বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকায় পথচারীদের ট্রাফিক আইন মানানো সহজ নয়, বলছেন স্কাউটরা

ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে রাস্তায় পুলিশকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে স্কাউট-রোভাররা ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে রাস্তায় পুলিশকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে স্কাউট-রোভাররা

বাংলাদেশে শনিবার ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিবারের মত এবারও লক্ষ্য করা যায় রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা।

প্রতিবছরের মত এবারও বাংলাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহে পুলিশের পাশাপাশি রোভার ও স্কাউটদের রাস্তায় দেখা যায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে।

স্কুল কলেজে পড়া এই রোভার ও স্কাউটদের দেখা যায় গণপরিবহনগুলোকে রাস্তায় নিয়মমাফিকভাবে যাত্রী তোলা ও থামানোর বিষয়ে নির্দেশনা দিতে। পাশাপাশি পথচারীরা যেন রাস্তায় চলাচলের নিয়ম মানে সেবিষয়েও নির্দেশনা দিচ্ছিলেন স্কাউটরা।

পথচারীদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত কয়েকজন স্কাউট মনে করেন যে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে ট্রাফিক আইন মানতে বেশী অনুপ্রাণিত হচ্ছে।

তবে এবিষয়ে স্কাউটদের অধিকাংশেরই মত ছিল ভিন্ন।

তারা বলছেন সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা প্রবল।

পথচারীদের আইন না মানার প্রধান কারণ সময় বাঁচানোর চেষ্টা এবং অলসতা বলে মন্তব্য করেন স্কাউটরা।

মমিনুর নামের একজন স্কাউট বলেন, "নিয়ম মেনে একটু বেশী হেঁটে গিয়ে কিছুটা বেশী দূরত্ব অতিক্রম করতে রাজী হন না অধিকাংশ পথচারীই।"

আরো পড়ুন :

বিআরটিএ চিত্র: আন্দোলনের পর বিবিসির চোখে

পাঠ্যবইয়ে ট্রাফিক নিয়মের পাঠ কতটা আছে?

নিরাপদ সড়ক: ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোন পরিবর্তন এসেছে?

কতটা বিপজ্জনক সড়কে চলাচল করছেন আপনি?

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption পথচারীদের আইন না মানর প্রবণতা প্রবল বলে মন্তব্য করেন স্কাউটরা

যারা ট্রাফিক আইন ভাঙে তাদের অনুসরণ করার প্রবণতা মানুষের মধ্যে থাকলেও নিয়ম মেনে চলা মানুষদের খুব কম সংখ্যক লোকই অনুসরণ করে বলে মন্তব্য করেন মি. মমিনুর।

নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলন মানুষের মধ্যে কিছুটা সচেতনতা তৈরী করলেও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন স্কাউটদের অধিকাংশই।

সুহার্তো নামের একজন রোভার বলেন, "আজ সারাদিন যতজনকে ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হতে অনুরোধ করেছি বা নির্দিষ্ট জায়গায় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছি, তাদের বেশীরভাগই আমাদের কথা শোনেনি।"

আরেকজন রোভার জানান, শাস্তির ভয় দেখানোর আগ পর্যন্ত প্রায় কেউই আইনের পরোয়া করেন না।

সবচেয়ে বেশী হতাশা ছিল থিওটোনিয়াস নামের একজন রোভারের কন্ঠে। তিনি বলেন, "আমরা এখানে আছি, মানুষজনকে অনুরোধ করছি বলে মানুষ তাও কিছুটা আইন মানছে। দুই মিনিট আমরা না থাকলে দেখেন কি অবস্থা হয়। আবার আগের মত অবস্থা হবে।"

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সহায়তা করতে রাস্তায় নামা কিশোর স্কাউটদের মতে, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের নিজেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরীর বিকল্প নেই।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর