এশিয়া কাপ: তামিমের আবার ব্যাটিংয়ে নামা কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল?

ক্রিকেট, বাংলাদেশ, এশিয়া কাপ ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে আর খেলবেন না তামিম ইকবাল

'যে কোনো খেলোয়াড় বা ম্যানেজমেন্টকে ইনজুরির মাত্রা বোঝাটা জরুরি। মাথা বা লিগামেন্ট ইনজুরির রোগীকে আমরা মোটেও মাঠে নামার অনুমতি দেয়া হয় না,' এমনটা বলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী।

ইনডেক্স ফিঙ্গারের যেখানে আঘাত পেয়েছে তামিম সেটা চিকিৎসকের দৃষ্টিতে তেমন জটিল না। এটা যদি জয়েন্টে হতো সেক্ষেত্রে ব্যাটিংয়ে নামাটা সম্ভব হতো না।

মি. চৌধুরী বলেন, যদি আবারও বল লাগতো সেখানে তাহলেও খুব সমস্যা হতো না কারণ সেখানে ইতোমধ্যে একটা ভাঙ্গণ আছে।

ঝুঁকির যে ক্ষেত্র ছিলো সেটা এভাবে ব্যাখ্যা করেন দেবাশীষ চৌধুরী, "সমস্যা যেখানে ছিল সেটা হলো রিফ্লেক্স কাজ না করা। কারণ যে গতির বল আসে সেক্ষেত্রে অন্য কোথাও বল লেগে আঘাত পাওয়ার সুযোগ থাকে।"

কেউ যদি একটা ইনজুরি না সেড়ে খেলতে নামে সেক্ষেত্রে ওই ইনজুরিটা অন্য ইনজুরি নিয়ে আসার একটা সম্ভাবনা থেকে যায়।

পরবর্তীতে তামিম ইকবালকে অনুসরণ করে অনেক ক্রিকেটার যদি নামতে চান সেক্ষেত্রে ক্রিকেটারের আঘাতের মাত্রা বোঝা গুরুত্ত্বপূর্ণ বলে মনে করেন চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী।

ছবির কপিরাইট ISHARA S. KODIKARA
Image caption পাজঁরের নবম হাড়ে চিড় নিয়ে ১৪৪ রান করেন মুশফিকুর রহিম

আরও পড়তে পারেন:

এই মুহূর্তে ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যান কে?

এ সপ্তাহের যে ৪টি তথ্য আপনার জানা প্রয়োজন

শহিদুল আলমের ডিভিশনের আদেশ বহাল

তার মতে, "যে কোনো খেলোয়াড় বা ম্যানেজমেন্টকে ইনজুরির মাত্রা বোঝাটা জরুরি। মাথা বা লিগামেন্ট ইনজুরির রোগীকে আমরা মোটেও মাঠে নামার অনুমতি দেয়া হয় না।"

তিনি যোগ করেন, "তবে ছোটখাটো ইনজুরি থাকলে অনেকেই খেলে থাকে। হ্যা, পুরোদিন হয়তো পারবে না কিন্তু অল্প ইনজুরি হলে কিছু সময়ের জন্য নামা যায়।"

"আর ইনজুরির ব্যাপারগুলো মোটেও কারও এক হয় না, প্রতিটি কেস আলাদা। তাই সবাইকে বলবো না ফ্র্যাকচার নিয়ে খেলতে। কিন্তু তামিমের ব্যাপারটা আলাদা।"

ক্রিকেট বিষয়ক একটি সংবাদ মাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকিনফোকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, "তামিমকে হাসপাতালে নেয়া হয় কারণ আঘাতটা গুরুতর ছিল। এটা কোনো সাধারণ আঘাত না। তার ব্যথা ছিল যা তাকে শুরুতে ব্যাট করতে দেয়নি।"

তামিম ইকবাল ইএসপিএনক্রিকিনফোকে বলেন, "শুরুতে যখন মাশরাফি ভাই বলেন আমি ব্যাট করবো তখন ভেবেছি তিনি মনে হয় মজা করছেন। তবে শুরুতে সিদ্ধান্ত ছিল আমি শেষ ওভার ব্যাট করবো যদি আমি নন স্ট্রাইকে থাকি, কারণ আমাকে শুধুই দাঁড়িয়ে থাকতে হতো।"

ছবির কপিরাইট ISHARA S. KODIKARA
Image caption তামিম ইকবাল সুরঙ্গ লাকমলের বলে আঘাত পাওয়ার পর

তামিম ইকবালের পুনরায় মাঠে নামার ব্যাপারটা দেশের ক্রিকেটের প্রতি দায়বদ্ধতা বলে মনে করেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের বর্তমান ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম।

তিনি বলেন, "ঝুঁকি অবশ্যই থাকে, শতভাগ ফিট হয়ে খেলাটা খুব কম সময়ই হয়ে থাকে। কখনো হালকা পেশীর টান বা হালকা চোট নিয়ে অনেকেই খেলেন। যেকোনো ধরণের ইনজুরি সূক্ষ্ম হলে সেটা নিয়ে খেললে ভবিষ্যতে সেটার প্রভাব পড়ে। তবে তামিম ভাই যেটা করেছেন সেটা দলের জন্য প্রয়োজন ছিল এবং এটা কাজে দিয়েছে।"

সম্পর্কিত বিষয়