ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশী শিক্ষার্থী বাড়াতে চায় কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাজ্য ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ব্রিটেন

ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেদেশের সরকারকে আহবান জানিয়েছে যাতে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রিটিশ ভিসার নিয়ম পরিবর্তন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রিটিশ ভিসার নিয়ম পাল্টে এমন ব্যবস্থা করা উচিত যাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শেষ করার পর ব্রিটেনে অবস্থান করে দুই বছর কাজের সুযোগ পায়।

এ ধরণের নিয়ম করতে না পারলে বিদেশী শিক্ষার্থীরা ব্রিটেনের পরিবর্তে বেশিরভাগ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নেবে। বিদেশী শিক্ষার্থীরা ব্রিটেনের অর্থনীতিতে প্রতিবছর ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বিদেশী শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় এখন ব্রিটেনকে টপকে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।

সরকার বলছে ব্রিটেনে বৈধভাবে বিদেশী শিক্ষার্থীদের আসার কোন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি।

ব্রিটেনের অভিবাসন বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি এ মাসের সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

সে প্রতিবেদনে দেশটিতে বিদেশী শিক্ষার্থীদের অবস্থা কেমন সেটি তুলে ধরা হবে। এ কমিটি ব্রিটেনের সরকারকে অভিবাসন বিষয়ক স্বাধীন পরামর্শ দেয়।

২০১২ সালে ব্রিটেনের সরকার অভিবাসন বিষয়ক আইন পরিবর্তনের পর বিদেশী শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা শেষে কাজ করতে পারার বিধান বাতিল হয়ে যায়।

কিন্তু আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে যাওয়া বিদেশী শিক্ষার্থীরা স্নাতক পাশ করার পর কাজ করার সুযোগ পায়।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি কমাচ্ছে ব্রিটেন

লন্ডনে দু'হাজার বিদেশী ছাত্র বহিষ্কারের ঝুঁকিতে

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ব্রিটেন

স্নাতক পাশ করার পর শিক্ষার্থীরা ব্রিটেনে থাকতে পারে। তবে তারা কত উপার্জন করতে পারবে সেটির সীমা নির্ধারণ করা আছে।

তবে এক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করার জন্য বলেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দ্বারা পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে স্নাতক পাশ করার পর বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের সুযোগ তাদের জন্য একটি বড় আকর্ষণের জায়গা।

ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।

ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন 'ইউনিভার্সিটি ইউকে'- এর অধ্যাপক স্যার স্টিভ স্মিথ বলেছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিদেশী শিক্ষার্থীদের যে সংখ্যা বাড়ছে সেখান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ব্রিটেন।

ব্রিটেনে বিদেশী শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ বাতিল করার কারণ যে কারণ ছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল অভিবাসন।

কারণ, অভিযোগ উঠেছিল যে ব্রিটেনে পড়াশোনা করতে এসে বিদেশী শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত বসবাস করছেন।

ছাত্র ভিসার মাধ্যমে অনেকে অভিবাসনের জন্য পেছনের দরজা ব্যবহার করছেন।

কিন্তু স্যার স্টিভ স্মিথ বলছেন, এ ধরনের দাবি সত্য নয়। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে ব্রিটেনে পড়তে আসা বিদেশী শিক্ষার্থীদের ৯৮ শতাংশ ভিসার শর্ত মেনে চলেছে।

তিনি বলেন, বিদেশী শিক্ষার্থী কমে যাবার কারণে শুধু যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে - তা নয়।

এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিটেনের প্রভাব যেমন কমে যাবার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া ব্রিটেনে গবেষণার জন্য জ্ঞানের ঘাটতিও তৈরি হবে।

গত এক দশকে আমেরিকায় বিদেশী শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ৪৫ শতাংশ এবং কানাডায় ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে ব্রিটেনে বেড়েছে মাত্র তিন শতাংশ।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

'উত্তর পাড়ার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই'

জালালুদ্দিন হাক্কানির মৃত্যু: কত বড় এই নেটওয়ার্ক?

বাংলাদেশে চ্যারিটির সংস্কৃতি কতটা গড়ে উঠেছে?

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর