ব্রিটেনে এমপিদের একটি কমিটি বলেছে, 'ধূমপান ছেড়ে দিতে ই-সিগারেট প্রধান হাতিয়ার হতে পারে'

ব্রিটেনে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ধূমপান ছেড়ে দেয়ার জন্য ই-সিগারেট ব্যবহার করছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ব্রিটেনে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ধূমপান ছেড়ে দেয়ার জন্য ই-সিগারেট ব্যবহার করছে।

ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট নিয়ে দুনিয়াজুড়ে বিতর্ক রয়েছে।

তবে এবার ব্রিটেনে এমপিদের একটি কমিটি ই-সিগারেটের পক্ষে বক্তব্য নিয়ে এসেছে।

দেশটিতে এমপিদের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যাপিং বা ই-সিগারেট সাধারণ বা তামাকের সিগারেটের থেকে কম ক্ষতিকর।ফলে ই-সিগারেটের ব্যবহার সহজলভ্য হলে, সেটা অনেক মানুষকে তামাকের সিগারেটের ব্যবহার বা ধূমপান থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করবে।

এ ধরণের যুক্তি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ই-সিগারেটের ব্যাপারে বিধিনিষেধ শিথিল করা উচিত। যাতে এর ব্যবহার আরও বাড়ে এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পায়।

বাস এবং টেনেও যাতে ই-সিগারেট ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়টিও ব্রিটিশ সরকারকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে ঐ প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন:

ব্রিটেনের এমপিদের কমিটির প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে, ধূমপান বন্ধের জন্য মানুষকে সাহায্য করতে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ই-সিগারেটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু তা উপেক্ষা করা হচ্ছে।

এমপিদের কমিটি কী সুপারিশ করেছে?

. ই-সিগারেটের প্রচারের জন্য এই শিল্পে স্বাধীনতা প্রয়োজন।

. ই-সিগারেটের ব্যাপারে বিধি নিষেধ এবং শুল্ক শিথিল করা উচিত।

. স্বাস্থের উপর ই-সিগারেটের প্রভাব নিয়ে বছরে একবার পর্যালোচনা হতে পারে।

. যানবাহন, অফিস এবং জনসমাগমের জায়গাগুলোতে ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

. চিকিৎসার সরঞ্জাম হিসেবে ই-সিগারেটের লাইসেন্স দেয়া যেতে পারে।

. ই-সিগারেটের সরঞ্জাম কতবার রিফিল করা যাবে, তার একটা মেয়াদ থাকতে হবে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

এমপিদের কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামাকের বা সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেট অনেক কম ক্ষতিকর।

ভ্যাপিং কতটা জনপ্রিয়?

ব্রিটেনে এখন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ই-সিগারেট ব্যবহার করছে।

এরমধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ তামাকের সিগারেট বা ধূমপান ছেড়ে দেয়ার জন্য ই-সিগারেট ব্যবহার করছে।

ই-সিগারেট ব্যবহার করে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সফলভাবে ধূমপান ছেড়ে দিচ্ছে।

তবে প্রতিবেদনে এটা বলা হয়েছে, ই-সিগারেট ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটা এখনও জানা নাই।কিন্তু তামাকের সিগারেট থেকে ই-সিগারেট কম ক্ষতিকর। কারণ এতে কার্বন মনোক্সাইড নেই।

এমপিদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির সভাপতি নোরম্যান ল্যাম্ব বলেছেন, তামাকের বা সাধারণ সিগারেটের সাথে ই-সিগারেটকেও একইভাবে ক্ষতিকর হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।এমন প্রচারণা বন্ধ করা উচিত।

তিনি উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসার সরঞ্জাম হিসেবে ই-সিগারেটের লাইসেন্স দেয়া হলে, তখন চিকিৎসকের জন্য ধূমপান বন্ধে আগ্রহীদের পরামর্শ দিতে সুবিধা হবে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ই-সিগারেট নিয়েও বিতর্ক রয়েছে

ই-সিগারেট নিয়ে বিতর্ক

দীর্ঘসময় ধরে বিতর্ক চলছে।

স্কটল্যান্ডে এক জরিপে দেখা গেছে, তরুণদের অনেকে ই-সিগারেট ব্যবহার করে পরে ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েছে।

ওয়েলসে ই-সিগারেট এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব কী পড়তে পারে, সে ব্যাপারে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও এখন উঠছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ই-সিগারেট দীর্ঘ সময় ব্যবহারে স্বাস্থ্যের উপর কী প্রভাব ফেলে, সে ব্যাপারে কোনো গবেষণা নেই।

এমপিদের কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে?

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড ধারণা করছে, সাধারণ সিগারেটে চেয়ে শতকরা ৯৫ ভাগ কম ক্ষতিকর ই-সিগারেট।

এই পাবলিক হেলথ এর প্রধান নির্বাহী ডানক্যান সেলবী বলেছেন, ই-সিগারেটেও কিছু ক্ষতি হতে পারে। তবে ক্ষতিকর তামাকের সিগারেটের চেয়ে এতে ক্ষতির মাত্রা অনেক অনেক কম।

ধূমপান বিরোধী সংস্থাগুলো এই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছে।

তবে আইন পরিবর্তনের প্রশ্নে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তারা মনে করছে, ই-সিগারেট নিয়ে প্রচারণা চালানোর সুযোগ দেয়া হলে, সেই প্রচারণা তামাকের সিগারেটের ব্যাপারেই মানুষকে আগ্রহী করতে পারে।

সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রতিক্রিয়া

বাস-ট্রেনে ব্যবহারের বিরুদ্ধেই বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়া এসেছে।

একজন টুইট করেছেন, যদি কেউ বাসে ই-সিগারেট ব্যবহার করে, তখন তিনি বাসে থেকে নেমে গন্তব্যে হেটে যাবেন।

আরেকজন টুইট করেছেন যে, একটি বাসে শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের অনেক মানুষ থাকে। অনেকে তা পছন্দ করবে।ফলে পরিবহনে এটা করা ঠিক হবে না।