প্রীতিভাজনেষু: আপনাদের প্রশ্ন, সম্পাদকের জবাব

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা-রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলাপ করছেন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের তৎকালীন ইস্টার্ন সার্ভিসের প্রধান মার্ক ডড।
ছবির ক্যাপশান,

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা-রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলাপ করছেন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের তৎকালীন ইস্টার্ন সার্ভিসের প্রধান মার্ক ডড।

বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পরলেও, এই বিষয়কে ঘিরে খবর থেমে নেই। যেমন কয়েক দিন আগেই জানা গেল আন্দোলনের কয়েকজন আয়োজককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন অনেক দিন ধরে কারাগারে আছেন।

একই সাথে, কোটা বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল তার প্রধান মন্ত্রীপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছাড়া আর সব কোটা বাতিলের সুপারিশ করবেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে উচ্চ আদালতের যে পর্যবেক্ষণ ছিল তা মানার বাধ্যবাধকতা আছে কি না, সেটা স্পষ্ট করার জন্য সরকার আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

এই গেল আজকের ভূমিকা! এই ভূমিকার কারণ, আজকের প্রশ্নোত্তর শুরু করবো চাকরীতে কোটা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিমূলক একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন ভোলার লালমোহন থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''আমি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিষয় লক্ষ্য করলাম। সরকারী নিয়মে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে ৬০ শতাংশ নারী কোটা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ৫ শতাংশ উপজাতি কোটা, ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা, বাকী ৪ শতাংশ মেধা কোটা। প্রাথমিক শিক্ষা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এখানকার নিয়োগে মেধা কোটা যদি ৪ শতাংশ হয়, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ কী? এ নিয়োগে মেধার এত অবমূল্যায়ন কেন?''

কোট ব্যবস্থা মেধার অবমূল্যায়ন করে, এ'কথার সাথে আমি পুরোপুরি একমত হতে পারছি না। কারণ, যে নারী প্রার্থীরা ৬০ শতাংশ চাকরী পাবে, তারা নিশ্চয়ই মেধাশূন্য না। তারাও নিশ্চয়ই শিক্ষক হবার যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন এবং সেটা করার পরই তাদের কোটার ভিত্তিতে চাকরীতে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।

তবে হ্যাঁ, এটা অবশ্যই সম্ভব যে, কোন কোন প্রার্থী যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোটা-ভিত্তিক নির্বাচনের কারণে অগ্রাধিকার পান নি। কোটা ব্যবস্থার সেই সমালোচনা যুক্তি সংগত। তবে যারা চাকরী পাচ্ছেন, তারা মেধাবী না, এ'কথা আমার মতে মোটেই ঠিক না। (নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কীভাবে রাজনৈতিকভাবে জটিল হলো, তা নিয়ে বিবিসি বাংলার ভিডিও রিপোর্ট দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন)

ছবির ক্যাপশান,

ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বিবিসি বাংলার আবুল কালাম আজাদ রিপোর্ট করছেন টেলিভিশন অনুষ্ঠান 'বিবিসি প্রবাহ' র জন্য।

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে আরো লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''কোটা সংস্কারে গঠিত সচিব কমিটি সব ধরণের কোটা বাতিলের সুপারিশ করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে আদালতের পরামর্শ চেয়েছে। বিবিসি বাংলার মাধ্যমে এটিও জেনেছি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সংগঠন কোটার দাবীতে আন্দোলনে নেমেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কার চেয়েছিল, বাতিল নয়। সচিব কমিটির সিদ্ধান্ত কি কোটার দাবীতে আবার অনেককেই মাঠে নামতে বাধ্য করবে?''

আপনার কি তাই মনে হয় মিঃ সরদার? সব ধরনের কোটা যে বাতিল হবে, সেটা এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী সংসদেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। তখন কিন্তু আন্দোলনকারীরা তার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তা দ্রুত সরকারি গেজেটে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে সরকার নতুন করে ভাবছে, সম্ভবত তা বহাল রাখার জন্য আইনগত পথ খুঁজছে।

সমস্যা হলো, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মূল টার্গেটই ছিল এই মুক্তিযোদ্ধা কোটা। এখন সেই কোটাই যদি বহাল থাকে, তাহলে অসন্তোষ রয়েই যাবে। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা যদি ৩০ শতাংশ থেকে কমানো হয়, তাহলে সরকার বলতেই পারে যে ছাত্রদের দাবী অনুযায়ী সংস্কার করা হয়েছে।

কোটা নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলন শেষ হবার আগেই সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে স্কুল ছাত্রদের যে আন্দোলন হয়ে গেল, তা নিয়ে লিখেছেন বাগেরহাট থেকে তপন মজুমদার:  

''নিরাপদ সড়কের দাবীতে ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে বিগত কয়েকদিন যাবত বিবিসিসহ দেশি বিদেশী বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হচ্ছে। আমি চাই নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের বাধা কোথায়, এব্যাপারে বিবিসি বাংলা একটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করুক।''

ভাল প্রস্তাব দিয়েছেন মিঃ মজুমদার। আমরা ইতোমধ্যেই এ'ধরনের প্রতিবেদন ছোট আকারে করেছি, তবে আমি একমত, বিষয়ের গভীরে গিয়ে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন আছে। ছোট প্রতিবেদনের মধ্যে একটি ছিল এই ভিডিও রিপোর্ট:

ভিডিওর ক্যাপশান,

সড়কে গণপরিবহনের বিশৃংখলা রোধে ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগে সমস্যা কোথায়?

এবারে আসি সপ্তাহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে। বাংলাদেশে কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোন কলরেটে যে পরিবর্তন এনেছেন তা নিয়ে লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজিজুল ইসলাম:

''১৩ই অগাস্ট বিবিসি বাংলার মাধ্যমে জানতে পারলাম, বিটিআরসি সর্বনিম্ন কলরেট ৪৫ পয়সা করতে চলেছে। তখন বুঝি নাই এতে কত ক্ষতি হবে আমাদের মত সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের। আজ ১৫ আগস্ট দেখছি, সেই ৪৫ পয়সা আমাদের গলা কেটে নিচ্ছে। বিটিআরসি কিভাবে ভাবলো ৪৫ পয়সা কলরেটে সাধারণ জনগণ লাভবান হবে?

''বর্তমানে জিপির মত অপারেটর ভ্যাটসহ লোকাল নম্বরে ৬৫ পয়সা কেটে নিচ্ছে, আগে যা নিত ৩২ পয়সা। সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারার ব্যবস্থা করে দিল বিটিআরসি। বিবিসি বাংলার মাধ্যমে বিটিআরসি কে অনুরোধ জানাচ্ছি, অতি দ্রুত সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা কলরেটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জনসাধারণকে মুক্তি দিন।''

একই বিষয়ে লিখেছেন খুলনা থেকে সাইদুর রহমান:

''সাম্প্রতিক কালে মোবাইল ফোনের কল রেট বৃদ্ধি করা হয়েছে যা আমার জানা মতে গ্রাহকদের খরচ প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছে। এ'ব্যাপারে বিবিসি বাংলা যদি গ্রাহকদের মতামত সহ কোন প্রতিবেদন প্রচার করে তাহলে ভাল হয়।''

কলরেটে সর্বনিম্ন রেট নির্ধারণ করাটা আমার কাছে বিস্ময়কর একটা ব্যাপার ছিল মিঃ ইসলাম এবং মিঃ রহমান। এ'ধরনের সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রেট নির্ধারণের কথা শুনেছি কিন্তু সর্বনিম্ন রেটের কথা এই প্রথম শুনলাম। গ্রাহকদের ওপর তার কী ধরনের প্রভাব পরছে, তা আপনাদের কথা থেকেই আঁচ করা যাচ্ছে। এর সার্বিক প্রভাব নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রচার করা হবে বলে আশা করছি।

ছবির ক্যাপশান,

স্মৃতির পাতা থেকে: প্রীতিভাজনেষু রেকর্ডিং-এর সময় স্টুডিওতে চিঠি নিয়ে আনন্দিত সেরাজুর রহমান এবং কমল বোস।

পরের চিঠি লিখেছেন যশোরের চৌগাছা থেকে তোরাব বিশ্বাস। তিনি মন্তব্য করেছেন আমাদের ফোন-ইন অনুষ্ঠান নিয়ে:

''বিবিসি বাংলার প্রতিদিনের আয়োজন নিয়মিতই শুনছি। ফোন-ইন পর্বটি তেমন ভালো লাগছে না। মতামত দাতাদের কথাগুলো তেমন ভালো শোনা যায় না। নতুন কোনো পদ্ধতিতে ফোন-ইন করা যায় কিনা ভেবে দেখবেন।''

এটা ঠিক যে ফোন লাইনের মান প্রায় খারাপ হয় আজকাল, কিন্তু সে ব্যাপারে আমাদের করার খুব একটা কিছু থাকেনা মিঃ বিশ্বাস। স্কাইপের মাধ্যমে কল নেয়া হলে শ্রবণ মান অনেক ভাল হতো, কিন্তু সব কলারের স্কাইপ নেই আর থাকলেও একটি কলের জন্য অনেক ডাটা খরচ হয়ে যাবে। যতদূর সম্ভব আমরা চেষ্টা করি লাইনের মান উন্নত করার। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে দুটি প্রশংসাপত্র, প্রথমটি লিখেছেন রাজশাহীর রানীবাজার থেকে হাসান মীর:

''গত ১৫ই অগাস্ট প্রবাহ অনুষ্ঠানের প্রতিটি সেগমেন্ট , যেমন -- শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডে ভারতের প্রতিক্রিয়া , এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব কী ছিল , শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনীতির গতিপথ কীভাবে বদলে দিয়েছে , পঁচাত্তরের ১৫ই অগাস্ট শেখ মুজিবের বাড়ির নিরাপত্তা কেমন ছিল -- খুবই ভালো লেগেছে । গোটা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তেতাল্লিশ বছর আগের সেই মর্মন্তুদ ঘটনার একটা স্পষ্ট নেপথ্য চিত্র ফুটে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।''

আর দ্বিতীয়টি পাঠিয়েছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইর থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম মৃত্যু বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের প্রাক্কালে এই বিষয়ে রেডিও ও ফেসবুক পেজের প্রতিবেদন গুলি ছিল ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।''

আপনাদের ধন্যবাদ হাসান মীর এবং ফয়সাল আহমেদ। তেতাল্লিশ বছর পরও ১৫ই অগাস্ট নিয়ে পরিবেশনায় নতুনত্ব বজায় রাখা বা ভিন্ন আঙ্গিকে প্রসঙ্গগুলো নিয়ে আসা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আপনার চাহিদা মেটাতে পেরেছি জেনে আমাদের ভাল লেগেছে।

১৫ই অগাস্ট নিয়ে আরেকটা চিঠি, পাঠিয়েছেন খুলনার খালিশপুর থেকে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সুজন:

''শেখ মুজিব সপরিবারে হত্যার পর ৩২নং রোডের বাড়ীর ভেতরের দৃশ্য কেমন ছিল? কর্নেল এম এ হামিদ তার ''তিনটি সেনা অভ্যুত্থান এবং না বলা কিছু কথা'' বইটিতে লিখে রেখে গেছেন সেই সময়ের কিছু তথ্য। ফারহানা পারভীনের করা ১৫ আগস্ট-এর সেইসব কিছু তথ্যের পোস্ট আপনাদের ওয়েবসাইট থেকে পড়ে মনে হচ্ছিল সব চোখের সামনে ভাসছে।

''আমার। একটা অনুরোধ, জাতির পিতার কোন সাক্ষাতকার নিশ্চয়ই আপনাদের আর্কাইভে আছে, যদি সেটি এ'মাসে একবার পুনঃ প্রচার করেন খুব খুশি হতাম।''

আপনাকে ধন্যবাদ মিঃ আসাদুজ্জামান। শেখ মুজিবের সাক্ষাৎকার আমাদের আর্কাইভে আছে বলেই আমি জানি। আশা করি তার অংশ বিশেষ শীঘ্রই পুন:প্রচার করা যাবে। (ফারহানা পারভীনের প্রতিবেদন পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন)

প্রীতিভাজনেষুর নাম বদলানো উচিত কি না, তা নিয়ে বেশ কিছু মতামত এসেছে। যেমন দিয়েছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''প্রীতিভাজনেষুর নাম পরিবর্তন নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। অনেকে নামও পাঠিয়েছেন বেশ কিছু। যদিও নামগুলো বেশ পরিচিত এবং বিভিন্ন বেতারে সেসব নামে চিঠিপত্র অনুষ্ঠান আছে। যাই হোক, বিবিসি বাংলার একজন ভক্ত হিসেবে আমি প্রীতিভাজনেষুর নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে। এমনকি প্রীতিভাজনেষুর টোন পরিবর্তনেরও বিরুদ্ধে। তবে প্রিয় সম্পাদকের সাথে একমত, ওয়েবসাইটে যে প্রীতিভাজনেষু লিখিত আকারে দেয়া হয় তার নাম পরিবর্তন হতে পারে।

''আর একটা কথা না বললেই নয়, প্রীতিভাজনেষুর নাম এবং এর টোন অনেক পুরাতন হলেও তা যুগোপযোগী, সাথে বিবিসি বাংলার ঐতিহ্য বহন করে।''

আপনাকে ধন্যবাদ শামীম উদ্দিন শ্যামল। আমি আপনার সাথে একমত, রেডিওতে প্রীতিভাজনেষুর ধরণ এবং মেজাজ-এর পরিবর্তন করা ঠিক হবে না। তবে হ্যাঁ, যদি ভবিষ্যতে কখনো কোন বৈপ্লবিক নতুন ফরম্যাটের কথা আমাদের মাথায় আসে, তাহলে সেটা নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য দরজা সব সময় খোলা রাখা ভাল।

আমাদের অনুষ্ঠান অনলাইনে শোনা নিয়ে চিঠি লিখেছেন ময়মনসিংহ থেকে সাখাওয়াত হোসেন:

''আমি ১২ই অগাস্ট সকালের অনুষ্ঠান শোনার জন্য আপনাদের ওয়েবসাইটে ঢুকলাম। কিন্তু সরাসরি শোনার কোন অপশন খুঁজে পেলাম না। এখানে আগের অনুষ্ঠানে ফাইল আপলোড করা। কিভাবে ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি শোনা যায়? আমি সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে বিবিসি শুনি,কিন্তু সকালের খবর ফেসবুকে প্রচার করেন না কেন?''

আমাদের ওয়েবসাইটে অডিওর নিচে প্রবাহ এবং প্রত্যুষার নাম আছে। অনুষ্ঠান শুরুর পর পরই সেখানে ক্লিক করলে আপনাকে অডিও পেজে নিয়ে যাবে। সেখানে লাইভ শোনার জন্য অডিও বাটনে ক্লিক করবেন। প্রত্যুষা তৈরি করা হয় আমাদের ঢাকা স্টুডিওতে। সেখানে ফেসবুক লাইভ করার কোন ব্যবস্থা এখনো নেই। আশা করি শীঘ্রই করা হবে।

এবারে বেশ পুরনো একটি বিষয় নিয়ে একটি চিঠি। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বলার তেমন কিছু নেই। কিন্তু চিঠিটি লিখেছেন নতুন একজন পত্রলেখক, বরগুনার বেতাগী থেকে মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন:

''বিবিসি বাংলাকে লেখা এটাই আমার প্রথম চিঠি। সম্প্রতি বিবিসির ২ টি প্রোগ্রাম সহ বেশ কিছু ফিচার অনুষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে আমি সহ অনেক শ্রোতা আপনাদের বেশ কিছু সংবাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আপনারা যুক্তি দিচ্ছেন যে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু রেডিওর অধিকাংশ শ্রোতা যে গ্রামের বয়স্ক, যাদের কাছে না আছে ইন্টারনেট, না আছে স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার। তারা কীভাবে এই ফিচারগুলো দেখতে বা পড়তে পারবে? তাদেরকে বঞ্চিত করাটা কি বিবিসি বাংলা ঠিক কাজ করেছে?''

কাওকে বঞ্চিত করা অবশ্যই ঠিক না মিঃ হোসেন, এবং বিবিসি সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তবে আপনি যে বললেন, রেডিওর অধিকাংশ শ্রোতা গ্রামের বয়স্ক, সেটা কিন্তু ঠিক না। আমাদের শ্রোতাদের সব চেয়ে বড় অংশ ৩৫ বছরের নিচে। তবে মিডিয়া জগত দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে, তার সাথে পাল্টাচ্ছে নতুন প্রজন্মের মিডিয়া ব্যবহারের ধরন। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ, দুটি প্রজন্মের কাছেই আমাদের প্রাসঙ্গিক থাকতে হবে, নাহলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। আপনি নিশ্চয়ই সেটা চান না?

ফেসবুক পাতায় একটি খবর পড়ে বিস্মিত হয়েছেন দিনাজপুরের মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''গত ১৫ অগাস্ট রাতে বিবিসি'র ফেসবুক পেজে একটি খবর দেখে আঁতকে উঠলাম! খবরটি ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের ওধাঙ্গা গ্রামের। শিরোনাম "বিলি না করে চিঠি ফেলে রাখতেন ভারতের যে পোস্টমাস্টার"। ভারতের ডাক বিভাগ বিশ্বের বৃহত্তম ডাক নেটওয়ার্কের একটি হয়েও যদি এরকম হয়, তবে আমার মনে হয় আমাদের বাংলাদেশ ডাক বিভাগে এর চাইতেও বড় বড় ঘটনা আছে। আপনারা তো ডাক বিভাগের উপর আস্থা হারিয়ে কয়েক মাস আগে বিবিসিতে চিঠি লেখার পোস্ট বক্স নং ঠিকানাটাই বাতিল করে দিয়েছেন! বাংলাদেশের ডাক বিভাগ নিয়ে আমারও অভিযোগ বহুদিনের। তাই বিবিসি বাংলা'র কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ থাকবে, বাংলাদেশের ডাক বিভাগকে নিয়ে কয়েক পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানমূলক রিপোর্ট চাই।''

অবশ্যই মিঃ ইসলাম। আমরা অনেক দিন ধরেই ভাবছি বাংলাদেশের ডাক ব্যবস্থা নিয়ে অনুষ্ঠান করার কথা। বিশেষ করে, গ্রামাঞ্চলে পোস্ট অফিস, চিঠি সংগ্রহ, বিতরণ, ডাক কর্মীদের বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণ, সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি সব বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা আমদের আছে। আশা করি শীঘ্রই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে।

সব শেষে, ভারত নিয়ে দু'একটি প্রশ্ন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী:

''ভারতের মুদ্রা হলো রুপি কিন্তু কলকাতা, আসাম, বিহার-এ টাকা বলা হয় কেন? তারা আমাদের স্বাধীনতার আগে থেকেই কি টাকা বলত, না আমাদের স্বাধীনতার সাথে সম্মান করে টাকা বলে। ভারতকে উপমহাদেশ বলা হয়। অথচ চীনের আয়তন ভারতের তিনগুণ চীনকে তো উপমহাদেশ বলা হয় না, রাশিয়ার আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র অথচ মহাদেশ ও বলা হয় না। ভারতকে আবার ইংরেজিতে ইন্ডিয়া আর বাংলায় ভারত বলার কারণ কি?''

এক সাথে অনেক প্রশ্ন করলেন মিঃ চৌধুরী। দেখি কতগুলোর উত্তর সঠিকভাবে দিতে পারি। প্রথমত, বিহারের কথা জানি না, কিন্তু বাংলায় অর্থের নাম সব সময় টাকা। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর নতুন দেশের মুদ্রার নাম টাকা রাখা হয়। কিন্তু তার মানে এই না যে ভারতের বাংলাভাষীরা টাকা শব্দ ব্যবহার বন্ধ করে দেবে।

আমার মনে হয়, ভারতকে উপমহাদেশ বলার প্রধান কারণ হচ্ছে এখানে বেশ কয়েকটি জাতির বসবাস - যারা ভাষা এবং সংস্কৃতির দিক থেকে ভিন্ন। এই উপমহাদেশে কিন্তু সহজেই ভাষা এবং জাতি ভিত্তিতে ১০-১৫টি দেশ হতে পারে। হয়েছে তিনটি। সেজন্য ভারত একটি ছোট মহাদেশের মতই। কিন্তু একই কথা রাশিয়া বা চীন সম্পর্কে বলা যায় না, যদিও আয়তনে তারা অনেক বড়।

দেশটির আদি নাম ভারত। সব ভাষাতেই সেটা ভারতই হওয়া উচিত। কিন্তু ইউরোপীয়রা ভারতকে ইন্ডিয়া নাম দেয়। ভারতেও আনুষ্ঠানিক সরকারী কাজে দুই নামই ব্যবহার করা হয়। এর ফলে অনেকে যখন ইংরেজিতে লেখেন বা কথা বলেন, তখন তারা ভারতকে ইন্ডিয়া বলে সম্বোধন করেন। করাটা কি ঠিক? আমার মনে হয়না, আমার মনে হয় ভারতকে ভারতই বলা উচিত। কিন্তু আমিও যখন ইংরেজি বলি বা লিখি, তখন ইন্ডিয়া শব্দটিই ব্যবহার করি।

এবারে কয়েকটি চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে নিচ্ছি:

প্রীয়ঞ্জিত কুমার ঘোষাল, বেহালা, কলকাতা।

আশরাফুল আলম মুকুল, সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়।

আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম ।

শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি খুলনা।

মোহাম্মদ আজিনুর রহমান লিমন, ডিমলা, নীলফামারী।

মিজানুর রহমান, বরলেখা, মৌলভীবাজার।

মনির হোসেন, জলঢাকা, নীলফামারী।

মাকামে মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা

করিমুল ইসলাম, হরিপুর, ঠাকুরগাঁও

এমদাদুল হক বাদশা , দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা

বিবিসি বাংলার খবর সম্পর্কে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখুন:

ইমেইল: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক: www.facebook.com/BBCBengaliService/