যুক্তফ্রন্টের দাবি: আগামী নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকার ও নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে

বাংলাদেশ রাজনীতি ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption বি চৌধুরী, ড কামাল হোসেন, আর আসম আবদুর রবের মত নেতারা আছেন যুক্তফ্রন্টে

বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বি. চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃ্ত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট আজ ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ৫টি দাবি তুলে ধরেছে।

এ দাবিগুলোতে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়াও নির্বাচনের সময় ৪০ দিনের জন্য ম্যাজিস্টেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনেরও দাবি জানানো হয়।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দল মিলে এই যুক্তফ্রন্ট নামে জোট তৈরি করেছে।

এতে আছে ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারা, ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, এবং আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। এ জোটের নেতারা বলছেন, জামায়াতে ইসলামী ছাড়া যে কোন দল তাদের এ দাবির সাথে একমত হলে এই ঐক্য প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারেন।

বিবিসি বাংলায় এ নিয়ে আরও পড়ুন:

'উত্তর পাড়ার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই'

জামায়াতকে 'নেয়া যাবে না' বিরোধীদলের যুক্তফ্রন্টে

'কিছু হলে সব উত্তর পাড়ার দিকে তাকিয়ে বসে থাকে'

সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শোনানো দাবিগুলো হচ্ছে:

১. আসন্ন ১১শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা এবং লেভেলে প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বেই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

২. অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভাসমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

৩. কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রীসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলাসমূহ প্রত্যাহার করতে হবে, এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা যাবে না।

৪. নির্বাচনের এক মাস পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন করতে হবে। এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত করতে হবে।

৫. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর