বাংলাদেশে সহজে ক্যান্সার পরীক্ষার পদ্ধতি উদ্ভাবন: কীভাবে কাজ করবে এটি?

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানী ইয়াসমিন হক ও অন্যান্যরা ছবির কপিরাইট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়
Image caption শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানী ইয়াসমিন হক ও অন্যান্যরা

বাংলাদেশে একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে খুব কম সময়ে ও অনেক কম খরচে ক্যান্সার শনাক্ত করার একটি পদ্ধতি তারা উদ্ভাবন করেছেন।

ওই গবেষক দলের প্রধান, পদার্থবিজ্ঞানী ইয়াসমিন হক বিবিসিকে জানিয়েছেন তারা মানবদেহের রক্তের মধ্যে এমন কিছু 'বায়োমার্কার' খুঁজে পেয়েছেন, যা ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে সাড়া দেয়।

অর্থাৎ ক্যান্সারমুক্ত কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে রক্তের ওই বায়োমার্কার যে রকম রিডিং দেবে, তিনি ক্যান্সার আক্রান্ত হলে তাতে পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের রিডিং।

অন্যভাবে বললে, কোনও ব্যক্তির শরীরে ক্যান্সার বাসা বাঁধলে তা রক্তে এক ধরনের 'ছাপ' ফেলে যায় - বা রক্তের ওই বায়োমার্কারে তা ধরা পড়ে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে ঠিক সেটাই ধরা যাবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে বাংলাদেশে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ছবির কপিরাইট Frank Calleja
Image caption কানাডার একটি হাসপাতালে ক্যান্সার পরীক্ষার ক্রামেরা নিয়ে কাজ চলছে (ফাইল চিত্র)

বিবিসি বাংলার পেজে আরও পড়ুন :

বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কি আপনি চিন্তিত? কমানোর ৭টি উপায়

মহাকাশ স্টেশনে রহস্যজনক এই ছিদ্রটি করলো কে?

যে পাঁচজনের লড়াইয়ে ভারতে সমকামিতা বৈধ হল

ড: হক জানিয়েছেন, তারা 'নন-লিনিয়ার অপটিকসে'র পদ্ধতি প্রয়োগ করেই রক্তের মধ্যে ওই ধরনের বায়োমার্কার খুঁজতে শুরু করেছিলেন, যাতে অবশেষে সাফল্য মিলেছে।

"ষাটের দশকের শুরুতে লেসার আবিষ্কৃত হওয়ার সময় থেকেই এই পদ্ধতির প্রয়োগ হচ্ছে, কিন্তু আমাদের আগে কেউ এর মাধ্যমে রক্তের মধ্যে অপটিক্যাল বায়োমার্কার খুঁজেছে বলে আমাদের জানা নেই", বলছিলেন ইয়াসমিন হক।

বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, তাদের গবেষক দলের কেউ কেউ এমনও আশা করছেন যে এভাবে ক্যান্সার পরীক্ষার একটি 'ডিভাইস' বা যন্ত্র আগামী এক বছরের মধ্যেই তৈরি করে ফেলা সম্ভব হবে।

"আমরা প্রথমে ধরেছিলাম বছর পাঁচেক লাগবে, যার মধ্যে আড়াই বছর মতো কেটেছে। এখন দেখা যাক, কত তাড়াতাড়ি ল্যাবরেটরি থেকে এই ধরনের ডিভাইস আমরা মানুষের ব্যবহারের জন্য তৈরি করতে পারি", বলছিলেন তিনি।

এই মুহুর্তে ক্যান্সার শনাক্ত করার যে সব সাধারণ পদ্ধতি চালু আছে, তা যেমন সময়সাপেক্ষ - তেমনি বেশ ব্যয়বহুলও বটে।

ছবির কপিরাইট BSIP
Image caption চিকিৎসাবিজ্ঞানে লেসার প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে বহুদিন ধরেই

ফলে শুধু রক্তের নমুনা পরীক্ষা করেই যদি ক্যান্সার নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়, তা বিশ্বের কোটি কোটি ক্যান্সার রোগীর জন্য বিরাট সুখবর বয়ে আনবে সন্দেহ নেই।

বিজ্ঞানী ইয়াসমিন হক বিবিসিকে আরও জানান, তারা ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতির পেটেন্টের জন্য রীতিমাফিক আবেদন জানিয়েছেন। পেটেন্টের আবেদন যেমন আমেরিকাতে করা হয়েছে, তেমনি করা হয়েছে বাংলাদেশেও।

তবে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস বা মেধাস্বত্ত্ব বিষয়ক আইনজীবীদের পরামর্শে তারা গবেষণার বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনও কোনও বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশ করেননি।

ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কি তাহলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে? - ইয়াসমিন হক জবাবে বলছেন, "দেখুন, আমরা একটা যুগান্তকারী কাজ করেছি কিংবা ক্যান্সার শনাক্তকরণে বিপ্লব এনে দিচ্ছি - এত বড় বড় কথা আমরা বলতে চাই না।"

"কিন্তু আমরা অবশ্যই দারুণ এক্সাইটেড - কারণ আমরা ক্যান্সার রোগীদের রক্তে একটা মারাত্মক পরিবর্তন ধরতে পেরেছি, যেটা নীরোগ মানুষদের তুলনায় ভীষণ, ভীষণ আলাদা!"