ভারতে মক্কা মসজিদ বোমা হামলায় অভিযুক্ত হিন্দুদের মুক্তি দেয়া বিচারক যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে

বোমা হামলার পর হায়দ্রাবাদ শহরের দৃশ্য। ছবির কপিরাইট NOAH SEELAM/AFP/GETTY IMAGES
Image caption বোমা হামলার পর হায়দ্রাবাদ শহরের দৃশ্য।

ভারতের হায়দ্রাবাদের ঐতিহাসিক মক্কা মসজিদ বোমা বিস্ফোরণ মামলায় 'হিন্দু' অভিযুক্তদের মুক্তি দেয়ার পাঁচ মাস পর বিশেষ আদালতের বিচারক রবীন্দ্র রেড্ডি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিতে চলেছেন।

ঐ বিচারক অবশ্য ইতোমধ্যেই স্বেচ্ছা অবসর নিয়েছেন।

বিজেপি-র দপ্তরে গিয়ে সিনিয়র নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বন্ডারু দত্তাত্রেয়র সঙ্গে তিনি দেখাও করেছেন।

এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরে হায়দ্রাবাদের রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিজেপির দলীয় সূত্রগুলি জানাচ্ছে, প্রাক্তন বিচারক রবীন্দ্র রেড্ডি আনুষ্ঠানিকভাবেই বিজেপিতে যোগ দিতে পার্টি দপ্তরে গিয়েছিলেন।

কিন্তু দলের নেতারা তাঁকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

রবীন্দ্র রেড্ডি হায়দ্রাবাদ শহরে সন্ত্রাস-তদন্তের জন্য তৈরি জাতীয় তদন্তকারী এজেন্সি ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র বিশেষ আদালতের বিচারক ছিলেন।

ছবির কপিরাইট ECOURTS.GOV.IN
Image caption রবীন্দ্র রেড্ডি, এসআইএ-র বিশেষ আদালতের সাবেক বিচারক।

আরও পড়তে পারেন:

ড. কামালের রাজনৈতিক ঐক্য প্রক্রিয়া: বিএনপির কী লাভ?

ইরানের সামরিক কুচকাওয়াজে যেভাবে হামলা হলো

গণতন্ত্রের জন্যে কেমন ছিল প্রথম ভারতীয় পত্রিকার লড়াই

এ বছরের ১৯শে এপ্রিল মক্কা মসজিদ বোমা মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে তিনি বেকসুর খালাস দেয়ার আদেশ দেন।

ঐ পাঁচ জনই কোনও না কোনও ভাবে বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত।

দু'হাজার সাত সালের ১৮ই মে, জুম্মার নামাজ চলার সময় ৪০০ বছরের পুরনো মক্কা মসজিদে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

ঐ হামলায় নয় জন মারা যান। আহত হন ৫৮ জন।

ঘটনার তদন্তভার নিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো বা সিবিআই। লোকেশ শর্মা আর দেবেন্দ্র গুপ্তাসহ আরএসএস এবং কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মি. রেড্ডি এদের সকলকেই নিরপরাধ বলে খালাস করে দিয়েছিলেন।

আর রায় ঘোষণার ঠিক পরেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।

হায়দ্রাবাদ হাইকোর্ট অবশ্য তাঁর পদত্যাগ পত্র খারিজ করে দেয়।

তারপরে তিনি ফের কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি স্বেচ্ছা অবসর নেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বোমা হামলার পর তদন্ত (ফাইল ফটো)

তখন থেকেই এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল যে মক্কা মসজিদ বোমা মামলার রায় নিরপেক্ষ হয়েছিল কী না।

একদিকে মুসলিম সংগঠনগুলি যেমন কড়া সমালোচনা করেছিল ঐ রায়ের, তেমনই বোমা হামলায় নিহতদের পরিবার পরিজনও বলেছিল যে তারা ন্যায় বিচার পায় নি।

বিজেপি অবশ্য ঐ রায়ের স্বপক্ষে দাঁড়িয়ে বলেছিল যে হিন্দু সংগঠনগুলির কয়েকজন সদস্যকে ফাঁসানো হয়েছিল।

এখন ঐ অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রবীন্দ্র রেড্ডি অবশ্য বলছেন যে তার বিজেপিতে যোগ দেওয়া আর মক্কা মসজিদ মামলায় দেওয়া রায়, এই দুটোর মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই।

"আদালতে বসে যা রায় দিয়েছি, তার সঙ্গে আমার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। আমি যখন বিচারক ছিলাম, তখন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবেই কাজ করেছি। আর এখন দেশের জন্য কাজ করতে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছি," বলছিলেন মি. রেড্ডি।

তিনি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে নিজের জেলা করিমনগর থেকে লড়তে চান।

মি. রেড্ডি জানিয়েছেন, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গে তিনি হায়দ্রাবাদে দেখা করেছেন। আগে থেকেই বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বন্ডারু দত্তাত্রেয়র সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।

মি. রেড্ডির বিজেপি-তে যোগ দেয়ার খবর জানাজানি হওয়ার পরে মক্কা মসজিদ মামলার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলছে নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো।

সিভিল লিবার্টিজ মনিটরিং কমিটি দাবী করেছে যে রবীন্দ্র রেড্ডির দেয়া মক্কা মসজিদ মামলার পুনরায় শুনানি করা হোক।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর