রোহিঙ্গা চলচ্চিত্র: থাইল্যান্ডের জেলের সম্পদ এবং স্ত্রী দখল নেয় এক রোহিঙ্গা

ছবির কপিরাইট LA BIENNALE DI VENEZIA
Image caption রোহিঙ্গা সংকট থ্যাইল্যান্ডে কী প্রভাব ফেলছে সেটির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এ চলচ্চিত্র।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র 'ম্যানতা রে' ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরষ্কার পেয়েছে।

থাইল্যান্ডের নির্মাতা ফুট্টিফং আরোনপেং এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে থাইল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

থাইল্যান্ডের এক জেলে এবং থাই উপকূলের গ্রামে ভেসে আসা এক রহস্যময় ব্যক্তির মধ্যে বন্ধুত্ব এবং সম্পর্ক নিয়ে এ চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে।

উপকূলে ভেসে আসা রহস্যময় সে ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে জায়গা দিয়েছিলেন থাইল্যান্ডের সে জেলে।

কিন্তু সে জেলে যখন আবার মাছ ধরতে গিয়ে সমুদ্রে হারিয়ে যায়, তখন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিটি জেলের বাড়ি, পেশা এবং তাঁর স্ত্রীকে নিজের করে নেয়।

চলচ্চিত্রকার মি: ফুট্টিফং শিল্পাকর্ণ ইউনিভার্সিটিতে চারুকলায় পড়াশুনা করেছেন এবং এর আগে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সুনাম কুড়িয়েছেন।

তাঁর একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'ফেরিস হুইল' ২০১৫ সালে পুরষ্কার জিতেছিল। এ মূল কাহিনী ছিল মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ডে পালিয়ে এসে বসবাসরত এক মা এবং তার মেয়ের গল্প।

ছবির কপিরাইট Phuttiphong Aroonpheng
Image caption চলচ্চিত্রকার ফুট্টিফং আরোনপেং।

চলচ্চিত্রকার বলেন, 'ম্যানতা রে' চলচ্চিত্রে থাইল্যান্ডে রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংগঠিত দুটো ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি ঘটেছে ২০০৯ সালে, যখন থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী দেশটির উপকূল থেকে আশ্রয় প্রত্যাশী রোহিঙ্গা বোঝাই দুটো নৌকা ফিরিয়ে দিয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন

বাংলাদেশেই সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে 'অতি ধনীর' সংখ্যা

রাশিয়ার সামরিক মহড়ায় চীন কেন যোগ দিল?

জামাতকে 'নেয়া যাবে না' বিরোধীদলের যুক্তফ্রন্টে

সেসব নৌকায় থাইল্যান্ডের উপকূলের ভিড়তে না দেয়ায় অনেক অনেক রোহিঙ্গা সাগরে আটকা পড়ে।

এদের মধ্যে পাঁচজন মারা যায় এবং কয়েকশ শরণার্থী নিখোঁজ হয়ে যাবার খবর পাওয়া যায়।

আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল ২০১৫ সালে। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী একটি গণকবর খুঁজে পায়। সে গণকবরে বেশ কিছু রোহিঙ্গার মরদেহ ছিল বলে ধারণা করা হয়।

পরবর্তীতে প্রমাণ মেলে যে সে জায়গাটি একটি নির্যাতন কেন্দ্র ছিল যেখানে মানব পাচারকারীরা মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে মানুষজনকে রাখা হতো।

চলচ্চিত্রটির নির্মাতা বলেন, " সে আগন্তুকের প্রতি জেলের যে ক্ষোভ ছিল সেটা আমি বুঝতে পারি। আবার একই সাথে আমি এটাও বুঝি যে আগন্তুক সে ব্যক্তি তার বন্ধুর জীবন এবং সম্পদ দখল করতে চায় নি। কিন্তু এ বিষয়টি কিভাবে ঘটেছে সেটি আমি বুঝতে পারিনা।"

চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেন, কোন ব্যক্তিকে নিন্দা করা কিংবা তার বিচার করা এ চলচ্চিত্রে উদ্দেশ্য নয়।

তিনি এর মাধ্যমে শুধু মানুষের জীবনের ভঙ্গুরতা এবং অসঙ্গতি তুলে ধরতে চেয়েছেন।

ছবির কপিরাইট ANDREAS RENTZ/GETTY IMAGES
Image caption চলচ্চিত্রের অভিনয় শিল্পীদের সাথে পরিচালক (বা থেকে দ্বিতীয়)

২০১৫ সালে গণকবর আবিষ্কৃত হাবার পর থাইল্যান্ডের একটি আদালত মানব পাচারের সে ঘটনায় বিচারের রায় প্রদান করে।

এ মামলায় অভিযুক্তদের কাছে রায় পড়ে শোনানোর জন্য আদালতের ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছিল।

আদালতের রায়ে থাইল্যান্ড সেনাবাহিনীর সাবেক এক ল্যাফটেন্যান্ট জেনারেলকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

গত এক বছরে অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে গেছে।

গতমাসে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে সে ঘটনার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তাকে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের সে তদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছে।

মিয়ানমারের তরফ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে যে রাখাইন অঞ্চলে জঙ্গি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে।