বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর দুর্ঘটনা কি কমেছে না আরও বেড়েছে?

আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা এভাবে সড়কে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করেছে
Image caption আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা এভাবে সড়কে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করেছে

বাংলাদেশের সংবাদপত্রে চলতি বছরের ১৭ই এপ্রিল তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীবের বিচ্ছিন্ন হাতের ছবি দেখে আঁতকে উঠেছিলো সবাই।

ভয়াবহ সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৯শে জুলাই ফুটপাতে বাস চাপায় দুই স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ভয়াবহ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে মানুষ।

সে ঘটনার জের ধরে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে এবং এক পর্যায়ে তারাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে থাকে।

সরকারের দিক থেকেও সড়কের নানা অনিয়ম নৈরাজ্যের বিষয়টি আমলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত নানা পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করা হয়।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করে চালকদের শাস্তির বিধান রেখেই ইতোমধ্যেই সড়ক পরিবহন আইন পাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাস্তায় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযানও চলছে।।

কিন্তু এসব পদক্ষেপ কি সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে পেরেছে?

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের প্রভাষক শাহনেওয়াজ হাসনাত-ই-রাব্বীর মতে, ওই আন্দোলনের পর যত্রতত্র রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা কমেছে তবে সড়কে বড় দুর্ঘটনা মোটেও কমেনি।

"সড়কে বড় দুর্ঘটনা না কমে বরং তুলনামূলক বেড়েছে। চালকদের মনোভাবেও খুব বেশি পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে না। সড়কে গাড়ি চালনার ক্ষেত্রে বেপরোয়া মনোভাবের বহি:প্রকাশ এখনো দেখা যাচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কিন্তু দুর্ঘটনা আরও কমাতে হলে পথচারীদের রাস্তা পার হওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন করে তুলতে হবে।"

আরো পড়তে পারেন:

নিরাপদ সড়ক: কুষ্টিয়ায় শিশুর মৃত্যু কি এড়ানো যেত?

কেন এত আলোড়ন তুলেছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন?

বাংলাদেশে যে ভিডিও নাড়া দিয়েছে সবাইকে

হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সেই রাজীব মারা গেছেন

Image caption রাস্তায় অবস্থান নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়েছিলো শিক্ষার্থীরা

তার সাথে একমত প্রকাশ করেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীও।

তাঁর ভাষায়, "দুর্ঘটনাতো কমেইনি। বরং দুর্ঘটনা, সড়কে নৈরাজ্য ও অনিয়ম আরও বেড়েছে।"

বাংলাদেশের পত্রপত্রিকার হিসেব অনুযায়ী রোববার এক দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৭ জন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও বারবার আলোচনায় এসেছে সড়ক দুর্ঘটনা।

বিশেষ করে চট্টগ্রামে ভাড়া নিয়ে বচসাকে কেন্দ্র করে যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত বাস থেকে ফেলে চাপা দিয়ে খুন কিংবা কুষ্টিয়ায় মায়ের কোল থেকে শিশুর ছিটকে পড়ার ঘটনা নাড়া দিয়েছে কম-বেশি সবাইকে।

আর রবিবার জব্দ করা বাস থানায় আনার সময় সেই বাস চাপাতেই পুলিশ কর্মকর্তা উত্তম কুমার নিহত হবার ঘটনা কিংবা টাঙ্গাইলে বাসে ধর্ষণের ঘটনাকে নৈরাজ্য ও পরিবহন শ্রমিকদের বেপরোয়া মনোভাবে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসেবে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র ঈদের সময়েই ১৬ থেকে ১৮ই অগাস্ট পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৫৯ জন। এর মধ্যে ২৩শে অগাস্ট সর্বনিম্ন নয়জন এবং ২০শে অগাস্ট সর্বোচ্চ ৪৫ জন নিহত হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়।

এছাড়া যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের হিসেবে ২০১৫ থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৮ হাজার দুর্ঘটনা হয়েছে এবং এসব দুর্ঘটনার প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
শাহবাগ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি জিগাতলার দিকে যেতে চেয়েছিল