টানা সাত দিন ধরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করলো। অনেকেই আশা করছেন ছাত্রদের এই আন্দোলন পরিবহন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেবে।

তবে আন্দোলন শুরুতে মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে শহুরে মধ্যবিত্তের মধ্যে যতটা সমর্থন অর্জন করতে পেরেছিল, তার শেষটা ঠিক সে পরিমাণ তিক্ততা এবং ভীতির সঞ্চার করেছে। শহরের কয়েক জায়গায় হলো শিক্ষার্থী এবং পুলিশ আর অজ্ঞাত পরিচয় যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সামাজিক মাধ্যমে দাবানলের মত ছড়িয়ে দেয়া হলো হত্যা-ধর্ষণের গুজব।

গুজব ঠেকাতে এবং আন্দোলনের গতি রোধ করতে কমে আসলো ইন্টারনেটের গতি। গুজবের উৎস খুঁজতে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলো। স্বনামধন্য ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ আসলো, দেশে-বিদেশে নিন্দার ঝড় উঠলো।

আন্দোলন দমনে পুলিশ গ্রেফতার করলো প্রায় দু'ডজন ছাত্রকে, হানা দিল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যার আশে-পাশে তিনটি বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয় রয়েছে।

Image caption ছাত্রদের আন্দোলনে ছিল প্রচণ্ড আবেগ আর কোন রাজনৈতিক নেতার প্রতি ক্ষোভ।

এ'সব ঘটনা প্রবাহ দেখে ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন বগুড়ার শাহিনুর আলম:

''বাংলাদেশে এখনো রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধের সময় আসেনি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে বিবিসির ওয়েবসাইট ভিজিটসহ ফেসবুকে লাইভ অনুষ্ঠান শোনা সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ-এর লোডশেডিংয়ের কারণে টিভিও দেখা যাচ্ছে না। খবরের জন্য আমাকে রেডিওতেই কান পাততে হচ্ছে। তাই অনুরোধ, প্রবাহ অনুষ্ঠানের সময় বাড়ান অথবা রাতের অনুষ্ঠান আবারো চালু করুন নতুবা প্রভাতী। বাংলাদেশে আরো কঠিন সময় আসছে সামনে। চীনের মত ফেসবুক বন্ধ থাকবে আমাদের দেশে বছরের পর বছর।''

আপনার দুশ্চিন্তার পেছনে নিশ্চয়ই যথেষ্ট কারণ আছে মিঃ আলম, তবে অনেকের মত আমিও আশা করবো বাংলাদেশ সরকার আপনার সংশয় ভুল প্রমাণিত করবে। রেডিও একদম বন্ধ করার কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই, তবে প্রভাতী বা পরিক্রমা আবার ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে। বিশ্বব্যাপী মিডিয়া জগত যেদিকে যাচ্ছে, তাতে রেডিওতে নতুন বিনিয়োগ খুবই বিরল ঘটনা হবে।

Image caption হুমকির মুখে?:ছাত্র আন্দোলনে সফল করতে ফেসবুক এখন অপরিহার্য।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে বিবিসির খবরের ওপর আস্থা রাখতে পেরেছেন বলে জানাচ্ছেন রংপুর সরকারি কলেজ থেকে মুন্নী পাটোয়ারী:

''বিবিসি বাংলার দুটি অধিবেশন শোনার চেষ্টা করি। যদি কোন কারণে বাদ পরে যায় তাহলে ফেসবুক পেজের লাইভ স্ট্রিমিং থেকে শুনে থাকি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে প্রতিবেদনগুলো যেমন ছিল সত্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ। তেমনি করেই আগামীতেও বিবিসি বাংলা বাংলাদেশের আলোচিত ঘটনাগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভয়ে তুলে ধরবে, সেই আশায় রইলাম।''

আপনার আশা পূরণ করতে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করবো মিস পাটোয়ারী। ফেসবুক লাইভ স্ট্রিমিং উপকারে আসছে জেনে আমাদের ভাল লাগলো।

তবে আন্দোলনের কাভারেজ বড় ঘাটতি দেখেছেন কুড়িগ্রামের ফরিদুল হক:

''গত এক সপ্তাহ বা তার বেশী সময় ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে নামে শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে স্পটে থেকে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বা অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলো সরাসরি খবর প্রচার বা প্রতিবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু সেখানে বিবিসি বাংলার ভূমিকা একদম ছিলই না বলা চলে। বাংলাদেশের এতো বড় একটি আন্দোলনের ব্যাপারে বিবিসি চোখ না দিয়ে জনদূর্ভোগ বা জনগণের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলো কিন্তু বিবিসি ছাত্রদের সাথে না থাকার কারণ কি?''

ছাত্রদের সাথে থাকা বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন, তা আমি জানিনা মিঃ হক। তবে বিবিসি কোন আন্দোলনে কারো পক্ষে থাকে না, থাকতে পারেনা। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু আন্দোলনের খবর আমরা দিইনি, এমন অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয়। এটা ঠিক, প্রথম দু'এক দিন খবরের ঘাটতি ছিল। আন্দোলনের শুরু সোমবার আর পুরোদমে কাভারেজ দিতে আমাদের বুধবার পর্যন্ত লেগেছে। কিন্তু তারপর রেডিও, টেলিভিশন, অনলাইন এবং সামাজিক মাধ্যম, সব প্লাটফর্মেই আন্দোলনের খবর দেয়া হয়েছে এবং তার নানা দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যেমন ৫ তরিখের এই ভিডিওটি:

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
শাহবাগ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি জিগাতলার দিকে যেতে চেয়েছিল

সহিংসতা এবং ধর-পাকড়ের ঘটনা স্কুল ছাত্রদের মূল লক্ষ্য, নিরাপদ সড়ককে কিছুটা পেছনে ফেলে দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। তারপরও অনেকেই নিরাপদ সড়ক-এর লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। তাদেরই একজন খুলনার কপিলমুনির মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাহ বাপ্পী:

''ঢাকাতে কাজের প্রয়োজনে এসে দেখলাম আগের মত অনেক পরিবহন শ্রমিক অপ্রাপ্ত বয়সের, তারা বিশেষ করে লেগুনাসহ বিভিন্ন যানবাহন চালাচ্ছে। কারণ অনুসন্ধান করে জানতে পারলাম, দেশে সরকারি এবং বেসরকারি যে ড্রাইভিং সেন্টার গুলি আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ট্রাফিক আইন জেনে এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে রাস্তায় নামলে দুর্ঘটনা কম হবে।''

যে কোন কাজের জন্য প্রশিক্ষণ থাকা যে জরুরী তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মিঃ শিমুল বিল্লাহ। তবে যানবাহন রাস্তায় চালানোর জন্য তো শুধু চালানোর প্রশিক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান থাকলেই চলবে না, ধৈর্য ধরে সেসব আইন মেনে চলার মন-মানসিকতাও থাকতে হবে। তবে এই মানসিকতা শুধু চালকের না, পথচারীদের মধ্যেও তা জরুরী।

একই বিষয়ে খুলনারই আরেকজন পত্রলেখক মন্তব্য করেছেন। দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''শিক্ষার্থীরা যেটি কয়েক দিনে করে দেখাল, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরা দীর্ঘ দিনেও সেই কাজটি কেন করতে পারলো না? কারণ হচ্ছে দুর্নীতি। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি সড়ক থেকে দুর্নীতিকে সরিয়ে ফেলতে পারে তাহলে রাস্তায় অবৈধ গাড়ী এবং ড্রাইভার যেমন নামবে না, তেমনি ভাবে কেউ বেপরোয়া গাড়ী চালানোর সাহসও দেখাবে না, ভিআইপিরাও উল্টো পথে চলবে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হলে সড়ক নিরাপদ হয়ে উঠবে বলেই আমার বিশ্বাস।''

আপনার সাথে সবাই একমত হবে মিঃ সরদার, যে বাংলাদেশে অনেক সমস্যার মূলে আছে দুর্নীতি। কিন্তু এই দুর্নীতি কি বিচ্ছিন্নভাবে একটি সেক্টর থেকে দূর করা সম্ভব? দুর্নীতি প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে আছে। আর ঢাকার সমস্যা তো অনেক - অপর্যাপ্ত রাস্তা থেকে শুরু করে অপরিকল্পিত দালান-কোঠা এবং বেআইনিভাবে রাস্তা-ফুটপাত দখল। তবে হ্যাঁ, রাস্তায় গাড়ি চালানোর এবং পথচারী পারাপারের যেসব নিয়মকানুন আছে, পুলিশ যদি শুধু সেগুলো নিষ্ঠার সাথে প্রয়োগ করে এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করে, তাহলে অনেক উন্নতি দেখা যাবে বলেই সবার বিশ্বাস। কিন্তু সেটা করতে জনগণকেও সচেতন হতে হবে, শুধু পুলিশকে দোষ দিলেই হবে না।

বাংলাদেশে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের সমস্যাটির একটি চিত্র পাওয়া যায় বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহতে প্রচারিত এই ভিডিওটিতে:

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
সড়কে গণপরিবহনের বিশৃংখলা রোধে ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগে সমস্যা কোথায়?

এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। গত সপ্তাহের প্রীতিভাজনেষুতে রংপুরের একজন নিয়মিত পত্র লেখক চিঠি-পত্রের এই আয়োজনের নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমার কাছে প্রস্তাবটা মন্দ লাগেনি, যেহেতু প্রীতিভাজনেষু নামটি বহুদিন ধরেই চলছে। তবে এটাও ঠিক, কোন কিছুর নাম বহুদিন ধরে থাকলেই কি সেটা পরিবর্তন করা উচিত? তাহলে আমি নিজের নাম পাল্টে দেই না কেন - বহুদিন ধরেই তো নিজেকে সাবির মুস্তাফা বলে আসছি, এখন খুব সেকেলে শোনাচ্ছে, তাহলে বদলে দেই না কেন নিজের নাম?

কিন্তু না, সেটা তো করা সম্ভব না। মানে, করা সম্ভব - ইচ্ছা থাকলে প্রায় সবকিছুই করা সম্ভব - কিন্তু করে কি কোন লাভ হবে? তার কি যৌক্তিকতা আছে? এই প্রশ্নগুলোই তুলেছেন রাজশাহীর হাসান মীর:

''বিবিসি- বাংলার এক ' প্রীতিভাজন ' শ্রোতা চিঠিপত্রের জবাবের অনুষ্ঠান " প্রীতিভাজনেষু "র নামটি পুরনো হয়ে গেছে বলে সেটি পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন এবং রেডিওতে গত সপ্তাহের অনুষ্ঠান শুনে মনে হলো, প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন থাকলে নাম পরিবর্তনে আপনাদের কোনো আপত্তি নেই ।

''পুরনো হলেই অনেক কিছু পরিত্যাজ্য -- এ কথায় বিশ্বাস করলে আর ইতিহাস- ঐতিহ্য বলে কিছু থাকতো না । আমি তো মনে হয় বিবিসি- লন্ডন থেকে শুরু করে আজকের দিনের বিবিসি নিউজ বাংলা অবধি -- প্রায় ছয় দশক ধরে এই প্রীতিভাজনেষু শব্দটির উচ্চারণ শুনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি । এতকাল বাদে সেই অতি পরিচিত শব্দটি পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন দেখি না, বরং এই প্রস্তাবকে নিতান্তই বালখিল্য আবদার বলে গণ্য করি। জানি না আমার এই মনোভাবকে আপনারা কীভাবে গ্রহণ করবেন।''

আপনার বক্তব্যকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি মিঃ মীর। শুরুতেই যা বলেছি, তা শুনেই আপনি বুঝতে পারছেন, নাম পরিবর্তনের বিপক্ষের যুক্তিকেও আমি জোরালো হিসেবেই দেখছি। হয়তো অনলাইনে যেটা করা হচ্ছে তার ভিন্ন নাম রাখার যুক্তি থাকতে পারে, যেহেতু সেখানে চিঠি-পত্রের জবাব ছাড়াও নতুন পুরাতন অনেক ছবি দেয়া হচ্ছে, ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনের লিঙ্কও দেয়া হচ্ছে। ডিজিটালের মেজাজ এবং চরিত্রই ভিন্ন। অনলাইনে ভিন্ন নামের কথা ভাবতে পারি কিন্তু রেডিওর প্রীতিভাজনেষু প্রীতিভাজনেষুই রয়ে যাবে।

Image caption আশির দশকের কথা: বুশ হাউসে ভারতীয় সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সাথে বাংলা বিভাগের দীপঙ্কর ঘোষ।

যাই হোক, এই কথা বলতে না বলতেই ভোলার জিল্লুর রহমান জানাচ্ছেন নাম পরিবর্তনের পক্ষে তাঁর অভিমত:

''প্রীতিভাজনেষুর নাম আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে বসেছে জেনে ভাল লাগছে। প্রীতিভাজনেষু অনুষ্ঠানের নতুন নাম হিসাবে 'মেলবন্ধন' আমার কাছে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়। মেল শব্দটির মধ্যে চিঠিপত্র ও ইমেইল দুটির গন্ধ টের পাওয়া যায়। এছাড়া, প্রীতিমিলন, সেতুবন্ধন, আপনজন, আপন ঠিকানা, আলাপন নামগুলোও যুতসই মনে হয়।''

আপনি যে নামগুলোর কথা বলছেন, সেগুলো মনে হয় রেডিও অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু একটু আগেই যা বলছিলাম, রেডিওতে নাম পরিবর্তন করা হবে না, যেহেতু অনুষ্ঠানটি নতুন নয়। নতুন করে সাজানোও হচ্ছে না। তবে অনলাইন সংস্করণের জন্য উপযুক্ত নাম পাওয়া গেলে সেটা বিবেচনা করা হতে পারে, যেহেতু ডিজিটাল মাধ্যমে এটা ভিন্নভাবে সাজানো হচ্ছে।

প্রীতিভাজনেষু নিয়ে আরো লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া থেকে ধীরেন বসাক:

''৪ঠা অগাস্ট সকালের প্রত্যুষাতে প্রীতিভাজনেষু দীর্ঘ চার মাস পর রেডিওতেশুনতে পেলাম, ভালো লাগলো । এ যেন বাড়ীর ছেলে চার মাস পর আবার বাড়ীতে ফিরে আসার মতন ঘটনা । এখন থেকে প্রীতিভাজনেষু প্রতি শনি ও রবিবার প্রত্যুষাতে পাঁচ মিনিট করে রেডিওতে প্রচার করা হবে, এই কথা জেনে ভীষণ খুশি হয়েছি ।''

আপনি খুশি হয়েছেন শুনে আমরাও খুশি হয়েছি মিঃ বসাক। আশা করি অনুষ্ঠানটি আপনি আগের মতই উপভোগ করবেন।

প্রীতিভাজনেষু নিয়ে আরো লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:

''প্রীতিভাজনেষু ফিরে আসা আমার কাছে দীর্ঘ বর্ষায় এক টুকরো রোদ্দুর পাওয়ার মত। আমি শক্তভাবে বিশ্বাস করেছিলাম, তোমার রেডিও প্রচার বন্ধ হওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। সেটি প্রমাণ করে ফিরে আসায় সুস্বাগত। আর ভাল কথা, প্রীতিভাজনেষু নামটি বেশ সুন্দর তো।''

নামটি যে সুন্দর তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মিঃ মোমিন উদ্দিন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে অনলাইনে যে সংস্করণ প্রকাশ করা হচ্ছে, তার ভিন্ন নাম রাখা যায় কি না। দেখা যাক। আর হ্যাঁ, চিঠি লেখাতে ফিরে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে একটি অভিযোগ, পাঠিয়েছেন খুলনার খালিশপুর থেকে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সুজন:

''আমার কোন রাগ, অভিমান, অভিযোগ কোন কিছু লিখে পাঠালে জবাব পাইনা। জানিনা এটা কেন হয়, গত সপ্তাহে একটি মেইল পাঠিয়েছিলাম, তার প্রাপ্তি স্বীকার ও হলো না। অনেক দিন না লেখার প্রধান কারণ এই রাগ। যাই হোক, শুভ কামনা বিবিসির জন্য, নতুন ভাবে চলার জন্য যেভাবে আপনারা চলতে চান বা চলার পরিকল্পনা করছেন তার জন্য। তবে একটু গ্রামের স্রোতার কথা ভাবেন। তারা কিন্তু এখনো সেভাবে অনলাইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না, বা থাকলেও সেরকম সুযোগ সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত।''

আপনার কথাটা কিন্তু পুরোপুরি সঠিক না মিঃ আসাদুজ্জামান। আমি অভিযোগ, সমালোচনা ইত্যাদি স্বাগত জানাই, এবং প্রীতিভাজনেষুর বড় অংশ জুড়ে সেগুলোর জবাব দেই। তবে এটা ঠিক, গত মাসের ৩১ তারিখে আপনার পাঠানো ইমেইলটা আলোচনায় নেয়া হয়নি। তার কারণ একটিই - আপনি যে বিষয়ে লিখেছেন সেটা নিয়ে গত পাঁচ মাসে অনেক চিঠির জবাব দিয়েছি। সব চিঠিরই একই উত্তর। তবে অবশ্যই চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা উচিত ছিল।

দুটি পৃথক বিষয়ে ছোট দুটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগর থেকে আহসান হাবীব রাজু:

''বিবিসি বাংলার টিভি অনুষ্ঠান চ্যানেল আই আমাদের লালমনিরহাট থেকে ভালভাবে দেখতে পারছি না। কারণ কি জানতে চাই । আর ফোন-ইন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করি কিন্তু ফোনে লাইন পাই না।''

আপনার এলাকায় চ্যানেল আই কেন ভাল দেখা যায় না সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব না মিঃ হাবীব। আপনাদের স্থানীয় কেবল অপারেটর সমাধান দিতে পারবে হয়তো। তবে ফোন ইনে অংশ গ্রহণের জন্য আগে এসএমএস পাঠিয়ে আপনার নাম রেজিস্টার করতে হয়। অনুষ্ঠানের দিন ফোন-ইন টিম আপনাকে ফোন করে অনুষ্ঠানে নেবে। সেটাই হবার কথা।

বিবিসি বাংলার সংবাদ পরিবেশনের উদ্দেশ্য নিয়ে একটি প্রশ্ন করেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''বিবিসি কি শুধু সংবাদ পরিবেশনের জন্যই তা করে, নাকি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে পাল্টাতে ভূমিকা রাখার সৎ ইচ্ছা বিবিসি'র আছে? তবে, আমার কাছে সব মিলে মনে হয়, বিবিসি হয়তো তাদের পূর্বের সুদৃঢ় নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসেছে, যা আপনাদের কার্যক্রমে সচরাচর প্রমাণিত হয়।''

সমাজ ব্যবস্থাকে পাল্টানোর কোন অ্যাজেন্ডা বিবিসির নেই মিঃ ইসলাম। কী পালটাবে আর কী পালটাবে না, সেটা আপনাদের ব্যাপার। বিবিসির মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রোতা-দর্শক-পাঠকের কাছে সঠিক তথ্য এবং নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ নিয়ে আসা, যাতে তারা নিজেদের জীবন এবং সমাজ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে আত্মবিশ্বাসী হন। একই সাথে উদারপন্থী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরার মাধ্যমে আমরা সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে চাই।

তবে বিবিসির পূর্বে কোন জিনিস আপনার কাছে সুদৃঢ় মনে হতো, আর সেই তুলনায় এখনকার কোন জিনিস সুদৃঢ় মনে হচ্ছে না, সেটা যদি একটু ব্যাখ্যা করে দু'একটি উদহারণ দিতেন, তাহলে আপনার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করতে পারবো।

ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন দিনাজপুর সদর থেকে কামরুজ্জামান সরকার:

''হঠাৎ এ'মাসের ৪ এবং ৫ তারিখে প্রবাহ ঢাকা থেকে সম্প্রচার করা হলো কেন? আর আপনারা ঢাকায় এখনো কি নতুন স্টুডিওতে উঠেনি? যদি নতুন স্টুডিওতে উঠে থাকেন তাহলে প্রত্যুষা ফেসবুক লাইভ করা হচ্ছে না কেন?''

আপনি নিশ্চয়ই জানেন মিঃ সরকার, সকালের অনুষ্ঠান প্রত্যুষা ঢাকা স্টুডিওতে তৈরি করা হয়। তবে লন্ডনে লোকবলের সমস্যা হলে মাঝে-মধ্যে সান্ধ্য অধিবেশন প্রবাহও ঢাকায় করা হয়, যেটা এই মাসে কয়েকবার হয়েছে এবং আরো দু'একবার হবে। তবে না, নতুন স্টুডিওতে যাওয়া হয়নি, যে কারণে ঢাকা থেকে অনুষ্ঠান ফেসবুক লাইভ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

ফাহাদ বিন বেলায়েত, লক্ষ্মীপুর

মাহফুজুর রহমান খান, মেলান্দহ,জামালপুর।

ফাইয়াদ আশফার, চট্টগ্রাম।

মোহাম্মদ অপু চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী।

এম এইচ মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম।

আশরাফুল আলম মুকুল, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন, বরিশাল।

জুয়েল মনি, রাজশাহী

মোহাম্মদ তারিফ হাসান, মাগুরা ফুলের ঘাট নীলফামারী।

তোরাব বিশ্বাস, চৌগাছা, যশোর।

মোহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম সাকিব, নোয়াখালী

বিলকিছ আক্তার, কাউনিয়া, রংপুর।

আখলাস উদ্দিন, মিরপুর ঢাকা।

মোহাম্মদ নুর জামাল ঢালী, দাকোপ,খুলনা।

মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ,মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।

বিবিসি বাংলার খবর সম্পর্কে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখুন:

ইমেইল: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক: www.facebook.com/BBCBengaliService/

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর